eibbuy.com
এলসি কি? কিভাবে এলসি করবেন?

আমদানি রপ্তানি ব্যবসার ক্ষেত্রে আলোচিত একটি শব্দ হল এলসি (LC) । কোনো পন্য আমদানি করতে গেলে এলসি করতে হয়। আজকের আলোচনায় থাকবে এলসি কি? কেন এলসি করবেন? কিভাবে এলসি করবেন? কত টাকা লাগবে এলসি করতে?

এলসি কি?

এলসি (LC) হচ্ছে লেটার অব ক্রেডিট। লেটার অব ক্রেডিটকে সংক্ষিপ্তে এলসি (LC) বলে। বাংলায় একে প্রত্যয়নপত্র বলে। একটু বুঝিয়ে বলি…

ধরুন আপনি চায়নাতে কিছু পন্য রপ্তানি করবেন। কাস্টমারের সাথে কথা বলে আপনি পন্য পাঠালেন। আপনাদের মধ্যে চুক্তি ছিল সে পন্য পেয়ে টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু পন্য নেওয়ার পর সে আর যোগাযোগ করছেনা। আবার এমনও হতে পারে যে, সে আগে টাকা পাঠিয়ে দিল, আপনি টাকা পেয়ে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। আরেকটি উদাহরন দেই, ধরুন আপনি ইন্ডিয়া থেকে কিছু গার্মেন্টস আইটেমের অর্ডার পেয়েছেন। অর্ডার অনুযায়ী পন্য তৈরি করলেন। তারপর ডেলিভারির আগ মুহুর্তে অর্ডার বাতিল করে দেয়। এতে কিন্তু আপনার অনেক লোকসান হবে।

এই সমস্যার সমাধান হল এলসি। সেলার এবং কাস্টমারের মাঝে থাকবে কোনো ব্যাংক। তারা উভয়পক্ষকে নিশ্চয়তা দিবে। আমদানিকারক যদি পন্য না পায় তাহলে রপ্তানিকারক টাকা পাবেনা। এবার প্রশ্ন হল এলসি করা কার কাজ? আমদানিকারক নাকি রপ্তানিকারক এলসি করবে? উত্তর হল আমদানিকারক। আমদানি কারক প্রথমে ব্যাংকে এলসির জন্য আবেদন করবে। তারপর আমদানিকারকের পক্ষে ব্যাংক এলসি ইস্যু করবে। এলসি ইস্যু করার সময় ইস্যুকারি ব্যাংক আমদানিকারক থেকে পন্যের মুল্য বা মুল্যের একটি অংশ রেখে দিবে। বাকি অংশ পন্য খালাসের সময় আমদানিকারক পরিশোধ করবে।

পন্য ঠিকমত আসলে তারপর রপ্তানিকারক তার পন্যের পুরো মূল্য পাবে।

 

এবার আসি এলসি কিভাবে করবেন?

প্রথমে জানতে হবে এলসি করতে কি কি লাগে?

১. ট্রেড লাইসেন্স

২. আই আর সি (IRC= Import Registration Certificate)। আই আর সি কিভাবে করবেন সেটা সম্পর্কে আমাদের এই ওয়েবসাইটে বিস্তারিত আলোচনা  আছে। পড়ে আসতে পারেন।

৩. অডিট রিপোর্ট

৪. পি আই বা প্রোফর্মা ইনভয়েস

৫. ভ্যাট সার্টিফিকেট

৬. টিন সার্টিফিকেট (TIN)

৭. এনআইডি

৮. ইন্সুরেন্স কাভার নোট ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম পরিশোধের কাগজপত্র

৯. স্থানীয় বানিজ্য চেম্বার বা সংশ্লিষ্ট কোনো অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদের প্রমানপত্র। চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশন অবশ্যই স্বীকৃত হতে হবে।

 

আপনি যে ব্যাংকে এলসি করবেন সেখানে এইসব কাগজপত্র দেখাবেন। সেখানে আরও কিছু কাগজপত্র সংগ্রহ করা লাগতে পারে। আর যে ব্যাংকে এলসি করবেন সেখানে আপনার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা লাগবে। সকল কাগজ পত্র জমা দেওয়ার পর ব্যাংক এগুলো যাচাই করবে। এর জন্য কিছু দিন সময় লাগবে। তারপর এলসি ইস্যু করা হয়ে গেলে এলসির মূল কপি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রপ্তানিকারককে পাঠিয়ে দিবে। আপনাকে একটি কপি দিবে।

আপনি যদি পন্য আমদানি করেন তাহলে কি এলসি করার সময় পন্যের পুরো মূল্য পরিশোধ করতে হবে?

বেশিরভাগ সময়ই এলসি করার সময় পন্যের পুরো মুল্য পরিশোধ করতে হয়। তবে ব্যবসা করতে করতে যখন ব্যাংকের সাথে ভাল সম্পর্ক হবে তখন আপনি পন্যের মূল্যের ২০% বা ৩০% টাকা দিয়েও এলসি করতে পারবেন। বাকিটা পন্য খালাসের সময় পরিশোধ করবেন।

এলসির বিভিন্ন প্রকারভেদ…

১. Revocable LC

এই ধইরনের এলসিতে উল্লেখ্য শর্তাবলি পরিবর্তন করা যায়। তবে এটার প্রচলন খুব কম।

২. Irrevocable LC

এই ধরনের এলসিতে উল্লেখ্য শর্তাবলি পরিবর্তন করা যায় না।
৩. Confirmed LC

এই ধরনের এলসিতে কয়েকটি ব্যাংকের অনুমোদন থাকে।
৪. Unconfirmed LC

এই ধরনের এলসিতে একটিমাত্র ব্যাংকের অনুমোদন থাকে।
৫. Transferrable LC

এই ধরনের এলসি হস্তান্তরযগ্য।

৬. Non-transferrable LC

এটা হস্তান্তরযোগ্য নয়।
৭. At Sight LC                                   

৮. Deferred LC

৯. Back to Back LC                                        

১০. Red Clause LC                                                                                  

১১. Green Clause LC

এগুলো এলসির বিভিন্ন ধরন। আমদানি রপ্তানি ব্যবসা করতে এসকল ধরনের এলসি সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকা লাগবে।

আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

ধন্যবাদ।

 

বিস্তারিত
গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসা হল গরুর খামারের ব্যবসা। সাধারনত ভৌগলিক অবস্থান, আবহাওয়া, এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের উপর নির্ভর করে বিভিন্নভাবে পশুপালন করা যায়। আমদের দেশ পশুপালনে অনেকটা পিছিয়ে আছে। এর মূল কারন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পুঁজির অভাব। বর্তমানে আমাদের দেশে যে পরিমান গরুর চাহিদা তার বেশিরভাগই গ্রামে কৃষকদের পালন করা গরু দিয়েই পূরন করা হয়। দুধ এবং মাংসের চাহিদা পুরনের জন্য গরুর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত যোগান নেই। এরজন্য আমাদেরকে আমদানি নির্ভর হতে হয়। কিন্তু যে হারে দেশে গরুর খামারের সংখ্যা বেড়ে চলছে তা চোখে পড়ার মত। বিশেষ করে তরুন উদ্যোক্তাগন গরুর খামারের দিকে বেশি ঝুঁকছে। একটা পরিসংখান অনুযায়ী দেশে যেসব গরুর খামার গড়ে উঠছে তার উদ্যোক্তাগনের মধ্যে ৭০% তরুন উদ্যোক্তা।

আজ আমরা গরুর খামার কিভাবে দিবেন, কি ধরনের গরুর খামার দিবেন, গরুর কয়েকটি জাত এবং এদের বৈশিষ্ট, কত টাকা পুজি লাগবে, গরুর খামারের গরু দিয়ে আর কি কি ব্যবসা করা যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আপনার যদি গরুর খামারের ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকে পুরো আর্টিকেল টি মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল।

 

কেন গরুর খামার দিবেন?

গরুর খামার দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারন হল এটি একটি লাভজনক ব্যবসা তবে যদি আপনি ঠিকমত করতে পারেন। গরুর খামার দিয়ে দুধ, মাংস, বায়োগ্যাস, গোবর, এবং গরু নিয়ে ব্যবসা করা যায়। অর্থাৎ গরুর খামার নিয়ে নানা রকম ব্যবসা করা যায়। যদি আপনি একমাত্র ব্যবসা বা পেশা হিসেবে গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করেন তবে সেটা অনেক বেশি ঝুঁকিপুর্ন হবে। গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করে লোকসান করে রাস্তায় বসেছেন এমন ব্যবসায়ীদের সংখাও কম না। তাই গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করবেন, ভেবে চিন্তে করবেন। তবে কিভাবে লোকসান হয়, লোকসান এড়ানো যায় কিভাবে সেটাও আমরা আলোচনা করব।

 

কিভাবে গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করবেন?

গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করার আগে পরিকল্পনা সাজিয়ে নিবেন। তবে এই পরিকল্পনা সাজানোর জন্য আপনাকে বেশ কয়েকটি খামার পরিদর্শন করতে হবে। ছোট খামার বড় খামার পরিদর্শন করবেন। খামারিদের সাথে কথা বলবেন। তাদের অভিজ্ঞতা জেনে নিবেন। একজন দুজন নয় ন্যুনতম ১০জন খামারির সাথে কথা বলে ধারনা নিবেন। তবে যে যাই পরামর্শ দেয় না কেনো, প্রথমে বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে যাবেন না।

পরিকল্পনার শুরুতে ঠিক করে নিবেন কি ধরনের গরু দিয়ে খামার শুরু করবেন? দুধ উৎপাদনের গরু নাকি মাংস উৎপাদনের গরু দিয়ে। কিছু জাতের গরু আছে যেগুলো খুব দ্রুত বাড়ে কিন্তু বেশি পরিমান দুধ দেয়না। আপনি যদি দুধ উৎপাদনের গরু দিয়ে অর্থাৎ ডেইরি ফার্ম দিতে চান তাহলে যেসব গরু দিয়ে খামার শুরু করতে পারেন সেগুলো হল…

·        হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান। এজাতের গাভী প্রতিদিন ৩০ লিটারের উপরে দুধ দিতে পারে। গায়ের রঙ সাদা কালো মিশানো। লেজের গোড়ার চুল সাদা রঙের হয়। এসব গাভীর ওজন ৪০০-৬০০ কেজি হয়ে থাকে। আর বাছুর জন্মের সময় ৩০ থেকে ৪৫ কেজি ওজন নিয়ে জন্মায়। ৩০ লিটার দুধ পেতে দিনে ৩ বার দুধ দোয়াতে হয়।

·        ব্রাউন সুইচ। এ জাতের গাভী দৈনিক প্রায় ২৫ লিটার দুধ দেয়। এদের গায়ের রঙ সাধারনত কালো হয়। কালো ছাড়াও কিছু গরু লালচে কালো রঙের হয়। এই জাতের গাভীর ওজন ৬০০ কেজি থেকে ৭০০ কেজি হয়ে থাকে। আর ষাঁড়ের ওজন ৬০০ কেজি থেকে ১০৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

·        জার্সি। এ জাতের গাভী দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। এর জন্য দিনে তিনবার দুধ দোয়াতে হয়। এ জাতের গাভীর ওজন ৪০০ কেজি থেকে ৫০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৮০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

·        লাল সিন্ধি। দুধ উৎপাদনের জন্য এই জাতের গরুর কদর অনেক বেশি। এ জাতের গরুর উৎপত্তিস্থল পাকিস্থানের সিন্ধুদের পশ্চিম পাড়ে। গায়ের রঙ লাল এবং উৎপত্তিস্থল থেকেই এই গরুর নামকরন করা হয়েছে লাল সিন্ধি। এ জাতের গরু দিনে গড়ে ১০ লিটার দুধ দেয়। আর আরও বড় বৈশিষ্ট হল এরা বছরে ৩৫০ দিন পর্যন্ত দুধ দিতে পারে।

·        আয়ারশায়ার। এ জাতের গরু দিনে ১৬ থেকে ১৭ লিটার দুধ দেয়। এ জাতের গরুর রঙ সাধারনত লালের উপর সাদা ছোপ ও সাদার উপর লালের ছোপ। গাভীর ওজন ৪৫০ কেজি থেকে ৬০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৬৫০ কেজি থেকে ১০০০ কেজি হয়ে থাকে।

·        শাহলিওয়াল। এ জাতের গরু দিনে গড়ে ১৫ লিটার দুধ দেয়। এ জাতের গাভির ওজন ৩৫০ কেজি থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত হয় এবং ষাঁড়ের ওজন ৮০০ কেজি থেকে ৯০০ কেজি হয়ে থাকে। এ গরুর রঙ লাল রঙের হয়।

উপরে উল্লেখিত জাতের গরুগুলো সাধারনত দুধ উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। শুধু দুধ উৎপাদনের জন্যই নয় মাংস উৎপাদনের জন্যও এসব গরু পালন করা হয়। খামারে উৎপাদিত দুধ বিক্রির কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে। সরাসরি গ্রাহকের বাসায় গিয়ে দুধ দিয়ে আসা যায়। দোকানে বিক্রি করা যায়। আবার বাসায় বাসায় গিয়ে দুধ দিয়ে আসে এমন অনেক ব্যবসায়ী আছে তাদের কাছেও দুধ বিক্রি করতে পারবেন। আবার কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে দুধ সাপ্লাই দিতে পারেন। আবার এসব দুধ নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে প্যাকেটিং করে বিক্রি করতে পারবেন। দুধ থেকে ঘি, মাখন, পনির উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেন।

