eibbuy.com
৫ টি জনপ্রিয় পার্টটাইম ব্যবসার আইডিয়া
পার্টটাইম ব্যবসা কি? আসলে পার্টটাইম ব্যবসা হচ্ছে, আপনি যদি  কোনো কাজ বা ব্যবসা করেন এবং পাশাপাশি আপনি অন্য একটি ব্যবসা করেন তাহলে সে ব্যবসাই হবে পার্টটাইম ব্যবসা। আপনার মূল কাজ থেকে পার্টটাইম ব্যবসায় বেশি আয় হতে পারে, কমও হতে পারে। আপনি ছাত্রাবস্থায় পার্টটাইম ব্যবসা করতে পারেন। আবার চাকরির পাশাপাশি পার্টটাইম ব্যবসা করতে পারেন। যেকোনো ব্যবসা পার্টটাইম ভিত্তিতে করতে পারেন। তবে আপনার পুঁজি, সুযোগ এবং ঝুঁকি নেওয়ার উপর নির্ভর করবে আপনি কোন ব্যবসাটি করবেন।  আজকে আমরা আলোচনা করব, কোন কোন ব্যবসা পার্টটাইম ভিত্তিতে করতে পারবেন? কিভাবে পার্টটাইম ব্যবসা শুরু করাবেন? এবং পার্টটাইম ব্যবসা করার জন্য আপনার কোন বিষয়ের উপর দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন হবে?

প্রথমেই বলে রাখি আবেগের তাড়ায় শুধু পার্টটাইম ব্যবসা কেনো, যেকোনো ব্যবসায়ই শুরু করলে টিকতে পারবেন না। সুতরাং বুঝে শুনে ব্যবসা শুরু করবেন। এবং দেখে নিবেন যে, পার্টটাইম ব্যবসাটিতে আপনি কি পরিমাণ সময় দিতে পারবেন এবং সে সময় কি যথেষ্ট হবে কিনা? কারন অনেকেই পার্টটাইম ব্যবসা শুরু করে সেখানে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। শেষে  লোকসান গুনতে হয়।
এবার আসি কয়েকটি পার্টটাইম ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে। এখানে পাঁচটি পার্টটাইম ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেছি।

১. কোচিং সেন্টার
যারা ছাত্র তাদের জন্য ভালো একটি আইডিয়া হল কোচিং সেন্টার দেওয়া। অথবা কোনো কোচিং সেন্টারে পড়ানো। যারা ছাত্র নন তারাও কোচিং প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজে কোচিং প্রতিষ্ঠা করাই ভাল হবে। কোচিং কয়েক ভাবে দিতে পারেন। প্রথমত আপনার যদি অনেক টাকা পুঁজি থাকে তাহলে বাসা ভাড়া নিয়ে ফার্নিচার কিনে কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এককভাবে কোচিং সেন্টার দিতে পারেন। শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদেরকে বেশি অগ্রাধিকার দিবেন। এতে আরেকজন ছাত্রের পার্টটাইম একটি কাজ হল। আর ছাত্রদের চাহিদা তেমন একটা বেশি নয় ফলে আপনারও কিছু টাকা সাশ্রয় হল। আর একজন ছাত্র যদি শিক্ষক হিসেবে থাকে তাহলে তার আর কোচিংয়ের ছাত্রের কমিউনিকেশনটা খুব ভাল হবে। আর ছাত্রদের সাথে শিক্ষকদের কমিউনিকেশন ভালো হলে সেটা ছাত্র এবং কোচিং উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। আর অবশ্যই দু একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দিবেন। আর কোচিংয়ে কি সংখ্যক ছাত্র পাবেন তা কোচিংয়ের অবস্থান এবং প্রচারের উপর নির্ভর করবে। সুতরাং এমন স্থানে কোচিং দিবেন যেখানে ছাত্রদের যাতায়াত করতে সুবিধা হবে। আর স্কুলের কলেজের আশেপাশেই কোচিং সেন্টার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রচারের ক্ষেত্রে অভিনব কিছু করার চেষ্টা করবেন। তারপর যাদের পুঁজি তেমন একটা নেই তারাও কোচিং সেন্টার দিতে পারেন। তারা একটি-দুটি রুম ভাড়া নিয়ে অথবা শেয়ারে রুম ভাড়া নিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে বিজ্ঞাপন অবশ্যই প্রচার করতে হবে। কোচিং টিকিয়ে রাখতে হলে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার মন ধরে রাখতে হবে। ভালো পড়াশোনার পাশাপাশি সকল শিক্ষকদেরকে ছাত্র এবং অভিভাবকদের সাথে ভাল ব্যবহার করতে হবে। আর কোনো প্রকার অবৈধ পথ অবলম্বন করবেন না। এতে সাময়িক সুবিধা পেলেও পরবর্তীতে অপূরনীয় ক্ষতি হবে।

২. চা পাতার ব্যবসা

পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে চা পাতার ব্যবসা খুব লাভজনক একটি আইডিয়া। তবে এ ব্যবসা করতে আপনাকে প্রচুর পরিশ্রমী হতে হবে। তার সাথে ধৈর্যশীলও হতে হবে। এ পার্টটাইম ব্যবসা করতে বেশি টাকার দরকার হবে না। অল্প টাকায় ভাল পার্টটাইম  ব্যবসাও বলতে পারেন। এ ব্যবসায় আপনার গ্রাহক হল চায়ের দোকানদার। বুঝতেই পারছেন নিজ এলাকায় এই ব্যবসাটি করা সুবিধাজনক হবে। এই ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে আপনার এলাকার চায়ের দোকানদারদের সাথে কথা বলে নিতে হবে। তাদের থেকে জেনে নিবেন তাদের দৈনিক কতটুকু চা পাতা প্রয়োজন হয়। এরকম বেশ কয়েকটি দোকান ঠিক করবেন যারা আপনার কাছ থেকেই চা পাতা কিনবে। এজন্য আপনাকে অবশ্যই ভাল মানের চা পাতা একটু কম দামেই বিক্রি করতে হবে। প্রথমে লাভ কম হলেও পরে পুষিয়ে নিতে পারবেন। প্রথমে আপনি অন্তত ১৫টি দোকান ঠিক করবেন যেখানে আপনি চা পাতা বিক্রি করবেন।
ধরুন দোকান প্রতি গড়ে মাসিক চা পাতা প্রয়োজন ১৫ কেজি করে। তাহলে ১৫টি দোকানে মাসে আপনাকে ২২৫কেজি চা পাতা সরবরাহ করতে হবে। আর সবমিলিয়ে আপনি যদি কেজিপ্রতি ২০ টাকা লাভ করেন, তাহলে আপনার মাস শেষে লাভ থাকে ৪৫০০টাকা। পার্টটাইম ব্যবসায় প্রথম মাসে ৪৫০০টাকা লাভ মোটামুটি ভাল। আর অবশ্যই প্রতি সপ্তাহে নতুন কাস্টমার বাড়াবেন। এতে আপনার পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং লাভের পরিমানও বাড়বে। পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে চা পাতার ব্যবসা লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া।

৩. অনলাইনে রিসেলিং

পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে রিসেলিং ব্যবসা চমৎকার একটি ব্যবসা। রিসেলিং হল কোনো পন্য ক্রয় করে তা পুনরায় বিক্রি করা। অর্থাৎ কোনো পন্য কমদামে ক্রয় করে ক্রয়মূল্য থেকে বেশি দামে বিক্রি করাই হল রিসেলিং ব্যবসা। বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য দারুণ একটি পার্টটাইম ব্যবসা হল রিসেলিং ব্যবসা। রিসেলিং ব্যবসায় আপনার পন্য উৎপাদনের কোনো ঝামেলা নেই। শুধু তাই নয় পন্য মজুদ রাখারও ঝামেলা নেই। আর এ ব্যবসা শুরু করতে অল্প কিছু টাকা পুঁজি প্রয়োজন হতে পারে। পার্টটাইম ব্যবসায় প্রথমেই বেশি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ রিসেলিং ব্যবসায় অল্প টাকা ইনভেস্ট করেই আপনি শুরু করতে পারবেন। আপনি প্রথমে কোনো পন্য ক্রয় করে আপনার নিজের ফেসবুক পেইজ, ইনস্টাগ্রাম অথবা অন্যান্য সাইটে ঐ পন্যের প্রচার করবেন। তারপর অর্ডার আসলে যাদের থেকে পন্য ক্রয় করেছেন তাদের থেকে পন্য গ্রাহকের কাছে পৌছে দিবেন। এই পুরো পক্রিয়াটিকে ড্রপ শিপিং বলে। রিসেলিং ব্যবসা করতে আপনাকে একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা লাগতে পারে। আবার রিসেলিং ব্যবসায় আপনি একাধিক ধরনের পন্যও বিক্রি করতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি বিভিন্ন ধরনের পোষাক রিসেল করেন। পোষাকের পাশাপাশি আপনি ব্যাগ, জুতা ইত্যাদি বিক্রি করতে পারেন। যারা আপনার সাইটে পোষাক কিনার জন্য আসবে তারা যখন জুতা ইত্যাদি দেখবে তখন সেগুলোও কিনতে পারে। এতে করে আপনি আরও লাভ করতে পারবেন। পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে রিসেলিং ব্যবসা কিন্তু মন্দ নয়।