এবার মাংস উৎপাদনের জন্য কয়েকটি গরুর তালিকা তুলে ধরছি…

·        অ্যাঙ্গাস। এ জাতের গরুর উৎপত্তিস্থল স্কটল্যান্ড, অ্যাবারডিন, কিংকারডিন এর উত্তর-পুর্বাঞ্চলে। এই জাতের ষাড়ের ওজন ৭০০ কেজি থেকে ৮৫০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর গাভীর ওজন ৪৫০ কেজি থেকে ৫৫০ কেজি হয়ে থাকে।

·        আয়ারশায়ার। এই গরুর সংক্ষিপ্ত বর্ননা আগেই আলোচনা করা হয়েছে।

·        ব্রাউন সুইচ। এই জাতের গরুর সম্পর্কেও উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

·        লাল সিন্ধি। এর সম্পর্কেও আগে আলোচনা করা হয়েছে।

·        শাহিওয়াল। এর সম্পর্কেও আগে আলোচনা করা হয়েছে। মাংস উৎপাদনের জন্য শাহিওয়াল জাতের গরু বাংলাদেশের খামার ব্যবসায়ীদের কাছে অধিক পছন্দনীয়। মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে গরু পালন করলে আমরা এই শাহিওয়াল গরু পালন করার পরামর্শ দিব।

·        হরিয়ানা। এ জাতের গরুর উৎপত্তিস্থল ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোটাস, কার্নাল হিসার এবং গুরুগাঁও জিলা। এই জাতের গরু শারিরিক ভাবে অনেক শক্তিশালী, আকারে লম্বা এবং উচু। এদের গায়ের রঙ সাদা বা হালকা ধুসর বর্নের। এ জাতের একটি ষাড়ের ওজন ৫০০ কেজি থেকে ৭০০ কেজি হয়ে থাকে। এবং গাভীর ওজন ৪০০ কেজি থেকে ৫৫০ কেজি হয়ে থাকে। এরা দিনে ৫ লিটার দুধ দেয়।

উপরে উল্লেখিত গরুগুলো সাধারনত মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়ে থাকে। এসব গরু নিয়ে পড়াশুনা করে নিবেন। কোন গরু নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন এবং সে গরু কিভাবে পালন করবেন তা ভালো করে জেনে নিবেন। আপনার পুঁজি দিয়ে সে গরু কিনে ভরনপোষন করতে পারবেন কিনা তা আগেই দেখে নিবেন। আমাদের পরামর্শ থাকবে প্রথমে দুধের গরু দিয়ে ব্যবসা শুরু করা উচিত। কারন মাংস উৎপাদনের গরু দিয়ে আপনার ব্যবসা শুরু করলে লাভের মুখ দেখতে অনেক দিন পর্যন্ত সময় লাগবে। আর এর জন্য আপনাকে অনেক বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তাই আপনাকে প্রথমে গরুর দুধের ব্যবসা করতে হবে। এসব গাভী থেকে বাছুর জন্ম নিবে। সেগুলো কিছু থাকবে ষাড়। এগুলোই আপনি বড় করে বিক্রি করতে পারবেন। নতুন করে আপনাকে ষাড় কিনতে হবেনা।

এভাবে পরিকল্পনা ঠিক করার পর স্থান নির্বাচন করবেন। এমন স্থান নির্বাচন করবেন যেটা শহর থেকে বেশি দূরে নয় এবং কম ব্যায়বহুল। একটা প্লেস নির্বাচন করে সেটা প্রথমে তিন বছরের জন্য লিজ নিয়ে নিবেন। তিন বছরের জন্য লিজ নেওয়া স্থানে অস্থায়ীভাবে গরুর জন্য ঘর বানাবেন। গরু দেখাশোনা করার জন্য লোক ঠিক করে তারপর গরু কিনবেন। গরু কিনলে কোনো খামার থেকে গরু কিনার চেষ্টা করবেন। বাজার থেকে গরু কিনার চেয়ে খামার থেকে গরু কিনাই ভালো হবে। আর খামার থেকে গরু কিনলে ঐ গরুর দিকে কয়েকদিন নজর রাখবেন। তারপর অভিজ্ঞ কারও মাধ্যমে গরু কিনবেন।

এভাবে আপনি গরুর ব্যবসা শুরু করবেন।

 

গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা পুঁজি লাগবে?

গরুর খামারের ব্যবসা শুরু করতে ঠিক কত টাকা পুঁজি লাগবে তা নির্ভর করবে আপনি কি পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চান তার উপর। একটি মোটামুটি মানের শাহিওয়াল জাতের ষাড় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আবার একটি ভালো মানের হলস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর দাম আড়াই লাখ টাকা থেকে ৬ লাখ টাকা হয়ে থাকে। গরুর দাম এবং অন্যান্য খরচ সব মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে আপনি এই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

তবে আপনি চাইলে আরও কম টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। আগেই বলেছি পুঁজির বিষয়টা আপনার পরিকল্পনার উপর নির্ভর করবে।


গরুর খামারের গরু দিয়ে আর কি কি ব্যবসা করা যায়?

আপনি চাইলে গরুর খামারের গরু এবং দুধ ছাড়াও আরও ব্যবসা করতে পারবেন। এই যেমন ধরুন ঘি, মাখন, পনির এগুলো তৈরি করে বিক্রি করতে পারবেন। এইসব পন্যের কাস্টমার প্রথমে আপনি পাবেন না। ধীরে ধীরে কাস্টমার পাবেন। এগুলো ছাড়াও গরুর গোবর বিক্রি করতে পারবেন। অনেকে গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করে বিক্রি করে। আপনিও এগুলো বিক্রি করতে পারেন। গরু থেকে যে বাছুর জন্ম হবে সেগুলোও বিক্রি করে দিতে পারেন। তবে পরামর্শ থাকবে বাছুর বিক্রি না করে সেগুলো বড় করে বিক্রি করবেন। এতে দাম বেশি পাবেন।

গরু বিক্রি করবেন কিভাবে?

বাংলাদেশের জন্য গরু বিক্রির সবচেয়ে ভাল সময় হল কুরবানির ঈদ। এ ঈদকে কেন্দ্র করে যে হাট বসে সেখানে আপনি গরু সাপ্লাই দিতে পারেন। সেখানে ভালো বেচাকিনি হয়। আর আরও ভালো উপায় হল সরাসরি খামার থেকে গরু বিক্রি করা। এখন অনেকেই গরুর হাট থেকে গরু না কিনে সরাসরি খামার থেকে গরু কিনে। তবে সরাসরি খামারে কাস্টমার পেতে ভালো ভাবে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে। আপনার এলাকায় বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে আপনার খামারের বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে আপনার এলাকার আশেপাশের অঞ্চলের জন্য পোস্ট বুস্ট করবেন। ইউটিউবেও গরু নিয়ে ভিডিও আপলোড দিবেন। এর ফলে কাস্টমার পাবেন।

গরুর খামার ব্যবসায় লোকসান হয় কিভাবে?

এই ব্যবসায় লোকসান হওয়ার সবচেয়ে বড় কারন গরুর রোগব্যাধি। কখনও এমন দেখা যায় গরুর সংক্রমন রোগ হয়ে খামারের সব গরু মারা যায়। এসব এড়াতে গরুর সব টিকা দিয়ে রাখবেন। গরুর স্বাস্থের দিকে বেশি নজর রাখবেন। নিয়মিত গরু চিকিৎসক দিয়ে চেক আপ করিয়ে নিবেন। আর বাহিরের কোনো মানুষ যেনো খামারে যততত্র প্রবেশ না করতে পারে। খামারের অন্যান্য কর্মচারি খামারে প্রবেশ করে ভালো করে হাত মুখ ধুয়ে নিবে। 


আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

ধন্যবাদ।

বিস্তারিত
ফুটপাতে লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া

ব্যবসায়িক জীবনের শুরুটা হয়েছে ফুটপাতের ব্যবসা দিয়ে এমন সফল ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কম নয়। তাই অন্যান্য ব্যবসার জন্য যদি পর্যাপ্ত পুঁজির জোগান না থাকে তাহলে ফুটপাতে খুব সহজেই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আমাদের দেশে ফুটপাতের ব্যবসাকে সবাই একটু নিচু চোখে দেখে। ব্যবসা শুরু করতে গেলে কে কি মনে করে এটা ভেবে বসে না থেকে কাজ শুরু করে দেন। একসময় আপনার সফলতা দেখে নিন্দুকদের চোখ কপালে উঠবে। তাই আবার বলছি, যে অবস্থায়ই থাকেন না কেন, কাজ শুরু করে দেন।

আজ আমরা ফুটপাতে করা যায় এরকম বেশ কয়েকটি ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করব। ফুটপাত ব্যবসার আইডিয়ার পাশাপাশি এ ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা পুঁজি লাগে, আর কি কি প্রয়োজন হবে এবং কিভাবে ফুটপাত থেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হবেন এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

আলোচনা শুরুর আগে একটা কথা বলে নিচ্ছি, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি স্থানে ফুটপাতে ব্যবসার প্রতি কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা আছে। এসব স্থানে ফুটপাত দোকান দিবেন না। এতে ঝামেলায় পড়বেন। আর যেখানেই দোকান দেন একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন যে, আপনার দোকান এবং দোকানে আসা কাস্টমারদের জন্য যেন রাস্তার পথচারীদের কোন সমস্যা না হয়। এই পথচারীরাই আপনার কাস্টমার। তাই তাদের সুবিধা অসুবিধার কথা ভাববেন।

যাই হোক এবার মূল আলোচনায় আসি।

ফুটপাতে কেন ব্যবসা করবেন?

ফুটপাতে ব্যবসা করার মুল কারন হল পর্যাপ্ত পুঁজির অভাব। অনেকেরই বড় কোনো দোকান নিয়ে ব্যবসা করার সামর্থ্য থাকে না। তাই বলে কি বসে থাকা যায়? ফুটপাতে ব্যবসা করতে তেমন একটা পুঁজি লাগেনা। যা লাগে তা হল দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক চাদা। আর কিছু পন্য কিনতে যা খরচ। সব মিলিয়ে এই। তাছাড়া এখানে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তাছাড়া কখনো এমনও হয় যে, বড় মার্কেট থেকে ফুটপাতে বেচা কেনা বেশি। এই কারনে অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা ফুটপাতে ব্যবসা করেন কিন্তু ঢাকা শহরে পাঁচ তলা বাড়ি আছে। তাই বলছি ফুটপাতে ব্যবসা করাটা নিচু চোখে দেখার কিছু নয়। আর ফুটপাতে ব্যবসা করাটাও অনেক সহজ। দরকার ভাল আইডিয়া। নিচে কয়েকটি ফুটপাতের লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া তুলে ধরলাম।

 

ফুটপাতে লাভজনক ব্যবসার কয়েকটি আইডিয়া

১. ফুটপাতে চা কফির ব্যবসা

অনেকেই হয়ত এই আইডিয়াটিকে এড়াতে চাইবেন। এটা কেমন শোনায়! শেষে কিনা রাস্তায় চা বিক্রি করব? এ ধরনের কথা মনে আসতেই পারে। আজকের ব্যবসার আইডিয়াটি সাধারন চা কফি বিক্রির দোকান নিয়ে নয়।একটু ভিন্ন রকম। ইদানিং অনেকেই খেয়াল করবেন, শহরের বিভিন্ন মোড়ে ভিন্ন ধরনের কয়েকটি চায়ের দোকান দেখা যায়। এসব দোকানের উদ্যোক্তারা থাকে তরুন। এরা নরামাল চা বিক্রির পাশাপাশি বিশেষ চা বিক্রি করে। যেমন ধরুন, ইরানি চা, তান্দুরি চা, সরের চা, মাল্টা চা, তার্কিশ চা ইত্যাদি। এগুলোর বেশ চাহিদা থাকে। বিশেষ করে তরুনদের পছন্দের চা এগুলো। ঢাকার কোনো কোনো স্থানে দিনে এরা ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার চা কফি বিক্রি করে থাকে। এই চা কফির কাস্টমারদের জন্য বসার সিট দেওয়া লাগেনা। কাস্টমাররা দাঁড়িয়েই চা খায়। তাই এর জন্য আপনার বেশি জায়গার প্রয়োজন হবে না।

এবার আসি কিভাবে শুরু করবেন এই ব্যবসা? প্রথমে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের চা বানানো রপ্ত করতে হবে। বেশ কয়েকদিন নিজে প্র্যাকটিস করতে হবে। কারন কাঁচা হাতের চা সবসময় মজা হয়না। যখন থেকে আপনি পারফেক্ট চা বানাতে পারবেন তখনই কাজে নামবেন। প্রথমে স্থান নির্বাচন করুন। এই ব্যবসা কতটুকু সফল হবে সেটা বেশিরভাগ নির্ভর করবে স্থানের উপর। তাই  স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। মেইন রোডের পাশে এবং কোনো মোড়ের কাছেই এই দোকান দেওয়ার চেষ্টা করবেন। অথবা কোনো মার্কেটের আশেপাশে। এবার সেই স্থান নেওয়ার জন্য কার সাথে কথা বলতে হবে সেটা ওখানকার অন্য দোকানদার থেকে জেনে নিবেন। তারপর কথা বলে নিবেন। এবার একটি ভ্রাম্যমান দোকান বানাবেন। ভ্যান গাড়ি আকারের একটি গাড়ি বানাবেন। এটাই আপনার দোকান। এটার মধ্যে চুলা, সিলিন্ডার বসবে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থাকবে। এবং এটা কিনতে আপনার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো লাগবে। দোকান ঠিক করার পর অন্যান্য জিনিসপত্র কিনে ফেলবেন।

আপনি ভাল মানের চাপাতা আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকেই কিনতে পারেন। এখানে বিভিন্ন ধরনের চা পাতা পাইকারি বা খুচরা পাওয়া যায়। আবার চাইলে আপনি নিজেও আপনার পন্য এখানে বিক্রি করতে পারেন।

দোকান ঠিক করার পর ব্যবসায় নেমে পড়ুন। সাধারনত ফুটপাতে ব্যবসা করতে ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র লাগেনা। তাই এগুলো নিয়ে কোনো ঝামেলা করা লাগবে না।


২. ফুটপাতে গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসা

বাংলাদেশের ফুটপাতে যত ধরনের ব্যবসা আছে তার মধ্যে গার্মেন্টস আইটেমের জনপ্রিয়তাই বেশি। কারন ফুটপাতে গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসা খুব লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া। ফুটপাতে সকল প্রকার গার্মেন্টস আইটেম অনেক কম দামেই পাওয়া যায়। যে টি শার্টের দাম বড় মার্কেটে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা সেটা ফুটপাতে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। যার কারনে মধ্যবিত্ত বা নিম্মবিত্ত পরিবারের গার্মেন্টস আইটেমগুলো ফুটপাত থেকেই কেনা হয়।

ফুটপাতে যেসব গার্মেন্টস আইটেম জনপ্রিয় সেগুলো হল টি শার্ট, পলো শার্ট, শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, ট্রাউজার, মেয়েদের ওড়না, পাজামা, প্লাজু, আন্ডারওয়ার ইত্যাদি। এগুলো প্রথমে আপনি পাইকারি কিনে বিক্রি করবেন। ধীরে ধীরে হোলসেল কিনে খুচরার পাশাপাশি পাইকারি বিক্রির চেষ্টা করবেন।

এই ব্যবসার জন্যও ভাল স্থান নির্বাচন করবেন। আগের মতো করে স্থান ঠিক করবেন। বিশ্বস্ত পাইকারি সেলার খুজে বের করবেন। আর যদি বিশ্বস্ত পাইকারি সেলার খুজে পেতে সমস্যা হয় তাহলে আমাদের এই ওয়েবসাইট ঘুরে আসতে পারেন। এখানে আপনি দেশের নানা প্রান্তের পাইকারি বা হোলসেলার খুজে পাবেন। এবং যাদের প্রোফাইলে সবুজ ভেরিফাইড সাইন আছে তারাই বিশ্বস্ত বিক্রেতা। বিশ্বস্ত বিক্রেতাদের থেকে পন্য কিনলে সে পন্য ভাল পাবেন।

প্রথম আপনি ১০০ টি শার্ট কিনে সেগুলো বিক্রি করবেন। এটার মাধ্যমে মার্কেট যাচাই করবেন। তারপর অন্যান্য পন্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন আবার চাইলে টি শার্টের ব্যবসাও ধরে রাখতে পারেন।

গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসায় আপনার যত বেশি অভিজ্ঞতা হবে তত বেশি আয় হবে। প্রথম লোকসান খেতেই পারেন। অনেকেরই এমন হয় যে প্রচুর পন্য কিনেছে কিন্তু সেগুলো আর বিক্রি করতে পারছেনা। শেষে অনেক লোকসান দিয়ে সেগুলো বিক্রি করতে হয়। এরকমটা হওয়ার কারন হচ্ছে কাস্টমারদের চাহিদা বুঝতে না পারা। তাই বলেছি এই ব্যবসায় যত বেশি অভিজ্ঞতা হবে ব্যবসা তত বেশি লাভজনক হবে। তবে এর জন্য লেগে থাকতে হবে। এই ব্যবসায় প্রথমে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পুঁজি হলেই চলবে। ধীরে ধীরে পুঁজি বাড়াবেন।

এবার আসি কোথা থেকে পাইকারি গার্মেন্টস আইটেম কিনবেন?

টি শার্ট, শার্ট, প্যান্ট আপনি ঢাকা গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া মার্কেটে পেয়ে যাবেন। থ্রি পিস বা মহিলাদের আইটেমগুলো ইসলামপুর বা গাউছিয়া মার্কেট থেকে কিনতে পারেন। অথবা আমাদের এই ওয়েবসাইটেও পাবেন।

 

৩. ফুটপাতে ফাস্টফুডের ব্যবসা

এই ব্যবসার আইডিয়াটি ফুটপাতের জন্য দারুন একটি লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফাস্টফুড খুবই পছন্দনীয় একটি খাবার। ফুটপাতে ফাস্টফুড খুব ভালো চলবে। যেসব ফাস্টফুড আইটেম ফুটপাতে ভাল চলবে সেগুলো হল বার্গার, পিৎজা, ভেজিটেবল রোল, চিকেন রোল, শর্মা, চিকেন বল, স্যান্ডউইচ, সাব স্যান্ডউইচ ইত্যাদি। ফুটপাতে ফাস্টফুডের এই ব্যবসাটি খুব লাভজনক একটি ব্যবসা। আপনি যদি এই ব্যবসা করেন তাহলে অন্য দশজনের মতো না করে একটু ভিন্ন ভাবে শুরু করবেন।

কিভাবে আনবেন এই ভিন্নতা? সবার আগে মানের দিকে খেয়াল রাখবেন। বেশি লাভের আশায় খারাপ মানের খাবার বিক্রি করবেন না। তারপর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায়া রাখবেন। দোকান রাখবেন আকর্ষনীয় সাজে। রাস্তায় কেউ যখন হেটে যাবে তাদের চোখে যেন আপনার দোকানটি আটকায়। ভাল লাইটিং এর ব্যবস্থা করবেন। নিজস্ব প্যাকেটিং ব্যবস্থা রাখবেন। চেষ্টা করবেন খাবারগুলো নিজে বানিয়ে নিতে। নিজে না বানাতে পারলে শিখে নিবেন।

এসব করতে গিয়ে খরচটা একটু বেড়ে যাবে। তাই প্রথম মনে হবে যেন লোকসান হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বাস করেন, কিছুদিন যেতে না যেতেই আপনার কাস্টমার বেড়ে যাবে। কাস্টমার প্রতি লাভ কম হলেও বেশি কাস্টমারের জন্য আপনার ভাল লাভ আসতে থাকবে। এবং এ থেকে আপনি আরোও বড় আকারে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। অপরদিকে আপনি যদি মানের দিকে খেয়াল না রাখেন, অন্যান্যদের মতোই ব্যবসা করেন তাহলে এই ব্যবসা নিয়ে বেশিদূর এগোতে পারবেন না।

আর এইভাবে ব্যবসা শুরু করতে ২০,০০০ টাকা থেকে ৩০০০০ টাকা পুঁজি হলেই চলবে।

 

৪. ফুটপাতে ফুটওয়ারের ব্যবসা 

ফুটওয়ার বলতে জুতাকে বুঝায়। ফুটপাতে জুতার ব্যবসাও জমজমাট থাকে। আসলে ফুটপাতে অন্যান্য গার্মেন্টস আইটেম বা ফুটওয়ারের ব্যবসা সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে রমজান মাসে। কারন রমজানের পর আসে ঈদ। অন্যান্য উৎসবের আগেও এসব ব্যবসা খুব ভাল চলে। বড় দোকান বা শোরুম গুলোতে জুতার দাম বেশি থাকে তাই সাধারন মানুষরা তাদের কেনাকাটা এই ফুটপাতেই করে। ফুটপাতে গার্মেন্টস আইটেমের মতো করেই এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন। পুঁজিও একই রকম লাগবে। দোকানে ভালভাবে লাইটিং করবেন। এতে কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষন হবে।

আপনি গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া মার্কেটে জুতার পাইকারি বাজার পাবেন। আবার আপনি চকবাজারেও পাবেন।

আমাদের এই ওয়েবসাইটেও বিভিন্ন ধরনের জুতার পাইকারি সেলার পেয়ে যাবেন।

৫.ফুটপাতে মোবাইল এক্সেসরিজ এবং ইলেকট্রনিক পন্যের ব্যবসা

মোবাইল এক্সেসরিজ বলতে মোবাইলের ব্যাক কাভার, প্রোটেকশন গ্লাস, ক্যামেরা প্রোটেকশন গ্লাস, ব্যাটারি, মোবাইল স্ট্যান্ড, ট্রাইপড, এয়ারফফোন, হেডফোন ইত্যাদি আইটেমগুলিই ফুটপাতে বেচাকিনি করা হয়। আর অন্যান্য ইলেকট্রনিক পন্য বলতে লাইট, রাউটার, সাউন্ড বক্স ইত্যাদি। মোবাইলের প্রোটেকশন গ্লাস প্রায় সময়ই পাল্টাতে হয়। সেই সাথে ব্যাক কাভারও আনেকে নিয়মিত পরিবর্তন করে থাকেন। ফুটপাতে মোবাইল এক্সেসরিজের ব্যবসা করতে গেলে এয়ারফোনের কাস্টমার সবচেয়ে বেশি পাবেন। এমন অনেক কাস্টমার আছে, যাদের একটি এয়ারফোন ২ সপ্তাহের বেশি টিকেনা। অর্থাৎ ফুটপাতে এই ব্যবসায় আপনি ভাল পরিমান কাস্টমার পাবেন।

ফুটপাতে এই ব্যবসাটি মোটামুটি জমজমাট। গুলিস্তানে মোবাইল এক্সেসরিজের পাইকারি বাজার রয়েছে। সেখান থেকে কিনে এনে আপনি ব্যবসা করতে পারেন।

এই ধরনের ব্যবসা শুরু করতে সাধারনত ২০ হাজার টাকা পুঁজি হলেই হবে। অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা নিজেরা সরাসরি ডোর টু ডোর সার্ভিসের মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে পন্য নিয়ে আসেন। তবে আপনি প্রথমেই এমনটা করতে যাবেন না।

 

আজ আমরা যে কয়টি ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করেছি সেগুলো সবগুলোই বাস্তবমুখী এবং লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া। আপনি খুব সহজেই এইসব ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। ফুটপাতে করা যায় এরকম আরও কয়েকটি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আমরা আরও আলোচনা করব।

আপনি যদি ব্যবসা শুরু করেন তাহলে আপনার পন্য আমাদের এই ওয়েবসাইটে সাপ্লাই দিতে পারেন। এখানে পন্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া, সেলার একাউন্ট খোলা একদম ফ্রী। পন্য বিক্রি করলে আমাদের কোনো কমিশন দিতে হবেনা। আর কোনো ধরনের বাৎসরিক চার্জ নেই।

পাশাপাশি আপনি অন্যান্য অনলাইন প্লাটফর্মেও ব্যবসা করতে পারেন। যেমন ফেসবুক, ইউটিউব। এইসব সাইট থেকেও কাস্টমার পাবেন। ফেসবুক, ইউটিউবে আপনার পন্যের রিভিউ নিয়মিত আপলোড করে মনিটাইজ করে সেখান থেকেও অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। আবার এসব রিভিউ দেখে অনেকেই অর্ডার করবে। তাই অফলাইনে ব্যবসার পাশাপাশি আপনাকে অনলাইনেও ব্যবসা করা উচিত।

আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

ধন্যবাদ।

 


বিস্তারিত
ইলন মাস্কের উঠে আসার গল্প

 

ইলন মাস্কের নাম শুনেননি এমন মানুষের সংখা খুবই কম। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সফল মানুষদের মধ্যে তিনি একজন। ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী ইলন মাস্ক ধনীদের তালিকায় বিশ্বে ২য়। আজ আমরা ইলন মাস্ক এবং ইলন মাস্কের উঠে আসার গল্প নিয়ে আলোচনা করব।

 

ইলন মাস্ক জন্ম গ্রহন করেছিলেন ১৯৭১ সালের ২৮শে জুন দক্ষিন আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায়। ইলন মাস্কের পূর্ণ নাম ইলন রিভ মাস্ক। ইলন মাস্কের মা ‘মেই মাস্ক’ কানাডায় জন্মগ্রহন করেছিলেন। কিন্তু তার বেড়ে উঠা হয় দক্ষিন আফ্রিকায়। এবং ইলন মাস্কের বাবা একজন দক্ষিন আফ্রিকান প্রকৌশলী। ১৯৮০ সালে ইলন মাস্কের বাবা ও মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এর ২ বছর পর ইলন মাস্ক তার বাবার সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরে এই সিদ্ধান্তকে সে একটি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে। ইলন মাস্ক তার বেশিরভাগ সময় তার বাবার সাথে দক্ষিন আফ্রিকার পিটোরিয়ায় থাকতেন। তবে ইলন মাস্কের সাথে তার বাবার খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না। ইলন মাস্কের একটি ভাই ও একটি বোন আছে।