৪. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমানে পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং একটি ভাল ব্যবসার আইডিয়া। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে। কোনো কোম্পানির প্রোডাক্ট যখন আপনি নিজে মার্কেটিং করে যখন বিক্রি করবেন তখন ঐ কোম্পানি তাদের লাভের একটি অংশ আপনাকে প্রদান করবে আর এ ব্যাপারটিকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে আপনিও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি যে কোম্পানির পন্য বিক্রি করবেন তারা আপনাকে একটি লিংক দিবে যেটা ইউনিক থাকবে। আপনি ঐ পন্যের প্রচার করে আপনি গ্রাহকদেরকে ঐ লিংকে গিয়ে পন্য ক্রয় করতে বলবেন। তারপর কোম্পানি আপনার মাধ্যমে যে পন্য বিক্রি হয়েছে লাভের একটি অংশ আপনাকে দিবে। রিসেলিং ব্যবসায় কিন্তু কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ আপনাকে দিবে না। অনেকেই রিসেলিং ব্যবসা আর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংকে গুলিয়ে ফেলেন। দুটি এক নয়। রিসেলিং ব্যবসায় পন্য সরবরাহ আপনাকে করতে হবে কিন্তু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে এ দায়িত্ব কোম্পানির। বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে। সুতরাং পার্টটাইম ব্যবসা হিসেবে আপনি খুব সহজেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন।

৫. ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন। তবে সে কাজে আপনি স্বাধীন। আপনার ইচ্ছা হলে কাজ করবেন ইচ্ছা না হলে করবেন না। আপনার যে সময়ে ইচ্ছা সে সময়ে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দেওয়া।  তবে অনেকই আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিংকে গুলিয়ে ফেলেন। যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ নিজে বা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত কাউকে দিয়ে না করিয়ে অনলাইনে অন্য কাউকে দিয়ে কাজটি করায় তখন সেটি আউটসোর্সিং হবে। আউটসোর্সিংয়ে কাজ করাতে খরচ তুলনামূলক কম লাগে। আর ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ না করে চুক্তিভিত্তিকভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে অনলাইনে আমাকে কাজ দিবে কে? কেন দিবে? বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে কোনো কাজ করাতে খরচটা একটু বেশি লাগে। যেমন ধরুন আমেরিকার কেউ একজন তার প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো ডিজাইন করাবে। সেখানে স্থানীয় ডিজাইনার দিয়ে লোগোটি ডিজাইন করাতে তার প্রায় ১০০ ডলার লাগবে। কিন্তু বাংলাদেশের কেউ ঐ ডিজাইনটিই ৩০ থেকে ৫০ ডলারে করে দিবে। অর্থাৎ তার অনেক টাকা বেচে গেল বাংলাদেশের কাউকে দিয়ে করিয়ে। তাই তারা এভাবে আউটসোর্সিং করে। আপনি যেসব কাজ অনলাইনে করতে পারবেন তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তুলে ধরলাম...

১.ওয়েব ডিজাইনিং
২.ওয়েব ডেভেলপিং
৩.গ্রাফিক্স ডিজাইনিং
৪.কন্টেন্ট রাইটিং
৫.আর্টিকেল রাইটিং
৬.ডাটা এন্ট্রি
৭.সফটওয়্যার ডেভেলপিং
৮.অ্যাপ ডেভেলপিং
৯.এসইও(SEO)
১০.ডিজিটাল মার্কেটিং
১১.কপি রাইটিং
১২.ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট   ইত্যাদি।

এগুলো ছাড়াও আরও অনেক কাজ আপনি পেতে পারেন। আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করবেন। তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরুটা অনেকেই কপি রাইটিং দিয়ে শুরু করে। আপনি যদি নতুন ফ্রিল্যান্সার হন তাহলে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আপনাকেও কপি রাইটিং দিয়ে শুরু করা উচিৎ। ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে হলে আপনার অবশ্যই ভালো মানের একটি কম্পিউটার লাগবে। সাথে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। আপনার ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। কারন বেশিরভাগ সময় আপনাকে যারা কাজ দিবে তারা আপনার সাথে ইংরেজিতে যোগাযোগ করবে। আর যেসব বিষয়ের উপর আপনি কাজ করতে চান সেগুলোর উপর আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনি এরকম কাজ পাবেন। আর সেসব সাইটগুলো আপনার প্রাপ্য আয় থেকে কিছু অংশ রেখে দিবে। নিচে কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং সাইটের নাম উল্লেখ করছি....
1. www.upwork.com
2. www.fiverr.com
3. www.freelancer.com
4. www.elance.com
5. www.guru.com
6. www.99design.com
7. www.joomlalancer.com
ইত্যাদি।

উপরে উল্লেখিত সাইটে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আরও অনেক নিয়মকানুন রয়েছে সেগুলো জেনে নিবেন। যেহেতু ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে  কোনে বাধা ধরা সময় নেই তাই পার্টটাইম কাজ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং দারুণ একটি কাজ। বিশেষ করে ছাত্রদের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্ররা ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে অনায়াসেই ১০০০০ থেকে ১৫০০০ টাকা আয় করতে পারেন। এতে নিজের পড়াশোনা সহ অন্যান্য যাবতীয় খরচ নিজেই চালানো যাবে। আর ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনার অভিজ্ঞতা যত বাড়বে আয়ও তত বাড়তে থাকবে।
আজ যে ৫টি পার্টটাইম ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলো নিয়ে কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই সেটা কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।  

বিস্তারিত
কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন

উদ্যোক্তা অনেকেই হয়ে থাকেন কিন্তু সফল উদ্যোক্তা হতে পারে খুব কম ব্যাক্তি। কারন সফল উদ্যোক্তা হতে লাগে বিশেষ ধরনের কৌশল। প্রত্যেক সফল উদ্যোক্তার আছে নিজস্ব কিছু কৌশল জা দিয়ে সে সফল উদ্যোক্তা হতে পেরেছেন। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে আপনি ব্যবসা শুরু করতে চান কিন্তু বুঝতে পারছেন না যে কিভাবে কোথা থেকে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে ব্যবসা শুরু করবেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই। আজকের পোস্টে আমি দেখাবো কিভাবে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া যাবে।  

বর্তমান আমাদের দেশে অর্থনৈতিক বাস্তবতা এমন যে অধিকাংশ মানুষ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি  খুজে পায়না। আবার অনেকেই চাকরি খুঁজে পেলেও সেটা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে হয়। ফলে এসব মানুষ চান যে কারও অধীনে কাজ করার চেয়ে সফল উদ্যোক্তা হয়ে নিজেরাই নিজেদের পছন্দমত ব্যবসা করে নিজেদের ভাগ্য গড়বেন।  কারণ একজন সফল উদ্যোক্তা যখন এ ধরনের ব্যবসা শুরু করেন তখন সেখানে তার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনের লক্ষ্যে প্রতিফলিত হয়।  


একজন ব্যাক্তি সফল উদ্যোক্তা হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে নিজের আত্মবিশ্বাস, মানসিক ভাবে স্থিতিশীল, নিরলস প্রচেষ্টা, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ নিয়ে কাজ শুরু করা। তবে একজন ব্যাক্তি সফল উদ্যোক্তা হওয়ার বিশেষ কোনও মুহূর্ত নেই, নেই কোন কাল। সে যে কোন সময় শুরু করে সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন।  সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আছে নানা কৌশল আছে। আজকে সফল উদ্যোক্তা  হবার জন্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল বর্ণনা করবো । জা আপনাদের সফল উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করবে। 


১. আপনার বর্তমান অবস্থান নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট কিনা যাচাই করুন।   
একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে সবকিছু ত্যাগ করে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পিছনে ছুটতে হবে। এজন্য আপনাকে আপনার বর্তমান অবস্থা দেখতে হবে । আপনি যদি আপনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে নতুন কোন উদ্যোগ শুরু করার আগে সেটা চিন্তা ভাবনা করে নিবেন । কারন অনেকেই ভালো অবস্থান রেখে সফল উদ্যোক্তা হবার আসায় নতুন উদ্যোগ শুরু করে । ফলে তার বর্তমান চাহিদা আর উদ্যোগ থেকে আয়ের সামাঞ্জস্যতা থাকেনা। এজন্য সে পারেনা সফল উদ্যোক্তা হতে।  ফলে সে তার ব্যথতার দায় চাপায় দেশের অর্থনীতি, বন্ধু-বান্ধব বা পরিবার-পরিজনদের উপর । কিন্তু তাদের উপর দোষ নিয়ে কোনও লাভ হয়না। কারন সফল উদ্যোক্তা হতে নতুন উদ্যোগের সিদ্ধান্ত নেবার আগেই  তাকে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে চিন্তা করা দরকার ছিলো । সুতরং, আপনি যদি সফল উদ্যোক্তা হতে চান তবে উদ্যোক্তা হবার আগেই ভাবুন শুরু করবেন কিনা। শুরু করলে চালিয়ে যেতে পারবেন কিনা ?