 

১২ বছর বয়সে ইলন মাস্ক একটি ভিডিও গেম তৈরি করে এবং পিসি এন্ড অফিস টেকনোলজি ম্যাগাজিনের কাছে ৫০০ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করেছিলেন। সেই থেকে শুরু। তার শিক্ষাজীবনের শুরুটা হয় প্রিটোরিয়া বয়েজ স্কুলে। তারপর তিনি কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন কিন্তু সেখানে বেশিদিন থাকেননি। কানাডা হয়ে আমেরিকায় চলে যান। তার কানাডায় আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকায় আসা। কারন তখনকার সময়ে কানাডা দিয়ে আমেরিকায় ঢুকা সহজ ছিল। তারপর তিনি ১৯৯২ সালে পেনসিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। এবং সেখান থেকে পদার্থ বিজ্ঞানের উপর স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তারপর তিনি হেয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনিতিতে আবার স্নাতক ডিগ্রি নেন। তারপর জ্বালানি পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে আমেরিকার বিখ্যাত স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য এডমিট হলেও মাত্র ২ দিন ক্লাস করে কাজে চলে আসেন।

 

তারপর ১৯৯৫ সালে ইলন মাস্ক তার ছোট ভাই কিম্বল এবং গ্রেগ কৌরি ইনভেস্টরদের সাথে zip2 নামক একটি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। অবশ্য zip2 প্রতিষ্ঠার আগে কয়েক জায়গায় চাকুরির জন্য আবেদন করেছিলেন এবং প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে zip2 বিক্রি করে দেন। তারপর এই মুলধনকে পুজি করে প্রতিষ্ঠা করেন x.com। এই x.com পরে paypal এর সাথে মিলে যায়। তাই অনেকেই ইলন মাস্ককে পেপাল এর সহ প্রতিষ্ঠাতা বলে থাকেন।

x.com মূলত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম। এদিকে paypal ও একই ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু বাজারে x.com এর চেয়ে paypal বেশ এগিয়ে ছিল। এক হওয়ার আগে বাজারে এদের মধ্যে বেশ প্রতিদ্ধন্দিতা ছিল। পরে ebay এর কাছে ২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরে বিনিময়ে paypal বিক্রিত হয়ে যায়।

ইলন মাস্ক ২০০২ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠা করেন spacex। ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠান এখনও সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি মূলত মহাকাশে কোনো স্যাটেলাইট প্রেরনে কাজ করে। এমনকি বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান spacex প্রেরন করেছিল। মহাকাশে কোনো কিছু পাঠাতে যে খরচ লাগে তা অনেকটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় spacex। বর্তমানে তারা একই রকেট কিভাবে বারবার ব্যবহার করা যায় সেটার ট্রায়াল পর্যায়ে আছে।

 

বর্তমানে ইলন মাস্ক বিখ্যাত গাড়ি নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আছেন। টেসলার যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। ২০০৪ সালে ইলন মাস্ক টেসলায় বিনিয়োগ করেন এবং পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। টেসলার বিখ্যাত হওয়ার পিছনে ইলেকট্রিক কারের ভুমিকা সবচেয়ে বেশি। মাস্কের দূরদর্শিতাই মূলত টেসলাকে সফলতার পর্যায়ে নিয়ে যায়।

তারপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সোলারসিটি। এটা মূলত সৌর পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। বিদ্যুতের চাহিদার বড় একটি অংশ সোলারসিটি পূরন করে থাকে।

তার আরেকটি সম্ভাবনাময় প্রজেক্টের নাম হল হাইপারলুপ। হাইপারলুপ পদ্ধতিতে মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হবে। হাইপারলুপ পদ্ধতিতে মূলত একটি বায়ুশুন্য নলের মধ্য দিয়ে একটি যানবাহন চলবে। যার গতি অনেক বেশি থাকবে। কোনো পৃষ্ট এবং বায়ুর সংস্পর্শে থাকবেনা ফলে ঘর্ষন কম থাকবে এবং কম জালানির প্রয়োজন হবে। তাই এটি পরিবেশবান্ধব। এটি পরিপূর্ন ভাবে এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। 

ইলন মাস্কের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের কথা না বললেই নয়। সেটা হল নিউরোলিঙ্ক। নিউরোটেকনোলজি নিয়ে কাজ করার লক্ষে ২০১৬ সালে ইলন মাস্ক নিউরোলিঙ্কের সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মূলত মানব মস্তিষ্কের সাথে মেশিনের সম্পর্ককে আরও উন্নত করবে। যা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

 

একটা বিষয় খেয়াল করবেন যে ইলন মাস্কের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পরিবেশ বান্ধব। টেসলা, স্পেসএক্স, সোলারসিটি, হাইপারলুপ এসবই পরিবেশ বান্ধব প্রতিষ্ঠান। উল্লেখিত প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে তিনি জড়িয়ে আছেন। তিনি বর্তমানে মঙ্গলগ্রহে মানব বসতি স্থাপনের লক্ষেও কাজ করে যাচ্ছেন।

এভাবে তিনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীর খেতাব অর্জন করেন। ২০২১ সালের শুরুর দিকটায় ইলন মাস্ক কয়েকদিনের জন্য শীর্ষে থাকা জেফ বেজোসকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। পরে অবশ্য আবার ২য় স্থানে চলে আসেন।

 

আজকের আলোচনা নিয়ে কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

ধন্যবাদ।

বিস্তারিত
একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

শখের বসে বাসায় একুরিয়ামে মাছ পালন স্বাভাবিক একটি বিষয়। একুরিয়াম বাসার সৌন্দর্যও বাড়ায়। যার কারনে বর্তমান সময়টাতে বাসায় একুরিয়াম রাখার প্রবনতাও দিন দিন বাড়ছে। সেই সাথে একুরিয়ামের ব্যবসার প্রসারতাও বাড়ছে। আজ আমরা একুরিয়ামের ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করব। আজকের আলোচনার শিরোনামগুলো তুলে ধরছি…

১. একুরিয়ামের ব্যবসা কেন করবেন?

২. কিভাবে একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন?

৩. একুরিয়ামের জন্য মাছের তালিকা

৪. মাছ বা অন্যান্য উপাদান পাইকারি কিনবেন কোথা থেকে?

৫. একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা পুঁজি লাগে?

৬. একুরিয়ামের ব্যবসাটিকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে করনীয় কি?

৭. এই ব্যবসার পাশাপাশি অন্য কি কি ব্যবসা করা যাবে?

 

এবার মূল আলোচনায় আসি…

১. একুরিয়ামের ব্যবসা কেন করবেন?

একুরিয়ামের ব্যবসা করার সবচেয়ে বড় কারন হল এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া। এখন মানুষ পোষা কুকুর, বিড়াল বা পোষা পাখি পালনের জন্য বেশি আগ্রহী। বাসার সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বা বাসায় সামুদ্রিক একটা ছোয়া পেতে অনেকেই নিয়ে আসছেন একুরিয়াম। শহরের বাসাগুলোতে প্রায়ই পোষা কুকুর, বিড়াল বা বারান্দায় পাখি বা একুরিয়াম দেখা যায়। এখন হাজারখানিক টাকা হলেই বাসায় একটা একুরিয়াম আনা যায়। তাই মধ্যবিত্তদের মাঝেও এর ভাল চাহিদা রয়েছে। সাধারনত ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা দামের একুরিয়াম বাংলাদেশের বাজারে বেচাকেনা হয়। আবার একুরিয়ামের কাস্টমার দোকানে শুধু একুরিয়াম কিনতেই আসে না। মাছ, মাছের খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে আসে। সাধারনত একুরিয়ামে যেসব মাছ পালন করা হয় সেগুলো বিদেশি জাতের মাছ। একটা সময়ে এসব মাছের অনেক দাম থাকলেও এখন এখন সাধ্যের মধ্যে।  অনেকে আবার এত দাম দিয়ে একুরিয়াম না কিনে ছোট জার কিনেন এবং সেগুলোতে ছোট আকারের মাছ পালন করে থাকেন। শহর ছড়িয়ে গ্রামেও বিভিন্ন বাড়িতে এখন একুরিয়ামের দেখা মিলে।

অর্থাৎ বর্তমানে একুরিয়ামের বাজার সম্ভাবনাময় একটি বাজার। তাই আপনার একুরিয়ামের ব্যবসা করা উচিত।

 

২. কিভাবে একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করবেন?

একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করার আগে সর্বপ্রথম দেখে নিবেন যেখানে ব্যবসাটি করবেন সেখানে একুরিয়ামের চাহিদা আছে কিনা। যদি আপনি প্রত্যন্ত গ্রামে এই ব্যবসা করতে চান তাহলে আপনার জন্য পরামর্শ থাকবে আপনি অন্যান্য ব্যবসার আইডিয়াগুলো দেখতে পারেন। আপনার এলাকায় যদি একুরিয়ামের চাহিদা থাকে তাহলে দোকানের জন্য স্থান নির্বাচন করবেন। লোকসমাগম বেশি এমন স্থানে একুরিয়ামের দোকান দেওয়ার চেষ্টা করবেন। মেইন রোডের পাশে হলে ভালো হয়। দোকান ঠিক করার পর দোকানে ফার্নিচার সেট করবেন। ফার্নিচারগুলোর মধ্যে নিজের জন্য বড় দুটি একুরিয়াম রাখবেন যেখানে আপনার মাছগুলো রাখবেন। তারপর বিক্রির জন্য কয়েকটি একুরিয়াম বানিয়ে নিবেন। ১ থকে ৫ হাজার টাকা দামের একুরিয়াম দিয়ে শুরু করবেন। পাশাপাশি ছোট জার গুলোও আনবেন। মাছও নিয়ে আসবেন সাথে একুরিয়ামের জন্য পাথর, এয়ার মটর, ফিল্টার, রাবারের ফ্লেক্সিবল পাইপ ইত্যাদিও নিয়ে আসবেন। একুরিয়াম আপনি নিজে তৈরি করতে পারেন। একুরিয়ামের নিচে যে কাঠের ফার্নিচার থাকে সেটা তৈরির জন্য কোনো কাঠমিস্ত্রি বা ফার্নিচার ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে নিতে পারেন। তাদের সাথে একটা চুক্তি করে নিবেন। আর উপরের কাচের অংশ আপনি নিজেই বানিয়ে নিতে পারবেন। তারপর প্রচার শুরু করে দিবেন।

৩. একুরিয়ামের জন্য মাছের তালিকা

একটু আগেই বলেছি একুরিয়ামের মাছগুলো মূলত বিদেশি জাতের। বাংলাদেশে একুরিয়ামের জন্য যেসকল মাছের চাহিদা বেশি সেগুলোর তালিকা তুলে ধরছি…

·        গোল্ডফিশ

·        গাপ্পি

·        এঞ্জেল

·        মলি

·        ক্যাট ফিস

·        টেট্রা জেব্রা

·        টাইগার শার্ক

·        সিল্ভার শার্ক

·        রোজি বার্ব

·        টাইগার বার্ব

·        গ্লাস ফিশ

·        অ্যালিফেন্ট নোজ

·        সাকিং ক্যাট

·        ফ্লাওয়ার হর্ন

·        ব্লু আকড়া

·        ফাইটিং ফিশ

·        সোর্ড টেইল


উপরে উল্লেখিত মাছগুলো ছাড়াও দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একুরিয়ামগুলোতে শোভা পায়। সেগুলোর তালিকাও তুলে ধরলাম…

·        টেংরা

·        খলিশা

·        পুটি

·        চান্দা

·        বায়িং

·        মলা

·        চিংড়ি জাতীয় ছোট মাছ।

দেশীয় মাছগুলো একুরিয়ামের জন্য দেশীয় মানুষের চেয়ে বেশি কদর করে ইউরোপের মানুষেরা। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই একুরিয়ামের মাছ হিসেবে উল্লেখিত মাছগুলো রপ্তানি করে থাকে।

৪. মাছ বা অন্যান্য উপাদান পাইকারি কিনবেন কোথা থেকে?

একুরিয়াম, একুরিয়ামের মাছ বা অন্যান্য উপাদানের জন্য ঢাকায় মুলত ২টি পাইকারি বাজার রয়েছে। একটি হল কাটাবন। আরেকটি হল মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট। গুলশানেও একুরিয়ামের পাইকারি মার্কেট আছে। পাইকারি মার্কেট থেকে এসব মাছ কিনতে গেলে নানা ধরনের সমস্যা হয়। তারা ভাল মাছ আপনাকে নাও দিতে পারে। যদি বুঝে কিনতে পারেন তাহলে কিনতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অনেকেই এ ধরনের মাছের চাষ করে থাকেন, তাদের থেকে কিনতে পারেন। তাছাড়া আমাদের এই ওয়েবসাইটেও অনেকে পাইকারি একুরিয়ামের মাছ সরবরাহ করেন। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

৫. একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা পুঁজি লাগে?

কোন ব্যবসায় কত টাকা পুঁজি লাগে সেটা মূলত নির্ভর করে কোথায় এবং কেমন পরিসরে ব্যবসাটি শুরু করবেন তার উপর। তাই দোকানের ভাড়া এবং অ্যাডভান্স ছাড়াই আমরা হিসাব করব। আর দোকানের জন্য প্রথম তিন চার মাসের ভাড়া আগেই রেখে দিবেন। ওই টাকাটাও আমরা হিসাবের বাইরে রাখব। কারন এভাবে দোকান দিয়ে ব্যবসা করতে গেলে প্রথম লাভ উঠতে কয়েক মাস পর্যন্ত লেগে যায়।

একুরিয়ামের ব্যবসা করতে প্রথমে ফার্নিচার বাবদ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হবে। আর মাছসহ অন্যান্য জিনিস কিনতে ধরুন আরও ১৫ হাজার টাকা। সরকারি বিভিন্ন বৈধ কাগজপত্রের জন্য আপনাকে আরও ২ থাকে ৫ হাজার টাকা খরচ করা লাগতে পারে। সবমিলিয়ে দোকানের এডভান্স আর প্রথম ৩ থেকে ৪ মাসের ভাড়া ছাড়া ৪০ হাজার টাকা হলেই আপনি একুরিয়ামের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

৬. একুরিয়ামের ব্যবসাটিকে বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে করনীয় কি?

আপনাকে শুধু একুরিয়াম আর একুরিয়ামের মাছ, যন্ত্রপাতি বিক্রি করলেই হবে না। এর পাশাপাশি আপনাকে এই সংক্রান্ত আরও অন্যান্য ব্যবসায় জড়াতে হবে। যেমন আপনি নিজে একুরিয়ামের মাছ চাষ করতে পারেন। তারপর এই মাছগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করবেন। বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ীরাই এভাবে মাছ চাষ করে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে। আপনিও করতে পারেন। তবে প্রথমেই মাছ চাষের পর্যায়ে না যাওয়াটাই ভালো। অফলাইনে ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যবসা করবেন। ফেসবুকে পেজ খুলে সেখানে নিয়মিত আপডেট দিবেন। কাস্টমারদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করবেন। আপনি আপনার পন্য আমাদের এই ওয়েবসাইটেও বিক্রি করতে পারেন। এখানে যে কোনো ধরনের পন্য পাইকারি বা খুচরা বেচা কেনা করা যায়। সেলার একাউন্ট খুলতে বা পন্য বিক্রি করতে কোনো প্রকার চার্জ বা ফি প্রদান করতে হয় না।

 

৭. এই ব্যবসার পাশাপাশি অন্য কি কি ব্যবসা করা যাবে?

এই ব্যবসার পাশাপাশি আরও নানা ধরনের ব্যবসা করা যায়। যেমন পাখির ব্যবসা। কবুতরের ব্যবসা। পাখির ব্যবসা করলে একপর্যায়ে আপনি পাখির খামারও দিতে পারবেন। পাখি আর মাছ যদি একই দোকানে বিক্রি করেন তাহলে আপনি অতিরিক্ত কিছু কাস্টমার পাবেন। অনেকেই তাদের বাসার বারান্দায় পাখি পালন করে থাকে। যেসব পাখি এভাবে পালন করা হয় সেগুলো মূলত বিদেশি জাতের পাখি। এসব পাখির মধ্যে লাভ বার্ড, ককাটেইল, ফিঞ্চ, বাজরিগার, রেড লরি উল্যেখযোগ্য। আর পাখির ব্যবসা কিভাবে করবেন তা নিয়ে আমাদের আরেকটি আর্টিকেল আছে। পড়ার অনুরোধ থাকবে।

 

আবার আপনি চাইলে দোকান দেওয়া ছাড়াই বাসায় একুরিয়াম থেকে ব্যবসা করতে পারেন। বাংলাদেশে অনেকেই বিশেষ করে ছাত্ররা শুধু বাসায় একুরিয়ামে মাছ পালন করে প্রতি মাসে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করছে। তারা সাধারনভাবেই বাসায় মাছ পালন করে। আর একুরিয়ামের এসব মাছ ঘন ঘন বাচ্চা দেয়। অতিরিক্ত মাছ বিক্রি করে বাসা থেকেই টাকা আয় করা যায়। এভাবে বাসায় পাখি পালন করেও ব্যবসা করা যায়। পাখি ও একুরিয়ামে মাছ দুটি একসাথেও পালন করে টাকা আয় করা যায়।

 

আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

ধন্যবাদ।

বিস্তারিত
রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে
বর্তমান সময়ে সম্ভাবনাময় একটি ব্যবসার নাম রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। একটা সময়ে বাংলাদেশে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এতটা লাভজনক ছিলনা। কারন কাস্টমার ছিল হাতেগোনা কিছু মানুষ। এখন বাংলাদেশের মানুষের আয় বেড়েছে। রেস্টুরেন্টে গিয়ে আড্ডা, মিটিং অথবা পরিবারের সকলে মিলে গিয়ে পছন্দের খাবার খাওয়ার ইচ্ছা পূরণ করার সমর্থবান মানুষের সংখা দিন দিন বেড়েই চলছে। সেই সাথে চাহিদা বাড়ছে নতুন ধরনের রেস্টুরেন্টের। আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনি রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করবেন…

রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কেনো করবেন…

বর্তমানে বেশিরভাগ শহরে পর্যাপ্ত ভাল মানের রেস্টুরেন্ট নেই। আবার যেগুলো আছে তাদের মান তেমন একটা ভাল নয়। তাই বলা যায় যে ভাল মানের রেস্টুরেন্টের চাহিদা আছে। আর রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করতে গেলে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকার প্রয়োজন হয়। আপনার যদি মনে হয় আপনার এই গুন আছে, এবং আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত পরিমান টাকা থাকে তাহলে আপনি এই ব্যবসায় নামতে পারেন। তবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ঝুঁকি বেশি। অনেকে তাদের সহায় সম্বল বিক্রি করে ব্যবসায় নামেন। তাদের জন্য এই ব্যবসায় না নামাই ভালো। 

কিভাবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করবেন…

সবার প্রথমে খাতা কলম নিয়ে বসেন। আগে ঠিক করেন কত টাকা পুজিঁ নিয়ে এ ব্যবসায় নামবেন। আর আপনার যদি কোনো আইডিয়া না থাকে যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করতে কি পরিমান পুজিঁ লাগে তাহলে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আর পুরো ব্যবসার একটা লিখিত পরিকল্পনা তৈরি করবেন। যেখানে থাকবে কয়জন মিলে এই ব্যবসা করবেন, কোন স্থানে এই ব্যবসা করবেন, কোন খাতে কত টাকা খরচ করবেন ইত্যাদি বিষয়। আচ্ছা এবার মূল বিষয়ে আসি। পুজিঁ নির্দিষ্ট করার পর ঠিক করবেন কোথায় ব্যবসাটি করবেন। অর্থাৎ স্থান নির্বাচন করবেন। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় গুরুত্বপুর্ন একটি বিষয় হল স্থান নির্বাচন। স্থান নির্বাচনের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন তা তুলে ধরছি…

✑ সেখানে যেনো মানুষের যাতায়াত বেশি হয়।
✑পার্কিং সুবিধা যেনো থাকে।
✑মেইন রাস্তার পাশে যেনো হয়।
✑কোনো মার্কেটের আশেপাশে হলে ভালো হয়। 
✑আপনার পুজিঁ দিয়ে ঐ প্লেসটি নেওয়া যাবে কিনা।

এইসব বিষয় মাথায় রেখে স্থান নির্বাচন করবেন। স্থান নির্বাচন করার পর ঠিক করবেন কোন ধরনের রেস্টুরেন্ট দিবেন অর্থাৎ চাইনিজ, থাই, ইন্ডিয়ান, ওয়েস্টার্ন নাকি দেশীয় আইটেমের খাবার বিক্রি করবেন আপনার রেস্টুরেন্টে। এই বিষয়টা ঠিক করার সময় যে এলাকায় রেস্টুরেন্ট দিবেন সেখানের চাহিদা কোন ধরনের খাবারের প্রতি সেটা খেয়াল রাখবেন। আপনার রেস্টুরেন্টের জন্য খাবার মেনুও ঠিক করে ফেলবেন। পাশাপাশি সেখনে অন্যান্য রেস্টুরেন্ট গুলো কোন ধরনের, সেখানে কেমন বিক্রি হচ্ছে সে বিষয়টাও খেয়াল রাখবেন। এরজন্য আপনি কয়েকটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে পরিদর্শন করে আসতে পারেন। একটা বিষয় বলি, বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে এরাবিক খাবারের চাহিদাও দেখা যাচ্ছে।  তাই অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি এরাবিক আইটেমের খাবার রাখবেন।

এভাবে আপনার পরিকল্পনা সাজাবেন। তারপর আপনার পছন্দের স্থানটি ভাড়া নিবেন। আর এ কাজের মাধ্যমেই আপনার ব্যবসায় পুরোপুরি নামা হবে। তারপর ডেকোরেশন। ডেকোরেশনের সময় দেখতে সুন্দর কিন্তু একটু ভিন্নরকম ভাবে সাজাবেন। খাবার মানের সাথে সমান গুরুত্ব পায় রেস্টুরেন্টের ডেকোরেশন। রেস্টুরেন্ট এমন ভাবে সাজাবেন তা যেনো ক্যামেরা বান্ধব হয়। প্রায় অধিকাংশ কাষ্টমারই রেস্টুরেন্টে গিয়ে ছবি তুলে। আর গভেষণা অনুযায়ী রেস্টুরেন্টের নতুন কাস্টমার আনার জন্য ডেকোরেশন সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। তাই ডেকোরেশনে ভালো গুরুত্ব দিবেন। প্রত্যেক টেবিলের পাশে কিছু বই এবং ম্যাগাজিন রাখতে পারেন। ডেকোরেশনের কাজের ফাঁকে যেসব বৈধ কাগজপত্র লাগবে তা করে নিবেন। 

রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করতে যেসব কাগজপত্র লাগবে…

১. ট্রেড লাইসেন্স
২. টিন সার্টিফিকেট
৩. মূসক বা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন

এবার আসি এসব কাগজপত্র কোথা থেকে জোগাড় করবেন। ট্রেড লাইসেন্স সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা অফিস বা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে পাবেন। আপনি যদি সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন হন তাহলে সিটি কর্পোরেশন থেকে, পৌরসভার আওতাধীন হলে পৌরসভা থেকে আর যদি গ্রাম এলাকা হয় তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স থেকে নিবেন। টিন সার্টিফিকেট বা ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের কাজ আপনি অনলাইনেই করতে পারেন। এসবের জন্য কিছু ফি লাগতে পারে।

এসব কাজ হয়ে গেলে আপনি মার্কেটিং শুরু করে দিবেন। রেস্টুরেন্টের জন্য রাধুনি নিয়োগ দিবেন। রাধুনি নিয়োগের সময় অভিজ্ঞ রাধুনি নিয়োগ দিবেন। অন্যান্য লোক যেমন ম্যানেজার, সার্ভ বয়, পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োগ দিবেন। এভাবেই আপনার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু হয়ে যাবে।

রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার পর রেস্টুরেন্টের মার্কেটিং পুরোদমে চালিয়ে যেতে হবে। ফেসবূক, ইন্সটাগ্রামে প্রচারনা চালিয়ে যাবেন। প্রচারের ক্ষেত্রে ইউনিক কিছু করার চেষ্টা করবেন। যেভাবেই হোক আপনার প্রতিদ্বন্দিদের উপর নজর রাখবেন। তাদের ইভেন্টগুলো কি, কাস্টমার কেনো তাদের রেস্টুরেন্টে যায়, তাদের কাজগুলো কি রকম এইসব বিষয়ে ঘাটাঘাটি করবেন। আর প্রথম ৬মাস থেকে ১ বছর আপনার লোকসান হতে পারে। তাই এই সময়ের জন্য কিছু অতিরিক্ত টাকা আগে থেকেই রেখে দিতে হবে। এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে হবে। খাবার ও অন্যান্য সেবার মানে যাতে কোনো প্রকার ঘাটতি না থাকে সে বিষয়টা খেয়াল রাখবেন। 

সবশেষে একটা কথা বলব, আপনার ব্যবসায় আপনার সফলতা নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের উপর...
✑সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া
✑হার্ডওয়ার্ক
✑সঠিক নেতৃত্ব
✑সুদূর পরিকল্পনা থাকা


আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
ইন্ডিয়া থেকে পোশাক আমদানি করবেন যেভাবে
বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান পোশাকের অনেক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান থ্রি পিসের চাহিদা এবং তারপর ইন্ডিয়ান শাড়ির চাহিদা উল্লেখ না করলেই নয়। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা নিজেরাই ইন্ডিয়া থেকে পোশাক আমদানি করতে চায়। বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান থ্রি পিস, শাড়ি বা অন্যান্য পোশাকের পাইকারি বাজার আছে। কিন্তু এগুলোর বেশিরভাগই আসল ইন্ডিয়ান নয়, কপি অর্থাৎ বাংলাদেশিই কিন্তু দেখতে পুরোপুরি ইন্ডিয়ান পন্যের মতো। এর কারনে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই ইন্ডিয়া গিয়ে অথবা সেলার থেকে সরাসরি কন্টাক্ট করে থ্রি পিস, শাড়ি বা অন্যান্য পোশাক এপারে নিয়ে আসে। বিভিন্ন উপায়ে ইন্ডিয়া থেকে পোশাক আমদানি করতে পারবেন। আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনি ইন্ডিয়া থেকে পোশাক এনে ব্যবসা করবেন…