২. সঠিক ব্যবসা নির্বাচন করা।
একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে অবশ্যই আপনাকে সঠিক ব্যবসা নির্বাচন করতে হবে। আপনাকে প্রচুর খুজতে হবে । ব্যবসা নিয়ে প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে। এবার নিজের চরিত্রের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানুন। একজন সফল উদ্যোক্তা  হবার আগে জানতে হবে আপনার নিজের আবেগ, অনুভুতি, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সামাজিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে।  সফল উদ্যোক্তা হবার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, কোন কাজটা আপনাকে কর্মশক্তি এবং করমস্প্রিহা দান করে যখন আপনি ক্লান্ত থাকেন। এমন একটা ব্যবসা নির্বাচন করুন যে ব্যবসাটা আপনার ভালো লাগবে ভালোবাসবেন। একজন সফল উদ্যোক্তা  তার কাজকে ভালোবেসে করতে হবে।  বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেন, সফল উদ্যোক্তা  ওই কাজটিকেই বেছে নেন যে কাজটি করলে তার কাছে সেটা খেলা মনে হয় এবং কাজ করতে তার কাছে সময়ের কোন হিসাব থাকেনা। একজন সফল উদ্যোক্তার জন্য কোন ব্যবসা উপযুক্ত হবে টা বোঝার কয়েকটি উপায় আছে ।

প্রথমেই আপনি যা জানেন তাই কাজে লাগাতে হবে। যেমন আপনি মানুষকে রান্না করে খাওয়াতে ভালবাসেন । অতীতে নিজের জন্য বা অন্য মানুষের আপনি অনেক কিছু রান্না করেছেন, আর তারা খেয়ে বাহবা দিয়েছে। এবার চিন্তা করুন আপনার এই রান্না করার গুনকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে ব্যবসা শুরু করা যায় । আপানর কোন কোন রান্না অন্যদের কাছে ভালো লাগে , সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। অন্য মানুষের চাহিদা সম্পর্কে জানুন। গতানুগতিক ব্যবসাই নয়, প্রত্যেকটি পণ্যের বাজারেই নতুন কিছু না কিছু যোগ করা সম্ভব। সেই ফাঁকটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। তাছাড়া চিন্তা করুন কিভাবে নতুন কোনও আইডিয়া তৈরি করা যায়। অনলাইনে অফলাইনে প্রচুর খুজুন । নিজেকে শিক্ষার্থী হিসেবে চিন্তা করুন নতুন নতুন কিছু শিখার চেষ্টা করুন।

৩. সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করা ।
সফল উদ্যোক্তা হবার জন্যে আপানর দরকার সঠিক পরিকল্পনা। অধিকাংশ উদ্যোক্তাদের ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে তার উদ্যোগের পরিপূর্ণ পরিকল্পনার অভাব। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে উদ্যোগ শুরু করার আগে একটি পরিকল্পনা দাড় করাতে হবে । এই পরিকল্পনা আপনাকে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিবে এবং আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। পরিকল্পনাটি একটি খাতায় লিখুন। আপনার ব্যবসার উদ্দেশ্য, ব্যবসায়িক কৌশল এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপগুলো এই পরিকল্পনায় লিখে রাখবেন। আপনার এই ব্যবসায়িক পরিকল্পনাটি ১ পেজের বেশি হওয়ার প্রয়োজন নেই।
এইকজন সফল উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার পরিকল্পনায় নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর থাকবে । যেমন আপনি কি পণ্য বা সেবা তৈরী করবেন? আপনার পণ্যের ভোক্তা কারা ? ক্রেতাকে কি ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি দিচ্চেন ? আপনার ব্যবসার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্য, কৌশল এবং কর্ম পরিকল্পনা কি?
সফল উদ্যোক্তা হিসাবে আপনাকে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে একটা কর্ম পরিকল্পনা করতে হবে। এর পর শুরু করতে হবে আপনার ব্যবসা।
 

৪. ক্রেতা নির্ধারণ করা
একজন সফল উদ্যোক্তা হবার জন্য ব্যবসায়ে টাকা কোন টাকা ইনভেস্ট করার আগে ক্রেতাদের চাহিদা নির্ণয় করার চেষ্টা করতে হবে। বাজারে অনেকেই আছেন যারা এসব পণ্য সেল করে থাকেন। আপনার উৎপাদিত পণ্য আদতেও তারা ক্রয় করবে কিনা তা খুঁতিয়ে দেখতে হবে। আপনার পণ্য বিক্রির বাজারের আয়তন আগে ঠিক করুন। আপনার পণ্য ক্রেতারা কেন ক্রয় করবে তা ঠিক করুন। কারন বাজারে অনেক সাপ্লায়ের আর সেলারা আছে। এবার বাজারের উপর প্রয়োজনীয় সমীক্ষা চালাতে হবে। এতে করে আপনি ক্রেতার মানসিকতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এবার সে অনুযায়ী আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন চালাতে হবে।

৫. অর্থায়নঃ
একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনার উদ্যোগের জন্য অর্থায়নের সঠিক ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকটি সফল উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত জীবন এবং ব্যবসা পরস্পর সংযুক্ত থাকে। ব্যবসা শুরুর আগে নিজের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তৈরি করুন এবং প্রত্যেকটি আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখুন। আপনার ব্যবসায় বাইরের ইনভেস্ট জোগাড় করার আগে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী। কারন ব্যবসায় আপনাকে ভালো পরিমাণে ইনভেস্ট না করলে বাহির থেকে ইনভেস্ট পাওয়া খুব কঠিন হবে। সবাই চাইবে আপনার ইনভেস্ট কি রকম আছে। এর পর তারা ইনভেস্ট করতে আগ্রহী হবে। এজন্য আপনাকে অনাবশ্যক খরচ কমাতে হবে  আর প্রত্যেকটি টাকার উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৬. পণ্য সাপ্লায়ের নেটওয়ার্ক তৈরি করা ।
একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে সঠিক পণ্য সাপ্লাই নিশ্চিত করতে হবে। কারন ক্রয় করতে আপনি যদি কম দামে ক্রয় করতে না পারেন তবে বিক্রি করে লাভ করতে পারবেন না  । এছাড়া আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার অবদানে অনেক গ্রুপে আপনি যুক্ত থেকেও আপনার ব্যসবা বাড়াতে পারবেন। অনেকেই আছেন যারা সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে সংযুক্ত থেকে বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। আপনাকেও এভাবে যুক্ত হতে হবে। এখন করোনার কারনে অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে ব্যবসা বেশী জমজমাট। 


৭. সেবার মানোন্নয়ন করতে হবে।
একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে আপনার সেবার  মানোন্নয়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করুন। আপনি যতো বেশি ভালো সেবা দিতে সক্ষম হবেন ততো বেশি আয় করতে পারবেন। কারন আজকাল মানুষ চায় পণ্যের সাথে বিক্রেতার ভালো ব্যবহার। এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। যেমন আপনি ক্রতাকে আরো কি ধরনের উন্নত সেবা দিতে পারেন? পণ্য ক্রয়ের সাথে সাথে আর কি সেবা দিয়ে ক্রেতাকে খুশী করতে পারেন? ক্রেতার অভিযোগের উপর ভিত্তি করে আপনার পণ্য বা সেবার আরো বেশী উন্নয়ন সম্ভব হবে কিনা ? এসব বিষয় নিয়ে কাজ করে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে পারবেন।  

৮. প্রকাশ্যে শেয়ার করুনঃ
সফল উদ্যোক্তা হবার আরেকটি উপায় হলো আপনার ব্যবসাটি প্রকাশ্যে শেয়ার করতে হবে। সবাইকে জানাতে হবে যে আপনি এই ব্যবসাটি শুরু করেছেন। ব্যবসা মানে চুরি করা না । আপনি কি ধরনের মানুষ এবং আপনার পেশা কি?  সবার সাথে সে কথা কোন দ্বিধা ছাড়া প্রকাশ করুন।  মনে রাখতে হবে, সাফল্য ও ব্যর্থতা এই ২টি মিলেই ব্যবসা। প্রথমবার সফলতা নাও আসতে পারে, তাই বলে এই না যে কখনও সফলতা আসবেনা। বিখ্যাত লেখক ও প্রভাষক ন্যাপোলিয়ান হিল বলেছিলেন যে ৮০% উদ্যোক্তার ব্যর্থ হওয়ার কারণ হচ্ছে হার মেনে নেয়া।


সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে আরো কিছু গুনের অধিকারী হতে হবে।
একটি শিশু বার বার পরে যাওয়ার পরেই হাটতে শিখে। ব্যর্থতা থেকেই উপযুক্ত শিক্ষা পাওয়া যায়। তাই ব্যর্থতাকে সহজভাবে নিন। মনে রাখবেন, এই ব্যর্থতা অস্থায়ী। ধারাবাহিকভাবে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যর্থতা অতিক্রম করা সম্ভব। এজন্য চাই মানসিক শক্তি ও ধৈর্য। পৃথিবীতে যারা উন্নতির চরম শিখরে অবস্থান করছেন, তাদের ওই অবস্থানের পিছনে রয়েছে হাজারো ব্যর্থতা এবং সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।


ব্যবসার মালিকানা আপনাকে স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়ন প্রদান করতে পারে। একটি ব্যবসার মালিকানা উদ্যোক্তাদেরকে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্দি ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক গঠনের সুযোগ প্রদান করে থাকে। তাছাড়া এক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা গ্রাহক ও বিক্রেতাদের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বিকাশেরও সুযোগ পেয়ে থাকেন। আর উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার জন্য কিছু বিশেষ গুণাবলী অর্জন করতে হয়। তাই আমরা আপনার জন্য কয়েকটি পরামর্শ নিয়ে এসেছি যাতে আপনি উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে পারেন। নিচে তার বিবরণ দেওয়া হল।
 

দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী হওয়া
অধ্যবসায়ই চরিত্রের দৃঢ়তা। আপনি যদি একজন সফল উদ্যেক্তা হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই অনুকরনীয়, অধ্যাবসায়ী আর পরিশ্রমী ব্যক্তি হতে হবে। বিশে^ এমন কোন উদ্যোক্তা নেই যে তারা বিনা পরিশ্রমে সফল হয়েছেন। তাই আপনাকে অবশ্যই এই সব গুনাবলী গুলো অর্জন করতে হবে।
নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন

সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আপনার নিজেকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করতে হবে। আপনাকে এমন সব উপায় খোজঁ করতে হবে যেন আপনি আপনার প্রতিদ্বন্ধী উদ্যোক্তাদের থেকে নিজেকে সবার থেকে এগিয়ে রাখতে পারেন। নতুন এবং কঠিন কাজ করার জন্য নিজেকে সব সময় প্রস্তুত রাখতে হবে এবং ক্রমাগত নতুন চ্যালেঞ্জ সমূহ গ্রহন করতে হবে।
 

আবেগ প্রবণ হওয়া
সাধারণ ভাবে বলা যায় যে উৎসাহই আবেগ। যে কাজের প্রতি আপনার উৎসাহ থাকবে স্বাভাবিক ভাবে সে কাজের প্রতি আপনার আবেগও থাকবে। আপনি যে কাজটি করতে পছন্দ করেন না সে কাজটি করার কখনই চেষ্টা করবেন না। আপনি যে কাজটি করতে বেশি উৎসাহী হন সেটিকেই আপনাকে বেছে নিতে হবে। উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে দীর্ঘ ঘন্টা কাজ করতে হবে।

তাই আপনাকে যে কাজের প্রতি আপনি সবচেয়ে বেশি উৎসাহী এমন কাজটিই বেছে নিতে হবে। পৃথিবীর বেশির ভাগ সফল উদ্যোক্তাই এমন সব কাজ বিছি নিয়েছেন যার প্রতি তাদের সবচেয়ে বেশি উৎসাহ রয়েছে।
 

ঝুঁকি নিন
প্রত্যেক ব্যবসায়ের সাখে ঝুঁকি কথাটি জড়িত, যা ব্যবসার একটি অংশও বটে। আর প্রত্যেক সফল উদ্যোক্তারাই জানেন যে ঝুঁকি ব্যতিত ব্যবসায় সফল হওয়া সম্ভব নয়। তাই আপনাকে অবশ্যই ঝুঁকি নিয়েই কাজ করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কিভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় সেই বিষয়েও আপনার ধারণা থাকতে হবে।
 

ভয় কমানো
ভয় কর্মের স্পৃহা ধ্বংস করে। যেহেতু উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসার সফলতার জন্য নতুন নতুন কাজের সাথে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় সেহেতু তাদেরকে ভয় পেলে হবে না। আর আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে আপনাকে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং আপনাকে অবশ্যই ভয়কে জয় করে কাজে এগিয়ে যেতে হবে। আপনাকে ভয়কে হ্রাস করার উপায় গুলো জানতে হবে। কখনো আপনি ভয়ের জন্য পুরো কাজ থেকে পিছিয়ে যাবেন না। আপনাকে নিজের উপর বিশ্বাস রেখে কাজ করতে হবে। আরো পরুনঃ তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে সফল হওয়ার ৯টি কার্যকারী উপায়
লক্ষ্যকে দৃষ্টিগোচর করুন

প্রত্যেক ব্যবসার প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে সফলতা অর্জন। তাই আপনি যদি সফল উদ্যোক্তা হতে চান তাহলে আপনাকেও একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশ্বের সব সফল উদ্যোক্তাদের দিকে নজর দিলে দেখা যায় যে তারা তাদের নির্দেষ্ট পরিকল্পনা বা লক্ষ্যকে স্থির করেই কাজে সফল হয়েছেন। কিভাবে আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন তার জন্য আপনাকে উপায় খুঁজতে হবে। আপনি আপনার বন্ধু বা ব্যবসায়িক অংশিদারদের সাথে কথা বলতে পারেন যারা কিনা আপনাকে আপনার লক্ষ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে।


সময় ব্যয়
আপনি কি ভাবছেন যারা সফল উদ্যোক্তা তারা রাতারাতি সফল হয়েছেন, মোটেও না। তারা তাদের কাজে সফলতার জন্য অধিক সময় ব্যয় করার পর এই সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই আপনি যদি সফল হতে চান তাহলে আপনাকেও অনেক সময় ব্যয় করতে হবে। আপনি তাদেরকে অনুসরণ করতে পারেন যারা বার বার বিফল হয়েও পিছিয়ে যাননি।
আর আপনার এই কাজটি করতে কয়েক দিন, কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগতে পারে। তাই আপনাকে ধৈর্য্য সহকারে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের মাধ্যমে আপনার ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে সফল হতে হবে।

একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে উদ্যোক্তা কে অথবা উদ্যোক্তা কী জিনিস? উদ্যোক্তাকে সাধারণভাবে ব্যবসায়ীও বলা যায়। কিন্তু একজন উদ্যোক্তা আর ব্যবসায়ীর মধ্যে খানিকটা পার্থক্য আছে। যেমন- একজন মুদি দোকানদার ব্যবসায়ী হলেও উদ্যোক্তা নন। তিনি একজন উদ্যোক্তা তখনই হবেন যখন তিনি মানুষের কোনো একটি সমস্যা গৎবাঁধা নিয়মে সমাধান না করে একটু ইনোভেটিভ উপায়ে সমাধান করবেন। আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে,আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে পারবেন নীচের উপায়গুলোর মাধ্যমে।


উদ্যোক্তা হতে গেলে আপনাকে প্রথমেই যেকোন একটা সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। হতে পারে আপনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কোনো সমস্যায় পড়েছেন নাকি আপনার আশেপাশের কেউ সেই সমস্যার সম্মুখীন? অথবা সেটা কোনো সামাজিক সমস্যাও হতে পারে। মোটকথা একটি সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেটির একটি উদ্ভাবনী সমাধান বের করা। এরপরের কাজ হলো সেই সমস্যা এবং তার উদ্ভাবনী সমাধানের একটি ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করা।

মোটামুটি এতটুকু হয়ে গেলেই কাজ অনেকটা শেষ হয়ে যায়। এরপর কাজটি এগিয়ে নেওয়া এবং এর একটি সফল পরিণাম দেওয়ার জন্য আপনাকে একটা টিম গঠন করতে হবে। আপনার টিমের কয়েকজন কো-ফাউন্ডার অথবা সহ-প্রতিষ্ঠাতা থাকবেন। কো-ফাউন্ডার হচ্ছেন তারা,যারা আপনার মতোই একটি সমস্যা নিয়ে ভাবেন অথবা চিন্তা করেন এবং আপনার টিমে অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরের মানুষ থাকতে হবে। যেমন: কেউ ইঞ্জিনিয়ার,কেউ মার্কেটিংয়ের আবার কেউবা সামাজিক বিজ্ঞানের। এতে করে টিমে বৈচিত্র্য আসবে।