যেসব উপায়ে ইন্ডিয়া থেকে পোশাক আনা যায়…

✑ইন্ডিয়া ভ্রমনে গিয়ে আসার সময় ব্যাগেজে করে পন্য নিয়ে আসা যায়। যদিও এভাবে ব্যবসা না করাটাই উত্তম।
✑ডোর টু ডোর সার্ভিসে পন্য আনা যায়। ইন্ডিয়া থেকে পন্য আনার জন্য ডোর টু ডোর সিস্টেমটাই ভাল।
✑এলসি করে বেনাপোল, এয়ারপোর্ট বা সমুদ্র বন্দরে পন্য নিয়ে আসা যায়।

এবার বিস্তারিত বলি। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তারা ডোর টু ডোর বা নরমাল পদ্ধতিতে পোশাক আনে না। কারন এগুলোর খরচ তুলনামুলক বেশি। তারা আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীসহ টুরিস্ট ভিসায় একসাথে ইন্ডিয়া যায়। আর যে কোনো দেশে কেউ গেলে আসার সময় কিছু পন্য কিনে নিয়ে আসা যায় যেগুলোর জন্য কোনো প্রকার ট্যাক্স বা অন্য কোনো ফি দিতে হয় না। এই সুবিধা নিয়ে ব্যবসায়ীরা ইন্ডিয়া থেকে ব্যবসার জন্য পোশাক নিয়ে আসেন। আবার আপনি চাইলে ইচ্ছেমত পন্য আনতে পারবেন না। সকল টুরিস্টদের জন্যই পন্য আনার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হয়। যেমন আপনি ২০ কেজি বা ৩০ কেজির বেশি পন্য আনতে পারবেন না। আবার একই পন্য তিনটির বেশি আনতে পারবেন না। এই যেমন ধরেন আপনি একই ধরনের শাড়ি চারটি কিনলেন। তখন এগুলো আনার সময় কাস্টমের লোকেরা ঝামেলা করবে। তারা একটি রেখেও দিতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা তাদের পন্য ভাগাভাগি করে নেয়। পরে দেশে এসে আবার যার যার পন্য যে যে নিয়ে নেয়। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তারাই এভাবে পন্য আনে। কিন্তু প্রফেশনাল ভাবে ব্যবসার জন্য এভাবে পন্য আনা উচিত নয়।

এবার আসি ডোর টু ডোর সার্ভিস নিয়ে…

ইন্ডিয়া বা চায়না থেকে পন্য আনার জন্য ডোর টু ডোর সার্ভিস জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। প্রথমে জেনে নেই, ডোর টু ডোর সার্ভিস কি? ডোর টু ডোর সার্ভিস হল, আপনি কোনো পন্য কোনো এজেন্সির কাছে দিবেন। তারা তাদের নিজস্ব লাইসেন্স দিয়ে নিজস্ব ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার দিয়ে পন্য এনে দিবে। আপনি ইন্ডিয়াতে অনেক ডোর টু ডোর সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান পাবেন যারা আপনার পন্য দেশে এনে দিবে। তারা মূলত কেজিপ্রতি চার্জ নেয়। এভাবে ইন্ডিয়া থেকে পোশাক আনার জন্য কোনো প্রকার লাইসেন্স বা আলাদা কোনো ফি দিতে হবে না। এর জন্য কোনো এলসি বা আইআরসি করা লাগেনা। ডোর টু ডোর সার্ভিস মূলত দুই ধরনের হয়। একটি হল এয়ার শিপমেন্ট অপরটি হল সি শিপমেন্ট। এয়ার শিপমেন্ট করলে কেজিপ্রতি ৪৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লাগে। অপরদিকে সি শিপমেন্টে ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা লাগে। এগুলো অবশ্যই কেজিপ্রতি হিসেবে হয়। এয়ার শিপমেন্ট এর শুবিধা হল ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পন্য পাওয়া যায়। আর সি শিপমেন্টে ৬০ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত লাগে। 

তবে ডোর টু ডোর সার্ভিসের কিছু সমস্যাও আছে…

মনে করুন আপনি ডোর টু ডোর সার্ভিসে কিছু থ্রি পিস পাঠিয়েছেন। ঐ ডোর টু ডোর এজেন্সি কিন্তু আপনার পন্যের সাথে আরও আন্যান্য পন্য পাঠাবে। সেগুলোতে যদি কোনো অবৈধ পন্য থাকে তাহলে সেগুলো যখন কাস্টমে আটকে যাবে যাথে আপনার পন্যও আটকে যাবে। এতে আপনার পন্য ফেরত নাও পেতে পারেন। তাই ডোর টু ডোর একটু ঝুকিপূর্ণ। 

আর আরেকটি উপায় হল নিজে এয়ারে অথবা শিপে করে নিয়ে আসা। তবে এর জন্য আপনাকে অনেক কাগজপত্র করতে হবে। লাইসেন্স করতে হবে। শুধুমাত্র ইমপোর্টার লাইসেন্স করতেই এখন খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তারপর আরও অনেক ঝামেলা তো আছেই। যেমন এলসি, আইআরসি করা, ইন্সুরেন্স করা ইত্যাদি। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তারা এভাবে সাধারনত পোশাক আনে না। তারপরও যদি কেউ এভাবে আনতে চান, এটা নিয়ে আমাদের একটি আর্টিকেলে বিস্তারিত দেওয়া আছে। পড়ে আসতে পারেন।

একটি বিষয় উল্লেখ করতে হয়। বর্তমানে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য ইন্ডিয়া থেকে বৈধ উপায়ে পোশাক এনে ব্যবসা করা যায়না। কারন তারা অবৈধ উপায়ে পোশাক নিয়ে আসে। ফলে তাদের কোনো প্রকার ট্যাক্স দিতে হয় না। শেষে এমন দেখা যায় যে আপনি কোনো থ্রি পিস আনতে যে খরচ হয় তার চেয়ে কমদামে তারা বিক্রিই করছে। আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পোশাক ইন্ডিয়ান বলে বিক্রি করে। তার কারনে সত্যিকারের ইন্ডিয়ান পোশাক নিয়ে ব্যবসা করতে গেলে নানা ধরনের প্রতিকুলতার শিকার হতে হয়। তাই ইন্ডিয়া থেকে পোশাক এনে ব্যবসা করতে গেলে ভেবে চিন্তে করবেন।

আপনার যদি ইন্ডিয়া থেকে পোশাক আমদানি করতে C&F এর প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আজকের আলোচনা নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে অথবা C&F এর দরকার পড়ে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।
ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
পাখির ব্যবসা কিভাবে করবেন
অনেকেই নিজের শখ এবং ব্যবসা একসাথে করতে চান। পাখি পালন করার শখ অনেকেরই আছে। কিন্তু এমনও তো হতে পারে যে শখ পালন হল পাশাপাশি সেখান থেকে কিছু টাকাও আসল। 

কেন করবেন পাখির ব্যবসা?

পাখির ডাক, কিচিরমিচির শব্দ কার না ভাল লাগে? নানা রঙের নানা বর্ণের পাখি মনকে মুগ্ধ করে দেয়। অনেকেই তাদের বাসার বারান্দায় পাখি পালন করে থাকেন। বারান্দায় পালন করার জন্য দেশি বিদেশি বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে। আগে বিদেশি পাখি তেমন একটা পাওয়া যেত না। যাই পাওয়া যেত দাম ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এখন অনেকটা সহজলভ্য ভাবেই পাওয়া যায়। পাশাপাশি রঙ বেরঙের এসব পাখির চাহিদাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে এসব পাখির চাহিদা আরও বাড়বে। তরুনদের মধ্যেই পাখি পালনের শখ বেশি। 
পাখির ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম। পাখির ব্যবসা শুরু করতে বেশি টাকা পুঁজি লাগেনা। আবার শিক্ষাগত যোগ্যতাও তেমন একটা দরকার হয় না। অন্যান্য পাখির পাশাপাশি কবুতর পালন করলে লাভের পরিমান আরও বেশি হবে। 

যে ধরনের পাখির ব্যবসা করবেন……

ব্যবসার জন্য পাখি নির্বাচনের সময় অনেকেই একটা ভুল করে থাকে। বিভিন্ন দেশি পাখিকে ব্যবসার জন্য নির্বাচন করে। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসার জন্য বিদেশি পাখি বা কেসবার্ড ধরনের পাখিই ভাল। কেসবার্ড হল যেসকল পাখি খাচায় পালন করা যায় বা যেসকল পাখি খাচায় নিরাপদবোধ করে। এ ধরনের পাখিই বাসার সৌন্দর্য বর্ধন করে। বলছিনা যে দেশীয় পাখি দেখতে সুন্দর নয়। দেশীয় পাখিগুলো কেসবার্ড নয়। এগুলো বনে জঙ্গলে বা গাছে গাছে উড়ে বেড়াতে পছন্দ করে। খাচায় এগুলো নিরাপদ নয়। যে সকল পাখি আপনি বাসায় পালন করবেন এবং ব্যবসা করতে পারবেন তার একটি তালিকা তুলে ধরলাম...

✑ লাভ বার্ড 
✑ককাটেইল
✑ফিঞ্চ
✑বাজরিগার
✑ইলেক্টাস
✑রেড লরি
✑ডাভ 
✑ম্যাকাউ
✑কাইফ প্যারট
✑গ্রে গ্রিন সিনামন টারকুইজিন
✑রেড হেড অপলাইন টারকুইজিন
✑চ্যাটারি লরি
✑আলবিনো রিন
✑প্রিন্স অব অয়েলস
✑ভায়োলেট লেক লরি
✑সান কৌনর 
✑মুলাক্কান কাকাতুয়া
✑জাভা   ইত্যাদি

কিভাবে পাখির ব্যবসা শুরু করবেন...

প্রথমে স্থান নির্বাচন করবেন। বারান্দা, বাসার ছাদ বা বাড়ির উঠানে কোথায় পাখি পালন করবেন সে স্থান ঠিক করবেন। স্থান নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার বিষয়টা খেয়াল রাখবেন। পাখি পালনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এগুলো চুরি হয়ে যায়। বারান্দা, উঠান এমনকি ছাদ বলেন প্রায় সময়ই পাখি চুরির খবর পাওয়া যায়। এমনকি অনেকের লাখ লাখ টাকার পাখি চুরি হওয়ার পর তাদের রাস্তায় বসার উপক্রম হয়েছে। 
যদি বারান্দায় পাখি পালন করেন তাহলে খোলামেলা বারান্দা নির্বাচন করবেন। তারপর কোন ধরনের পাখি দিয়ে শুরু করবেন তা ঠিক করবেন। সেগুলোর জন্য কি কি খাদ্য প্রয়োজন তা জেনে নিবেন। কি ধরনের খাচা লাগবে তাও জেনে নিবেন। তারপর জন্য খাচা ও খাবার কিনে আনবেন। কিছু অতিরিক্ত খাচা আনতে ভুলবেন না। কারন পাখি খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে। এগুলোর সেট আপ সম্পন্ন করে পাখি কিনে আনবেন। প্রথমে বেশি টাকা বিনিয়োগ না করে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা উচিত। এই টাকার দিয়েই প্রথমে খাচা ক্রয় করা, পাখি ও খাবারসহ যাবতীয় সকল কেনাকাটা করতে হবে। 


কিভাবে, কোথায় বিক্রি করবেন...

কোথায় বিক্রি করবেন এটা আপনার মার্কেটিং এর উপর নির্ভর করবে। অনেকে তাদের বন্ধু, আত্মীয় অথবা পরিচিতদের মাঝেই বিক্রি করে থাকেন। এর জন্যও মার্কেটিং এর প্রয়োজন হয়। পরিচিতজনদের মধ্যে পাখি পালনের জন্য একটা আকর্ষন তৈরি করতে হয়। পাখির অনেক মার্কেট আছে। বিভিন্ন বাজারে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পাখি বিক্রি করা হয়। খোঁজ নিয়ে সেগুলোতেও বিক্রি করতে পারেন। যেখান থেকে পাখি কিনবেন তাদের থেকে মোটামুটি একটা ধারনা পাবেন যে কোথায় পাখি বিক্রি করবেন। আবার সোশিয়াল সাইটেও কাস্টমার পেতে পারেন। সেখানে পোস্ট বুস্টিং করতে হবে। ফেসবুকে পাখি ক্রয়বিক্রয়ের অনেক গ্রুপ আছে। সেখানে জয়েন থাকবেন। এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন। আবার আপনি চাইলে এই ওয়েবসাইটেও পাখি বিক্রি করতে পারেন। তার জন্য আপনাকে এখানে একটি সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এখানে কেনাবেচা করতে কোন প্রকার ফি বা কমিশন দিতে হবে না। 

পাখির দেখাশুনা কিভাবে করবেন...