টিম গঠন করার পর আপনাকে সমস্যা এবং তার উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। সমস্যার সমাধান হতে পারে কোনো পণ্য হতে পারে অথবা সেবা। যা-ই হোক না কেন, তার জন্য আপনাকে একটা প্রটোটাইপ বানাতে হবে প্রথমে। প্রটোটাইপ হলো আপনার সমাধানের একটা বাস্তবিক মডেল যা আপনার সমাধানকে চিত্রিত বা বর্ণনা করবে। যেমন: আপনি খাদ্যের মান নির্ণয়ের জন্য যদি একটি পণ্য বানাতে চান যা একইসঙ্গে আর্দ্রতা এবং pH নির্ণয় করবে তাহলে আগে আপনাকে তেমন একটা পণ্য তৈরি করতে হবে যা এই সমস্যাকে বর্ণনা করতে পারে। এটাই হচ্ছে প্রটোটাইপ।

প্রটোটাইপিংয়ের পর পণ্যটি বাজারে ছাড়তে হবে। তার আগে তা অন্তত ৫ জন ভোক্তার কাছ থেকে এর সম্পর্কে মতামতো জেনে নিতে হবে। এর মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার পণ্য বা সেবাটির মার্কেট  ভ্যালু। ভোক্তাদের মতামত পজিটিভ হলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার প্রোডাক্ট বাজারে আসার জন্য প্রস্তুত।

মার্কেটে প্রোডাক্ট আনা এবং মার্কেটে আসার আগে প্রোডাক্টের লঞ্চ আসলে অনেক টাকার ব্যাপার। যা হয়ত একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।এক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেন Angel Investor বা দেবদূত বিনিয়োগকারী। তিনিই মূলত টাকা বিনিয়োগ করে থাকেন একটা নির্দিষ্ট মালিকানার বিনিময়ে। সেজন্য আপনাকে জানতে হবে এরকম বিনিয়োগকারীরা আসলে কী চান, কীভাবে চান, কোন পর্যায়ে এসে তারা বিনিয়োগ করবেন, কী দেখে বিনিয়োগ করবেন?

আপনার প্রোডাক্ট লঞ্চ হয়ে যাওয়ার পর তা যখন মার্কেটে আসবে তখন আপনার টার্গেট থাকবে প্রাথমিকভাবে মার্কেটে বেশ বড় একটা পরিমাণ প্রোডাক্ট আনা। এজন্য আপনার কর্মী, পরিবেশক ইত্যাদি লাগবে,খরচ বাড়বে। ধরে নেওয়া যাক, আপনি মার্কেটে ১ লাখ প্রোডাক্ট আনবেন। সেজন্য আপনার বেশ ভাল পরিমাণ টাকার দরকার। যে বা যারা এই টাকা বিনিয়োগ করবেন, তাদের বলা হয় ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট। এই ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা এনে বিনিয়োগ করবে এবং ৫-৭ বছর পর “রিটার্ন জেনেরেট” করে টাকা ফেরত দেবে।

এগুলো ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক কিছু ধাপ। তবে উদ্যোক্তা হতে হলে আপনার দরকার আত্ম- উৎসর্গিত মনোভাব। যে কোনো খারাপ পরিস্থিতি সামলে ওঠা ও ব্যর্থতা গ্রহণের সামর্থ্য আপনার থাকতে হবে। যে কোনো ব্যবসা পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞতা না থাকলে আপনার উচিত কোথাও কাজ করে বা কোনো পার্টটাইম জব করে ব্যবসার খুঁটিনাটি হাতে-কলমে শেখা। এতে করে আপনার নেটওয়ার্কিং বাড়বে, যা পরবর্তীতে ক্লায়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করবে।


একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে শুরুতেই আপনার দরকার একটা সমস্যা এবং এই সমস্যাটা আসে আমাদের আশপাশ থেকে। সাধারণত মানুষ যেটা করে,সে প্রথমে একটা সমাধান বের করে এবং সেটা কোন সমস্যার ক্ষেত্রে প্রযোজন্য তা বের করে। অর্থাৎ সে কাজটা আসলে উল্টোভাবে করে। আমাদের প্রথমেই উচিত সমস্যা বের করে তার একটা উদ্ভাবনী সমাধান বের করা। কখনোই প্রথমে সমাধান দেওয়া যাবে না। একজন উদ্যোক্তা হতে গেলে এই জিনিসটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

আপনার সমস্যার সমাধান বা আইডিয়ার বাস্তবায়ন করার জন্য আপনাকে প্রথমেই ২টি প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে। প্রথমটি হলো, মানুষ আসলেই চায় কি না যে সমস্যাটার সমাধান হোক এবং দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, অনেক বেশি পরিমাণে মানুষ চায় কী না যে সমস্যাটার সমাধান হোক। যদি দুটো প্রশ্নের উত্তরই পজিটিভ হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার সমাধান বা আইডিয়াটা বাস্তবে রূপ দেওয়া যাবে ।

বিস্তারিত
অ্যামাজন এক টেক মাফিয়ার ইতিহাস

অ্যামাজন বিশ্বের শীর্ষ একটি ই-কমার্স সাইটের নাম। অ্যামাজনের নাম শুনেননি এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। অ্যামাজন মূলত একটি ই-কমার্স সাইট যেখানে বই থেকে শুরু করে আসবাবপত্র অর্থাৎ  প্রায় সকল পন্য বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসার অভিজ্ঞতা তেমন একটা ভালো নয়। তবে অ্যামাজনে আপনি কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হবেন না। তারা কাস্টমারদের সুবিধা-অসুবিধার কথা সবার আগে চিন্তা করে। তবে এখন পর্যন্ত (২০২১) অ্যামাজন বাংলাদেশের বাজারে আসেনি।  অ্যামাজন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। অ্যামাজনে যে এ টু জেড সব কিছু পাওয়া যায় সেটার চিহ্ন  অ্যামাজনের লোগোতেই রয়েছে। ১৯৯৪ সালের ৫ই জুলাই জেফ বেজোস অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে অবশ্য নাম অ্যামাজন ছিল না। শুরুতে এটার নাম ছিল ক্যাডবরা। পরে জেফ বেজোস নাম পরিবর্তন করে অ্যামাজন রাখেন।

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ১৯৬৪ সালের ১২ই জানুয়ারি আমেরিকার নিউ মেক্সিকোতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে একটা উদ্যোক্তা ভাব ছিল। হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে বেজোস ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্রদের জন্য ড্রিম ইনস্টিটিউট নামে একটি এডুকেশনাল ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করেন। আর ছোট বেলা থেকেই কোনো মেশিন বা যন্ত্র কিভাবে কাজ করে তা জানার আগ্রহ তার খুব বেশি ছিল। এইসব বিষয় নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটিও করতেন। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়ে তার বাসাকে তিনি একটি ছোটোখাটো ম্যাকানিক্যাল ওয়ার্কশপ বানিয়ে ফেলছিলেন। তিনি গ্রাজুয়েশন শেষ করেন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে তিনি কম্পিউটার সাইন্স ও ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন।

পড়াশোনা শেষে বেশ কয়েক জায়গায় তিনি সাফল্যের সাথে চাকরি করেন। চাকুরীজীবনে তিনি খুব অল্প বয়সেই ডি-ই-শ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে গিয়েছিলেন।


১৯৯৪ সালে বেজোস চাকুরীকালীন অবস্থায় কোনো একটি প্রজেক্টের কাজে একটি পরিসংখ্যান তার নজরে আসে। সেটি হল তখন ইন্টারনেট ব্যবহাকারীর সংখ্যা খুব বেশি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তখন তার মাথায় ই-কমার্স সাইটে ব্যবসার চিন্তা চলে আসে। কারণ মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করতে নানারকম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়। এই ধরুন একজন লোকের একটি চেয়ার, একটি সানগ্লাস আর একটি বই দরকার। এখন সে চেয়ারের দোকানে গিয়ে চেয়ার কিনবে তারপর সানগ্লাস কিনে বইয়ের দোকানে গিয়ে দেখল তার কাঙ্ক্ষিত বইটি নেই। ই-কমার্স ব্যবসায় কিন্তু এ ধরনের ঝামেলা নেই। যার কারণে মানুষ অনলাইনে বেচাকেনার দিকে ঝুঁকছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন বেজোস।

বেজোস তার চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় নেমে পড়েন। তখন এই ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসার তেমন একটা প্রচলন ছিল না। সুতরাং এই ব্যবসাটা শুরু করার ব্যাপারটা পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তিনি অ্যামাজনে প্রথমে পুরাতন বই বিক্রি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। জেফ বেজোস তার এই ব্যবসায় খুব অল্প সময়েই ব্যাপক সাড়া পেয়ে যায়। অ্যামাজন প্রতিষ্ঠার প্রথম ৩০ দিনেই তারা কোনো ধরনের প্রচার প্রচারণা ছাড়াই  বিশ্বের অনেকগুলো দেশে পন্য বিক্রি  করে। যা ছিল তাদের কল্পনার বাইরে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তারা তাদের ব্যবসাকে পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে যাচ্ছিল। তারা ই-কমার্স ব্যবসায় প্রচুর সম্ভাবনা দেখে পাকাপোক্তভাবে ব্যবসায় নামে ১৯৯৭ সালের পর। পরে অ্যামাজনে সিডি ডিভিডি, ভিডিও গেম, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক পন্য, আসবাবপত্র, গহনাগাঁটি তারপর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি শুরু করে দেন।

তিনি এখানেও ব্যাপক সাড়া পেয়ে যান। সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অ্যামাজনের শুরুতে জেফ বেজোসের কাছে পুঁজি হিসেবে খুব বেশি টাকা ছিল না। তার পুঁজির টাকা জোগাড় করতে বড় ভুমিকা রেখেছিল বেজোসের বাবা মাইক বেজোস এবং তার মা জ্যাকলিন বেজোস। তারা তাদের অবসর ভাতা হিসেবে পাওয়া অর্থ বেজোসকে দেন ব্যবসা শুরু করতে। তারা প্রায় ৩ লক্ষ ডলার দিয়েছিল বেজোসকে। পরে বেজোস তার আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে আরও ৭ লক্ষ ডলার নিয়ে মোট ১ মিলিয়ন ডলার নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করেন।

এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, ভারত, জার্মানি, ইটালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশে তারা পন্য সামগ্রি বিক্রি করে আসছে। তাছাড়া অন্যান্য দেশে তাদের কিছু পন্যের  শিপিং ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যামাজনের সদর দপ্তর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটনের সিয়াটেলে। এবং ২০১৯ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী অ্যামাজনের মোট সম্পদের পরিমাণ ২২৫.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে অ্যামাজনে বর্তমানে প্রায় ৭ লক্ষ লোক কাজ করছে।
বর্তমানে অ্যামাজনের কয়েকটি পরিসেবা নিচে তুলে ধরলাম..
১.অ্যামাজন ড্রাইভ
২.অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস
৩.অ্যামাজম প্রাইম
৪.অ্যামাজন ফ্রেশ
৫.অ্যামাজন এনেক্সা ইত্যাদি।

এগুলো ছাড়াও অ্যামাজনের অধীনস্থ অনেকগুলো  প্রতিষ্ঠান আছে অনেকগুলো। যেমম....
১.অ্যামাজন বুকস
২.অ্যামাজন গেইম স্টুডিও
৩.অ্যামাজন এয়ার
৪.অ্যামাজন ল্যাব
৫.বডি ল্যাবস
৬.অ্যামাজন লজিস্টিক
৭.অ্যামাজন পাবলিশিং
৮.আইএমডিবি
৯.হোল ফুড মার্কেট   ইত্যাদি।

সব কিছুর পরেও অ্যামাজন তাদের পরিধি  প্রতি বছর বড় করেই চলছে। প্রতি বছর তারা নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানকে কিনে নিচ্ছে। বিশেষ করে উদীয়মান প্রতিষ্ঠানগুলোকেই কিনে নিচ্ছে। অবশ্য এ কাজটি শুধু অ্যামাজনই না, বিশ্বের অন্যান্য জায়ান্টরা যেমন ফেসবুক, অ্যাপল, গুগল, আলিবাবাও এ কাজটি করে যাচ্ছে।এখন পর্যন্ত অ্যামাজনের নেট আয় তাদের সমকক্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটের অনেক কম হলেও রেভিনিউ এর দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে আছে।  এই অ্যামাজনের হাত ধরেই জেফ বেজোস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন।

অ্যামাজন থেকে সকল পন্য কিনতে না পারলেও কিছু পন্য আপনি বাংলাদেশে আনতে পারবেন। তবে এখনো পর্যন্ত অ্যামাজন তাদের বেশিরভাগ পন্য বাংলাদেশে শিপিং করে না। যে প্রোডাক্ট কিনবেন সেগুলো কিনতে আপনার ডুয়াল কারেন্সির কার্ড প্রয়োজন হবে। যেহেতু অ্যামাজন থেকে তাদের বেশিরভাগ পন্য আপনি বাংলাদেশে আনতে পারবেন না (২০২১ সাল অনুযায়ী), তাই আপনি অ্যামাজনের বিকল্প হিসেবে আলি এক্সপ্রেস থেকে পন্য কিনতে পারবেন। বাংলাদেশে আলি এক্সপ্রেস থেকে পন্য ক্রয় করা অনেকটা সহজ। আলি এক্সপ্রেস থেকে কিভাবে পন্য ক্রয় করবেন সেটা আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে দিয়েছি। দেখে আসতে পারেন।

আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।

বিস্তারিত
কিভাবে শুরু করবেন নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ

মাছ চাষ সবসময় একটা লাভজনক ব্যবসা । মাছ চাষের অনেক পদ্ধতি চালু থাকলেও নদীতে মাছ চাষ একটা নতুন পদ্ধতি । বর্তমান সময়ে মাছ চাষের একটি উত্তম পদ্ধতি হল খাঁচায় নদীতে মাছ চাষ করা। নদীতে মাছ চাষ খুবই লাভজনক। সাধারণ পুকুরের চেয়ে অনেক বেশি ফলন পাওয়া যায় নদীতে মাছ চাষ পদ্ধতিতে। বর্তমানে অনেকেই নদীতে মাছ চাষ করে খুব লাভজনক ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসতেছেন । আজকের পোস্টে আমরা আলোচনা করব কিভাবে নদীতে মাছ চাষ শুরু করবেন?  নদীতে মাছ চাষ করার স্থান কিভাবে সুবিধামতো ভাবে বেছে নিবেন?  নদীতে মাছ চাষ করতে কত টাকা লাগবে এবং কিভাবে বিনিয়োগ করবেন? নদীতে মাছ চাষ করতে মাছের দেখাশোনা কিভাবে করবেন? নদীতে মাছ চাষ করে উতাপদিত মাছ কোথায় কিভাবে বিক্রি করবেন? নদীতে মাছ চাষ করলে কি ধরনের রিস্ক থাকে ?


এই সকল প্রশ্ন নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করব। চলুন শুরু করা যাক ।

২০১৫ সালের কথা। টেলিভিশনে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের একটি প্রতিবেদন দেখেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চর ঘাটিনার ফজলুল হক। বিষয়টি তাঁকে বেশ আকৃষ্ট করে। উপজেলা মত্স্য অফিসে যোগাযোগ করেন। জানতে পারেন এ বিষয়ে তাঁকে সহযোগিতা করতে পারবেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা ড. আমিমুল এহসান। ফজলুল হকের তখন কাজ ছিল না, বলতে গেলে বেকার। আগে ছোটখাটো একটি ব্যবসা করলেও সেটা বন্ধ। চলে গেলেন রাজশাহী। আমিমুল এহসানের কাছ থেকে নদীতে ভাসমান খাঁচায় তেলাপিয়া চাষের প্রশিক্ষণ নিলেন। এরপর গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি নিজের বাড়ির পাশে করতোয়া নদীতে ৫০টি প্লাস্টিক ড্রাম ফেলে প্রয়োজনীয় বাঁশ, কাঠ ও নাইলন নেট দিয়ে ২০টি খাঁচা বানান। প্রতিটি খাঁচা ১৫ ফুট চওড়া ও ২০ ফুট লম্বা। এতে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

প্রথমবার এই খাঁচায় দেড় লাখ টাকায় ১০ হাজার তেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়েন। চার মাসে এসব পোনা পূর্ণাঙ্গ মাছে রূপ নেয়। প্রতিটির ওজন হয় ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। চার মাসে মাছের খাবার ও আনুষঙ্গিক পরিচর্যার জন্য ব্যয় হয় আরো তিন লাখ টাকা। এতে উৎপাদিত হয় প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ। ফজলুল হক জানান, প্রথম দফায় তাঁর এই নতুন মত্স্য প্রকল্পে বিনিয়োগ হিসাব করলে লাভের পরিমাণ কম। এ প্রকল্পে গ্রামের ছয় যুবককে কাজ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ভাসমান খাঁচার সংখ্যা দ্বিগুণ করলে এলাকার আরো ১০ যুবককে কাজ দিতে পারবেন।