পাখির ব্যবসায় আপনার লাভ মূলত নতুন যে বাচ্চা হবে সেগুলো বিক্রি করেই হবে। তাই বাচ্চাগুলোর প্রতি যত্নশীল থাকবেন। কোন পাখির যত্ন কিভাবে নিতে হবে তা জেনে নিবেন। এইসব সম্পর্কে ইউটিউবে নানা ভিডিও পাবেন। সেগুলো থেকেই মোটামোটি আইডিয়া পেয়ে যাবেন কিভাবে কোন পাখির যত্ন নিতে হবে। কোন পাখিকে কখন কি ঔষধ খাওয়াতে হবে তা জেনে রাখবেন। আর নিরাপত্তার বিষয়টা অবশ্যই খেয়ালে রাখবেন। অন্যান্য পাখির পাশাপাশি কবুতর পালন করবেন। কবুতর বছরে ১২ থেকে ১৩ জোড়া পর্যন্ত বাচ্চা দেয়। পাখি খাচার বাইরে ছাড়বেন না। কবুতরও অনেক সময় ছাড়লে আর ফেরত আসেনা। 



বর্তমানে এমন অনেক মানুষ আছে যারা শুরু করেছিল ৫-৬ হাজার টাকার পাখি দিয়ে। এখন তাদের খামারে কোটি টাকার পাখি এবং মাসিক আয় ৫-৬ লাখ টাকা। এমন মানুষের সংখা কিন্তু অনেক, হাতে গোনা কয়েকজন নয়।  

আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। 
ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
ছাত্রদের জন্য ব্যবসা

কোনো ব্যবসা শুরু করার জন্য ছাত্রজীবন দারুণ একটি সময়। কিন্তু এ সময়ে চাইলেই যেকোনো ব্যবসা শুরু করা যায় না। এর কারন হল পুঁজি এবং সময়ের অভাব।ছাত্রাবস্থায় কোনো ব্যবসা শুরু করতে গেলে এসব বিষয় মাথায় রাখতে হয়। আজ আমরা কয়েকটি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো ছাত্ররা খুব সহজেই করতে পারবে। আজকের আইডিয়াগুলো ছাত্রদের জন্য ব্যবসা এর আইডিয়া হিসেবে খুবই কার্যকরী। ফ্রিল্যান্সিং বা পার্টটাইম জব নয় আজকের আইডিয়া গুলো মূলত ব্যবসার আইডিয়া। ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া আর্টিকেলটি পড়ে আসতে পারেন। ছাত্ররা সাধারণত ব্যবসা হিসেবে পার্টটাইম ব্যবসার আইডিয়া খুজে থাকে।


১. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল কোনো কোম্পানির পন্য আপনি নিজে মার্কেটিং করে বিক্রি করবেন, পন্য গ্রাহকের কাছে পৌছানো, পরিবহন খরচ ইত্যাদি কোম্পানি বহন করবে। শেষে কোম্পানি আপনাকে কমিশন দিবে। এ কমিশনের পরিমাণ আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। পন্যের মুল্যের একটি অংশ কমিশন হিসেবে আপনাকে দেওয়া হবে। একটু সহজ ভাষায় ব্যাখা করি...

মনে করেন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক বিক্রি করে। এখন তাদের সাথে আপনি একটি চুক্তি করলেন যে তাদেরকে আপনি কাস্টমার এনে দিবেন, বিনিময়ে আপনার এনে দেওয়া কাস্টমার থেকে যে লাভ হবে তার অর্ধেক বা একটি অংশ আপনাকে দিবে। এখন আপনি যে কাস্টমার আনবেন তার জন্য আপনাকে নিজে মার্কেটিং করতে হবে। অর্থাৎ বিজ্ঞাপন বা অন্য যে কোনো উপায়ে কাস্টমার আনবেন। অনেকটা দালালির মতো। এই কাজটি মূলত অনলাইনে হয়। অনলাইনে তারা আপনাকে পন্য অর্ডারের জন্য একটি লিংক প্রদান করবে। আপনি ফেসবুক বা যেকোনো সাইটে বুস্টিং করে অথবা মেসেজ করে যেভাবেই হোক কাস্টমার ম্যানেজ করবেন। তাদেরকে ঐ লিংকটিতে গিয়ে প্রোডাক্ট কিনতে বলবেন। তারপর যখন তারা প্রোডাক্ট কিনবে তখন আপনি লভ্যাংশ পেয়ে যাবেন।


এবার আসি, কোথায় আপনি এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের কাজ পাবেন?


বিভিন্ন অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম রয়েছে যারা প্রায়সময়ই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য নিয়োগ দেয় এর মধ্যে  টেন মিনিট স্কুলও আছে। অন্যান্য দেশে বিখ্যাত অনলাইন মার্কেট আমজনেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সুযোগ রয়েছে। আশা করা যায় বাংলাদেশেও খুব শীঘ্রই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে অন্যান্য আরও অনেক সাইটে আপনি এ কাজ পাবেন।



২. চা পাতার ব্যবসা



ছাত্রদের ব্যবসা হিসেবে চা পাতার ব্যবসার আইডিয়াটি খুবই লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া। তবে এই ব্যবসায় ধৈর্যশীলের পরিচয় দিতে হয়। প্রথমেই বলে নেই একজন ছাত্র হিসেবে কেনো এই চা পাতার ব্যবসা করবেন।


চা পাতার ব্যবসাটি ছাত্রদের জন্য দারুণ একটি ব্যবসা এর প্রধান কারণ হল এ ব্যবসা অল্প পুঁজি দিয়েই শুরু করা যায়। চা পাতার ব্যবসা করতে ঠিক কত টাকা প্রয়োজন হবে তার ধারণা পেতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

চা পাতার ব্যবসাটি ছাত্রদের জন্য ব্যবসা হওয়ার আরেকটি বড় কারন হল এটি একটি পার্টটাইম ব্যবসা। দৈনিক ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় দিলেই চলবে।


আপনার এলাকায় অনেকগুলো চায়ের দোকান আছে। এগুলোতে দোকানভেদে  দৈনিক ২৫০ গ্রাম থেকে ২ কেজি চা পাতার চাহিদা থাকে। চা-পাতার দাম কেজিপ্রতি ২৩০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আরও দামি চা পাতা অবশ্যই আছে কিন্তু দোকানগুলোতে সেগুলো চলেনা। সাধারণত ২৩০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা দামের চা পাতার চাহিদাই বেশি। চা পাতার বিশেষ ধরন আছে। আবার এগুলোর  আলাদা আলাদা নামও আছে। এইসব নিয়ে পড়াশোনা করে নিবেন। এ বিষয় নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে  বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। চাইলে পড়ে আসতে পারেন।


এবার আসি কিভাবে এ ব্যবসাটি করবেন।

প্রথমে খাতা কলম নিয়ে বসতে হবে। নিজ এলাকায় বা তার আশেপাশে মোট কয়টি চায়ের দোকান আছে তার একটি হিসাব করে নিতে হবে। তারপর এরমধ্যে আপনার পরিচিত দোকান কয়টি তার একটি হিসাব করে নিন। কারন পরিচিত দোকানগুলোতে ব্যবসা করাটা সহজ হবে। যদি পরিচিত কোনো দোকান না থাকে সমস্যা নেই।

একদিন সময় সময় করে একটা একটা করে দোকানে যাবেন। তাদেরকে বলবেন আপনার কাছ থেকে চা পাতা নিতে। আপনি অল্পদামে ভালো মানের চা পাতা দিবেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে বিশ্বস্ততার পরিচয় দিতে হবে।


এভাবে হয়ত দোকানদারেরা প্রথমে আপনাকে তেমন একটা পাত্তা দিবে না। কয়েকদিন কয়েকটি দোকান ঘুরার পর আপনার মোটামুটি এক্সপেরিয়েন্স হলে দোকানদারদের বুঝাতে আরও সহজ হবে। প্রথম সপ্তাহে যে করেই হোক অন্তত ১০টি দোকান ম্যানেজ করবেন। এ ভাবে প্রথম মাসে যে করেই হোক ৩০টি দোকান ম্যানেজ করবেন, যেখানে আপনি চা-পাতা সাপ্লাই করবেন। এই ৩০টা দোকানে যদি দৈনিক ১২ কেজি চা পাতার চাহিদা থাকে তাহলে মাসে ৩৬০ কেজি চা-পাতা সরবরাহ করতে পারবেন। প্রতি কেজি চা-পাতায় আপনি ১৫ টাকা করে লাভ করলে ১৫×৩৬০=৫৪০০৳ অর্থাৎ ৫৪০০ টাকা আয় হবে ২য় মাস থেকেই। পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে এ আয় মোটামুটি ভাল।


আপনি যদি নতুন করে দোকান ঠিক না করেন তাহলে কিন্তু ব্যবসা কমতে থাকবে। প্রতি মাসেই নতুন নতুন দোকান ম্যানেজ করবেন। আপনি চাইলে এ ব্যবসাকে ফুলটাইম ব্যবসা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন। একটি সাইকেল হলে দোকানে দোকানে যাওয়াটা খুব সহজ হবে।


এবার আসি চা-পাতা কিনবেন কোথা থেকে? আপনার কাছাকাছি কোনো পাইকারি বাজার থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন। ঢাকায় চা পাতার পাইকারি বাজার যেগুলো আছে, তার মধ্যে কাপ্তান বাজার আর চকবাজারের মৌলভীবাজার উল্লেখযোগ্য। আর আমাদের ওয়েবসাইট eibbuy.com এ অনেক পাইকারি চা-পাতা বিক্রেতা আছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।



৩.অনলাইনে গার্মেন্টস আইটেম বিক্রি


ছাত্রদের জন্য ব্যবসা হিসেবে অনলাইনে গার্মেন্টস আইটেম বিক্রির আইডিয়াটি চমৎকার একটি ব্যবসার আইডিয়া। অফলাইনে কোনো দোকান না থাকলেও কোনো সমস্যা হবে না। ফেসবুক ইন্সটাগ্রাম পেইজ থেকেই ব্যবসা করা যাবে।


গার্মেন্টস আইটেম গুলোর মধ্যে টি শার্ট, পলো শার্ট, জার্সি, ট্রাউজার, শার্ট, জিন্সের প্যান্ট,  আন্ডারওয়ার ইত্যাদি আইটেমগুলোই অনলাইনে সহজে বিক্রি করা যায়। মহিলাদের পোষাক যেমন থ্রি পিস, শাড়ি এবং বাচ্চাদের পোষাকের ব্যবসাও অনলাইনে করা যায়।


মনে করুন আপনি অনলাইনে থ্রি পিস বিক্রি করবেন। এর জন্য প্রথমে ১০-১৫টি থ্রি-পিস পাইকারি কিনে আনবেন। ৫-৮ হাজার টাকায় হয়ে যাবে। একটি ফেসবুক পেইজ খুলবেন। সেখানে এই থ্রিপিসগুলোর ছবি, কোয়ালিটি এবং দাম পোস্ট করবেন। কয়েকদিন টানা পোস্ট করতে থাকবেন। এইসব পোস্ট থেকে কাস্টমার আসার সম্ভাবনা কম। তাই আপনাকে পোস্ট বুস্ট করতে হবে। ১০০০ থেকে ১৫০০ হাজার টাকা খরচ করে পোস্ট বুস্ট করলে কাস্টমার পেতে শুরু করবেন।

এভাবে নিয়মিত প্রোডাক্ট এর আপডেট শেয়ার করতে হবে। লাইভে আসতে হবে নিয়মিত।


ছাত্রদের জন্য খুব লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া এই অনলাইনে গার্মেন্টস আইটেম বিক্রি করা।


সহজে পাইকারি পন্য পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট eibbuy.com ।  এখানে চাইলে পন্য বিক্রিও করতে পারেন। eibbuy.com এ পাইকারি পন্যের পাশাপাশি খুচরা পন্যও ক্রয়-বিক্রয় করা যায়।


৪. অনলাইনে রিসেলিং


ছাত্রদের জন্য ব্যবসা হিসেবে রিসেলিং ব্যবসা চমৎকার একটি ব্যবসা। এটি পার্টটাইম একটি ব্যবসা। রিসেলিং হল কোনো পন্য ক্রয় করে তা পুনরায় বিক্রি করা। অর্থাৎ কোনো পন্য কমদামে ক্রয় করে ক্রয়মূল্য থেকে বেশি দামে বিক্রি করাই হল রিসেলিং ব্যবসা। বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য দারুণ একটি পার্টটাইম ব্যবসা হল রিসেলিং ব্যবসা। রিসেলিং ব্যবসায় আপনার পন্য উৎপাদনের কোনো ঝামেলা নেই। শুধু তাই নয় পন্য মজুদ রাখারও ঝামেলা নেই। আর এ ব্যবসা শুরু করতে অল্প কিছু টাকা পুঁজি প্রয়োজন হতে পারে। পার্টটাইম ব্যবসায় প্রথমেই বেশি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ রিসেলিং ব্যবসায় অল্প টাকা ইনভেস্ট করেই আপনি শুরু করতে পারবেন। আপনি প্রথমে কোনো পন্য ক্রয় করে আপনার নিজের ফেসবুক পেইজ, ইনস্টাগ্রাম অথবা অন্যান্য সাইটে ঐ পন্যের প্রচার করবেন। তারপর অর্ডার আসলে যাদের থেকে পন্য ক্রয় করেছেন তাদের থেকে পন্য গ্রাহকের কাছে পৌছে দিবেন। এই পুরো পক্রিয়াটিকে ড্রপ শিপিং বলে। রিসেলিং ব্যবসা করতে আপনাকে একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা লাগতে পারে। আবার রিসেলিং ব্যবসায় আপনি একাধিক ধরনের পন্যও বিক্রি করতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি বিভিন্ন ধরনের পোষাক রিসেল করেন। পোষাকের পাশাপাশি আপনি ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। যারা আপনার সাইটে পোষাক কিনার জন্য আসবে তারা যখন জুতা ইত্যাদি দেখবে তখন সেগুলোও কিনতে পারে। এতে করে আপনি আরও লাভ করতে পারবেন। পার্টটাইম ব্যবসা বা ছাত্রদের জন্য ব্যবসা হিসেবে রিসেলিং ব্যবসা কিন্তু মন্দ নয়। 