এখন সিরাজগঞ্জের বেশ কয়েকটি জায়গায় নদীতে খাঁচায় মাছের চাষ হচ্ছে। জেলার অন্তত ৫০ যুবক মাছ চাষ শুরু করেছেন এবং স্বাবলম্বী হয়েছেন। খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে জেলার রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলায় ফুলজোড় ও করতোয়া নদীতে।

আমিমুল এহসান জানান, ২০১২ সালে তাঁর কর্মস্থল ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেখানে বিজিবির সহযোগিতায় মহানন্দা নদীতে ভাসমান খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষে সফলতা পান। এরপর এই প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন। উল্লাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘১২ বছর আগে দেশে প্রথম কুমিল্লায় এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়। প্রবহমান নদীর পানিতে ভাসমান খাঁচায় মাছের পোনাগুলো প্রাকৃতিক নিয়মে বেড়ে ওঠে এবং এর প্রাকৃতিক স্বাদও অটুট থাকে। ফলে বাজারে এই মাছের চাহিদাও বেশি।’ জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় ২৯২টি খাঁচায় প্রায় অর্ধশত মাছচাষি মাছ চাষ করছেন। এ ব্যাপারে বেকার যুবকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। তারা পরামর্শের জন্য আসছে। জেলা মত্স্য অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি খাঁচায় ৮০০ থেকে এক হাজার মাছের পোনা ছাড়া হয়। লাভ হয় এক লাখ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।’

মাছচাষিরা জানান, সরকারি ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়া গেলে আরো অনেক বেকার যুবক এ কাজে আসবে। এতে বেকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি দেশে মাছের চাহিদাও অনেকাংশে পূরণ হবে।

কুমিল্লায় মেঘনা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। বিশেষ করে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ মাছ চাষ করা হচ্ছে। এখানে কম খাবারে দ্রুত বৃদ্ধি পায় বলে তেলাপিয়া মাছ বেশি চাষ করা হচ্ছে। পুকুর ও খামারে চাষ করা তেলাপিয়া থেকে নদীতে চাষ করা মাছের স্বাদ ব্যতিক্রম। তাই এই মাছের চাহিদাও বেশি। এসব প্রকল্পে কর্মসংস্থান হচ্ছে স্থানীয় যুবকদের, এতে এলাকায় বেকারত্বও কমছে। সরেজমিন দেখা যায়, মেঘনা উপজেলার ওমরাকান্দা ব্রিজ এলাকাসহ কয়েকটি পয়েন্টে ব্যক্তি উদ্যোগে খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদীতে চার কোণের বাঁশ বা এঙ্গেলে জাল লাগিয়ে খাঁচা বানানো হয়। সেই খাঁচা ড্রামে ভাসিয়ে রাখা হয়। পানি বাড়লে খাঁচা উপরে ওঠে- কমলে নিচে যায়।

সেই খাঁচায় মাছের পোনা ফেলে ভাসমান খাবার দেওয়া হয়। খাঁচায় মাছ চাষকারী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন থেকে মাছ চাষ করছেন। আগে জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। এই এলাকায় পুকুর কম, পরে জানলেন নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করা যায়। তিনি আটটি খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেন। তাকে এ কাজে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সিকদার সহযোগিতা করেন। পরে মত্স্য অধিদফতর তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করেন। এখন তার খাঁচার সংখ্যা ২০টি। ৪/৫ মাসের মধ্যে মাছ বিক্রি করা যায়। মাছের স্বাদ বেশি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। তার খাঁচায় এখন ছোট-বড় মিলিয়ে তিন লাখ ২০ হাজার মাছ রয়েছে। মাছগুলো দ্রুত বাড়ায় তিনি ভালো লাভ পাবেন বলেও আশা করেন। মেঘনা উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য জানান, জসিম উদ্দিন মত্স্য অধিদফতরের খাঁচায় মাছ প্রদর্শনীর আওতায় মাছ চাষ করছেন।


তাকে তারা সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তার দেখাদেখি অন্য চাষিরাও এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।
মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশে বানিজ্যিক ভাবে যে মাছ চাষ করা হয় তার বেশিরভাগ পুকুর বা ঝিলে। কিন্তু প্রবাহমান নদীতে মাছ চাষ করার ধারণা বাংলাদেশে  নতুন হলেও অল্প কয়েকদিনেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নদীতে মাছ চাষ করার পদ্ধতির এত জনপ্রিয়তার মূল কারণ হল এতে উৎপাদন বেশি এবং সময়ও কম লাগে। একটি উদাহরণ দেই, একটি সাধারণ পুকুরে যদি আপনি তেলাপিয়া মাছ চাষ করেন তবে ঐ মাছের সাইজ ৭০০-১০০০ গ্রাম হতে আপনাকে অন্তত ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে।

কিন্তু ঐ মাছ নদীতে ঐ সাইজের হতে সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ মাস। আবার পুকুরে মাছ চাষের জন্য পুকুর তৈরি করতে হয় কিন্ত নদীতে এটা করার প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ পুকুরে মাছ চাষ করলে যেখানে আপনি বছরে ২বার মাছ বিক্রি করতে পারবেন সেখানে নদীতে অনায়াসে ৩ বার মাছ বিক্রি করতে পারবেন। তার উপর নদীতে অল্প জায়গায় পুকুরের তুলনায় বেশি মাছ ছাড়তে পারবেন। কারন নদীর পানি প্রবাহমান। তারপর  নদীতে মাছের রোগবালাই খুব কম। অর্থাৎ আপনি যদি নদীতে মাছ চাষ করেন তাহলে বেশি লাভবান হবেন।


নদীতে মাছ চাষ শুরু করার পূর্বে আপনাকে স্থান বাছাই করতে হবে। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য বড় নদী নয় ছোট নদীই উপযুক্ত হবে । কারন বড় নদী হলে স্রোত অত্যন্ত বেশি থাকে যার কারনে আপনার নেট, ড্রাম সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। তারপর নদীতে যে পানি থাকে তা হতে হবে দূষণমুক্ত।
এবার আসি এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করতে কি কি প্রয়োজন হবে.....


১.ড্রাম
২. বাঁশ অথবা পিভিসি পাইপ তবে অনেকে এক্ষেত্রে জি আই পাইপ ব্যবহার করে।
৩. নেট (কয়েক ধরনের নেট প্রয়োজন হবে)
৪.রাতের জন্য ইলেকট্রিক সংযোগ
মোটামুটিভাবে এগুলো হলেই চলবে।নদীতে ড্রাম, বাঁশ ও নেট দিয়ে মাছ চাষের উপযোগী খাচা তৈরি করতে হবে। প্রতিটি খাচার আকার হবে ২০ ফুট বাই ১০ ফুট। নেট বা যে জাল ব্যবহার করবেন সেটা যেনো ২ স্তরের হয়। একটির পর একটি করে ৫ টি খাঁচা তৈরি করতে পারেন। প্রথমে এই ৫ টিই থাকুক। পরে সুবিধামত বাড়িয়ে নিতে পারবেন। আর এ খাঁচাগুলো যেনো নদীর পাড়ের সাথে বাঁধা থাকে। নতুবা স্রোতের সাথে ভেসে চলে যাবে। আর নদীর যে স্থানটির তীর ঘেঁষে আপনি মাছ চাষ করবেন সে স্থানটি ভাড়া অথবা লিজ নিয়ে ফেলুন। এতে খরচটা একটু বাড়লেও অনেক ঝামেলা থেকে আপনি বেচে যাবেন।
এবার আসি এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করতে কি পরিমাণ পুঁজি প্রয়োজন হবে.... প্রথমেই স্ট্রাকচারাল খরচটা বলি।


১. সকল খরচ সহ প্রতিটি খাঁচা তৈরি করতে প্রয়োজন হবে  ১৫০০০৳।
২.জমি লিজ নিতে প্রয়োজন হবে ১০০০০৳।
৩.মাছের পোনা ক্রয় বাবদ ২০০০০৳।
৪. মাছের খাদ্য ও অন্যান্য ২০০০০০৳।

অর্থাৎ প্রথমে আপনাকে প্রায় ২৫০০০০৳ বিনিয়োগ করতে হবে।
পরে যখন আবার মাছ ছাড়বেন তখন কিন্তু এত খরচ লাগবেনা। কারণ পরেরবার আপনাকে আবার নতুন করে খাঁচা তৈরি ও জমি লিজ নিতে হবে না। আর প্রথমবার মাছ বিক্রি করে যে টাকা উঠবে তা থেকেই  পরের মাছ বাবদ প্রয়োজনীয় খরচ রেখে দিবেন। বাকী টাকা লাভ হিসেবে রেখে দিবেন।
যেসব মাছ নদীতে খাচা পদ্ধতিতে চাষ করতে পারবেন...
১.তেলাপিয়া
২.পাঙ্গাশ
৩.কৈ
৪.শিং
৫.মাগুর
৬.কার্প
৭.শোল
৯.সরপুঁটি  ইত্যাদি।

মাছভেদে কি পরিমাণ মাছ ছাড়বেন তা ভিন্ন হয়। যেমন উল্লেখিত আকারের খাঁচায় যদি মনোসেক্স জাতের তেলাপিয়া ছাড়েন তবে ১০০০ থেকে ১২০০ পিস ছাড়তে পারবেন। পাঙ্গাশ ছাড়তে পারবেন ৭০০ থেকে ৮০০ পিস।
আপনার ব্যবসা আপনি নিজেই দেখাশোনা করতে পারেন অথবা আপনি চাইলে দেখাশোনার জন্য একজন লোক নিয়োগ দিতে পারেন। নিয়োগকৃত লোককে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে। ঠিক সময়মত মাছের খাদ্য দিতে হবে।


মাছের পোনা ত্রয় করতে প্রায় সবাইকে একটা ঝামেলায় পড়তে হয়। সেটা হল ভালো মানের পোনা পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে আপনি যদি নতুন হন অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিবেন যে কোথা থেকে আপনি মাছের পোনা ক্রয় করবেন। আর এমন মানুষ থেকে পরামর্শ নিবেন যারা এখনও মাছ চাষের সাথে জড়িত আছে। আর অবশ্যই কয়েকটি মাছের খামার পরিদর্শন করে আসবেন। এতে অনেক সুবিধা পাবেন। মাছ বিক্রির সময় দালালদের খপ্পরে পড়বেন না। আপনি নিজে সরাসরি আড়তে কথা বলে সেখানে বিক্রি করবেন।


এবার আসি এই ব্যবসায় লোকসানের কারণগুলো কি? প্রথম সমস্যা হল নদীর পানি দূষিত হওয়া। যেমন চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি দূষিত। যার কারণে মাছ মরে যাচ্ছে। তাদের জন্য পরামর্শ হল পানি দূষণের মাত্রা যদি কম হয় তাহলে পাঙ্গাশ চাষ করতে পারেন। আর যারা নতুন তারা নিশ্চিত হয়ে নিবেন নদীর পানি দূষণমুক্ত কিনা। আর লোকসানের আরেকটি কারন হল মাছের সঠিক পরিচর্যার অভাব। যেমন সময় অনুযায়ী পরিমানমতো খাবার দেওয়া। মৃত মাছ অপসারণ করা। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে আপনি খুব সহজেই একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবেন।

আজকের আলোচনা নিয়ে যদি কারও কোন পরামর্শ অথবা প্রশ্ন থাকে, অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।

বিস্তারিত
ফেসবুক থেকে আয় করার শত উপায়
ফেসবুক থেকে আয় করবেন কী ভাবে?

ফেসবুক থেকে  আয় করার অনেক উপায় আছে । ফেসবুক থেকে আয়  কিছুটা  প্রত্যক্ষ, কিছুটা  পরোক্ষ। অর্থাৎ, ফেসবুক কে ব্যবহার করে নিজের ব্যবসার সরাসরি বিজ্ঞাপন বা ফেসবুক মার্কেটিং অথবা অনলাইন বিজনেস  করে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারেন । এছাড়া ফেসবুক থেকে খুঁজে নিতে পারেন আপনার চাকরিও। এছাড়া পরোক্ষ ভাবে নিজের ব্যবসায় কাস্টমার  নিয়ে আসা  অথবা অন্যের ব্যবসার বিজ্ঞাপন  চালিয়ে ফেসবুক থেকে আয়ের সুযোগও রয়েছে।

আজকের পোস্টে ফেসবুক থেকে আয়  নিয়ে  সবিস্তার আলোচনা করবো।  

আগেই বলেছিলাম ফেসবুক থেকে আয় করার দুইটা মাধ্যম আছে একটা  প্রত্যক্ষ ভাবে ফেসবুক থেকে আয় আরেকটা পরোক্ষ ভাবে ফেসবুক থেকে আয় । প্রথমে আলোচনা করবো ফেসবুক থেকে আয়  করার প্রত্যক্ষ উপায়ঃ

ফেসবুক পেজঃ
ফেসবুক থেকে আয় করার প্রথম উপায় হুছে ফেসবুক পেজ । যেমন ধরুন আপনার একটা ছোট ব্যবসা রয়েছে। ফেসবুকে তার পেজ বানিয়ে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য তাতে দিয়ে রাখুন- স্টোর বা অফিসের ঠিকানা, কতক্ষন আপনার সেবা খোলা, কী সেবা বা পণ্য মিলবে আপনার পেজে, আপনার যোগাযোগের নম্বর বা ইমেল,  সব কিছু দিয়ে দিবেন  এই ফেসবুক পেজে। ফলে ফেসবুকে যারা আপনার পেজটি দেখবেন, তাঁরা আপনার ব্যবসা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন এবং আপনার থেকে সেবা নিতে পারেন।
আপনার ফেসবুক পেজের জন্য সুন্দর একটা লোগো তৈরি করতে হবে। এবার আপনার সকল বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানান আপনার পেজে লাইক দিতে । যত বেশী লাইক হবে তত বেশী কাস্টমারের সন্তুষ্টি পাবেন বিশ্বাস পাবেন। তবে এই লাইক দুই ভাবে বাড়ানো যায়। একটা হলো অর্গানিক আরেকটা হলো পেইড। ফেসবুক থেকে আয় করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে ফেসবুকে টাকা ইনভেস্ট করতে হবে। এজন্য আপনাকে পেইড লাইক নিতে হবে। প্রতি ১ ডলার খরচ করলে আপনি ৫০-৭০ টি লাইক পাবেন। ৫-১০ হাজার লাইক নিয়ে নিতে হবে। এর পর শুরু করতে হবে আপানর পণ্যের শেয়ার। প্রতিদিন আপনার পণ্য শেয়ার করতে থাকেন। যত বেশী শেয়ার করবেন তত বেশী একটিভ থাকবে আপানর পেজ।  

ফেসবুক মেসেঞ্জার
ফেসবুক থেকে আয় করার আরেকটি মাধ্যম হলো ফেসবুক মেসেঞ্জার । আপনি আপনার ফেসবুক পেজের স্বয়ংক্রিয় মেসেঞ্জার এর সাহায্যেও আপনার প্রোডাক্ট বা পরিষেবা মার্কেটিং বা সেল করতে পারেন I কিছু বট সার্ভিস আছে যারা আপানর সাবস্ক্রাইবারদের অটো মেসেজ সেন্ড করবে। এসব সার্ভিস আপনি ফ্রি বা টাকা দিয়ে নিতে পারবেন। ইদানীং ব্যবসায় ক্রেতা টানার জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে চ্যাটবট। মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এই স্বয়ংক্রিয় চ্যাট পেজে আসা মানুষকে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে তথ্য দেবে। জবাব দেবে তাদের প্রশ্নেরও। ফলে আপনি পেয়ে যেতেই পারেন নতুন ক্রেতা। অনেকে ফেক একাউন্ট খুলে এসব সার্ভিস দিয়ে থাকেন। ধরুন আপনার একাউন্টে ৫০০০ ফ্রেন্ড। আপনি তাদের কে অ্যাড করলে আপনার ৫০০০ ক্রেতা হয়ে গেলো। এবার প্রতিদিন তাদের মেসেজ করতে থাকুন।

ফেসবুক গ্রুপঃ
ফেসবুক থেকে আয় করার সেরা উপায়গুলোর একটা নিঃসন্দেহে ফেসবুক গ্রুপ থেকে আয়। আপনি একটা গ্রুপ খুলে সেখানে ইচ্ছা মত সদস্য যুক্ত করতে থাকুন। অনেক গ্রুপ আছে যেখানে ১-৫ লক্ষ সদস্য আছে। আপনি কয়েকটা ফেক একাউন্ট খুলে সেই ফ্রেন্ডদের গ্রুপে অ্যাড করতে থাকেন। একটা গ্রুপ থেকে আপনি কয়েক ভাবে আয় করতে পারেন।
নিছে কয়েকটি উপায় লেখা হলো।

১) আপনার নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারেন । এটা অনেকেই করে থাকে। তবে এটা খুব লিমিটেড হয়ে যায়। এজন্য আপনি সবাই কে গ্রুপে সেল করার সুযোগ করে দিতে হবে। ফলে সবাই গ্রুপের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠবে আর নতুন নতুন সদস্য যোগ করবে।  
২) আপনার গ্রুপটি সাবস্ক্রিপশন-বেসড করতে পারেন । যেখানে শুধুমাত্র পেইদ কাস্টমার রা তাদের পণ্য শেয়ার করতে পারবে। তবে তার জন্য আপনার গ্রুপে অনেক বেশী সদস্য হতে