5. গিফট আইটেম বিক্রি


আপনি ব্যবসা করতে চান কিন্তু আপনি একজন ছাত্র এবং আপনার কাছে পুঁজি নেই তাহলে আপনার জন্য এই আইডিয়া। এটা একপ্রকার পার্ট টাইম ব্যবসার আইডিয়া কারন এই ব্যবসায় বেশি সময়ের প্রয়োজন হবে না।

গিফট আইটেম বলতে হাতে তৈরি কোনো শো-পিস বা গিফট বক্স বুঝানো হয়েছে। বিভিন্ন কালারের কাগজ দিয়ে গিফট বক্স বানান যায়। শোপিসের চাহিদাও কম নয়। পুতি দিয়ে বিভিন্ন ফল, ফুল, টিস্যুবক্স তৈরি করা যায়। আপনি যদি নিজে না বানাতে পারেন তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। আপনার অন্যান্য ক্লাসমেটদের থেকে অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন। ইউটিউবে গিফট বক্স, শো-পিস তৈরির বিভিন্ন ভিডিও রয়েছে সেগুলো থেকে শিখে নিতে পারেন। 

এবার আসি কিভাবে এই ব্যবসা শুরু করবেন………

প্রথমে ২-৪টি স্যাম্পল বানিয়ে নিবেন। এগুলোর ছবি তুলে ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে আপলোড দিবেন। সেখান থেকে আপনি অনেক কাস্টমার পাবেন। প্রয়োজনে পোস্ট বুস্ট করবেন। আর কিভাবে আপনি এগুলো তৈরি করেন সেটা ভিডিও করে ইউটিউব ফেসবুকে আপলোড করে সেখান থেকেও আয় করতে পারেন। পরিচিতজনদের কাছে জানাবেন যে আপনি এই ব্যবসা করেন। তাদের থেকেও আপনি অর্ডার পেয়ে যেতে পারেন। আর পরিচিতজনদের কাছ থেকে টাকা নিতে লজ্জা পাবেন না।  আপনি চাইলে আপনার তৈরি জিনিসের বিজ্ঞাপন আমাদের এই ওয়েবসাইটে দিতে পারেন। এখানে বিজ্ঞাপন দিতে কোনো প্রকার ফি দিতে হয়না। 



আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।

ধন্যবাদ। 


বিস্তারিত
টি শার্টের ব্যবসা

টি শার্ট এর ব্যবসা বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। আমরা সকলেই জানি যে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড়। গার্মেন্টস শিল্পের জগতে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় একটি দেশ। যার কারণে বাংলাদেশের মানুষ গার্মেন্টস আইটেম নিয়ে ব্যবসা করতে বেশি আগ্রহী। আর গার্মেন্টস আইটেমগুলোর মধ্যে টি শার্ট একটি উল্লেখযোগ্য আইটেম। সুতরাং টি শার্ট এর ব্যবসা খুব লাভজনক একটি ব্যবসা। তবে বর্তমান সময়ে টি শার্টের ব্যবসা করতে নেমে লোকসান করে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। আজ আমরা আলোচনা করব টি শার্ট ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন? কিভাবে অন্যদের থেকে ভিন্ন ভাবে থেকে টিকে থাকবেন? এ ব্যবসায় কিভাবে লোকসান হতে পারে? লোকসান থেকে বাঁচার উপায় কি? কত টাকা পুঁজি হলে টি শার্টের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন?

প্রথমেই আসি কিভাবে টি শার্ট ব্যবসা শুরু করবেন তা নিয়ে। স্টক লট বা পাইকারি ক্রয় করে পাইকারি বা খুচরা আকারে অনলাইন অথবা অফলাইনে বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথমে টি শার্ট ক্রয় করার পর সেগুলো মডিফাই করে নিতে পারেন।
আবার আপনি নিজেই অর্ডার দিয়ে গার্মেন্টস থেকে টি শার্ট বানিয়ে নিতে পারেন। তবে প্রথমে নিজে অর্ডার দিয়ে না বানানোই ভালো।
আপনি সলিড কালার অর্থাৎ এক কালারের টি শার্ট কিনে সেগুলো প্রিন্ট করে বিক্রি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে স্টক লটের টি শার্ট কিনাটাই ভালো হবে। তবে স্টক লটের পন্য ক্রয় করার আগে দেখে নিবেন সেগুলোর কত পার্সেন্ট পন্য ভালো। কারন স্টক লটের পন্যে সমস্যা থাকে। তবে সব পন্যে সমস্যা থাকে না। এটাই আগে দেখে নিবেন যে কি পরিমাণ পন্য ভালো আছে। আবার কখনও স্টক লটে ১০০% এক্সপোর্ট কোয়ালিটি পন্য পাওয়া যায়। তবে দাম একটু বেশি পড়ে। যাই হোক দেখে বুঝে টি শার্ট কিনবেন। তারপর আপনি চাইলে সেগুলো খুচরা বা পাইকারিভাবে বিক্রি করতে পারেন। আবার প্রিন্ট করেও বিক্রি করতে পারেন। স্টক লট কিনার পর আপনি যদি আয়রন করে সুন্দর করে প্যাকেট করেন তাহলে টি শার্টের দাম একটু বেড়ে যাবে।

প্রথম আপনি ২ রকম টি শার্ট দিয়ে শুরু করতে পারেন। একটা হল প্রিন্টেড অর্থাৎ প্রিন্ট সহ টি শার্ট আর আরেকটি হল সলিড কালার অর্থাৎ প্রিন্ট ছাড়া এক কালারের টি শার্ট। আর সলিড কালার টি শার্টের মধ্যে সাদা আর নেভি ব্লু রঙের টি শার্ট নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এগুলোর চাহিদা বেশি।  বাংলাদেশে প্রিন্টেড টি শার্টের চাহিদা প্রচুর। তাই আপনি প্রিন্টেড টি শার্টের ব্যবসা করতে পারেন।

আপনি প্রথম ২০০ প্রিন্টেড টি শার্ট কিনবেন। এগুলো ৮০ থেকে ৮৫ টাকা/পিস দরে পেয়ে যাবেন। আর এগুলো ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করবেন। সলিড কালার টি শার্ট এর দাম প্রিন্টেড টি শার্টের দাম থেকে কম থাকে। যেমন সাদা সলিড কালার টি শার্ট এর দাম ৪৫ টাকা থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। অন্যান্য কালারের দাম একটু বেশি।


এবার আসি টি শার্ট ব্যবসা শুরু করতে কি পরিমান পুঁজি প্রয়োজন।
টি শার্টের ব্যবসা সাধারণত ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা হলেই শুরু করতে পারবেন। আপনি যদি চান  ৫-৬ হাজার টাকায়ও টি শার্টের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আসলে টি শার্ট ব্যবসায় পুঁজির পরিমান নির্ভর করে আপনার ব্যবসার পরিধির উপর। আপনি যদি পুরো আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে বুঝতে পারবেন কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হতে পারে।


কোথা থেকে টি শার্ট কিনবেন?


টি শার্টের পাইকারি মার্কেট হিসেবে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া মার্কেট মোটামুটি বিখ্যাত। ফুলাবাড়িয়ার সিটি প্লাজা ( ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ২) এর ২য় তলায় অনেকগুলো টি শার্টের দোকান পাবেন। এছাড়াও গুলিস্তান আরও অনেক টি শার্টের পাইকারি মার্কেট পাবেন। টি শার্টের পাইকারি মার্কেট হিসেবে বঙ্গবাজারের খ্যাতি কম নয়। আবার নিউমার্কেটেও কম দামে টি শার্ট বিক্রি করা হয়।
টঙ্গীবাজারেও টি শার্টের পাইকারি মার্কেট আছে। সেখানে টি শার্টের হোলসেল মার্কেটও আছে। তবে টঙ্গিতে যদি এক্সপোর্ট কোয়ালিটির টি শার্ট খুঁজেন তাহলে আশরাফ সেতু শপিং কমপ্লেক্স এ যেতে পারেন। নারায়ণগঞ্জে ২নং রেইলগেটে পাইকারি টি শার্ট এর  অনেক দোকান আছে। আপনি যদি আরও কমদামে টি শার্ট চান তাহলে নারায়নগঞ্জের রিভারভিউ মার্কেটে যেতে পারেন।

আপনার যদি এসব স্থানে যাওয়ার ঝামেলা পছন্দ না হয় তাহলে আমাদের eibbuy.com ইবাই ডট কমে টি শার্টের পাইকারি সেলার/হোল সেলার পেয়ে যাবেন।



এবার আসি টি শার্ট ব্যবসায় কিভাবে লোকসান হয়...

টি শার্টের ব্যবসায় লোকসানের অন্যতম একটি কারন হল কোন ধরনের পন্যের চাহিদা কখন বেশি সেটা বুঝতে না পারা। যার কারনে এক ধরনের টি শার্ট কেনার পর দেখা যায় বাজারে ঐ টি শার্টের চাহিদা তেমন একটা নেই। তখন লোকসান হয়। একেক সময়ে একেক রঙের টি শার্টের চাহিদা বেশি থাকে। আবার রঙ, প্রিন্ট এসবের চাহিদা অঞ্চল ভেদে ভিন্ন হয়।

এ ধরনের লোকসান এড়ানোর জন্য বাজারের চাহিদা সময়মত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রথম প্রথম একটু ভুল হতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞতার সাথে এ ধরনের লোকসানের সম্ভাবনা কমে।

টি শার্ট ব্যবসায় আরেক ধরনের লোকসান হতে পারে। যেটা কাপড়ের কোয়ালিটি না বুঝার কারনে।  তাই কাপড়ের কোয়ালিটি নিয়ে একটু পড়াশোনা করে নিতে হবে। কাপড়ের মান নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে বেশ কয়েকটি আর্টিকেল রয়েছে, পড়ে আসতে পারেন।


যদি টি শার্ট ব্যবসায় নেমে পড়েন তাহলে ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের পরিচিতি বাড়াবেন। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউবসহ অন্যান্য সোশ্যাল সাইটে প্রচার চালিয়ে যাবেন। পাশাপাশি eibbuy.com এ একটি seller  account খুলে নিবেন। eibbuy.com এ আপনি প্রচুর কাস্টমার পাবেন। বর্তমানে ইবাই ডট কমে পাইকারি পন্য বিক্রির পাশাপাশি খুচরা পন্যও বিক্রি করা যায়। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বুস্ট করতে পারেন। বিভিন্ন ইভেন্টে টি শার্ট সাপ্লাই দিতে হবে। তবে এর জন্য আপনার পরিচিতি মহল অনেক বড় করতে হবে।



ছাত্রাবস্থায় টি শার্টের ব্যবসা শুরু করতে চাইলে সেটা সম্ভব। আপনি প্রথমে কোনো ইভেন্টকে টার্গেট করতে পারেন। প্রায় সময় কোনো রেলি, পার্টি বা গেট টুগেদার পার্টিতে সবাই এক রকমের টি শার্ট পরিধান করে। এসকল জায়গায় আপনি টি শার্টের সেল দিবেন। যদি টি শার্টে প্রিন্ট করানোর প্রয়োজন হয়, করিয়ে দিবেন। এ ক্ষেত্রে টি শার্টে প্রিন্ট করে এমন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে নিবেন। প্রতি টি শার্টে খরচ কেমন পড়বে সেটাও জেনে নিবেন। সাধারণত সংখ্যা যত বেশি হবে টি শার্ট প্রতি প্রিন্ট খরচও সে হারে কমবে। একটা আইডিয়া দিয়ে রাখি। টি শার্ট প্রিন্ট করতে সাধারণভাবে প্রতি পিসে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত হয়। তবে যদি টি শার্টের পরিমান কম হয় তাহলে খরচ আরও বাড়বে। 

ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি বিষয় না বললেই নয়, বাকিতে পন্য বিক্রি করবেন না। বাকিতে পন্য বিক্রি করলে প্রচুর টাকা কাস্টমারদের কাছে আটকে যায়। আপন মানুষদের কাছেও চেষ্টা করবেন নগদে পন্য বিক্রি করতে।

আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।


বিস্তারিত
Alibaba & Import Export Expert

আমদানি,রপ্তানি,আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন।

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2021 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft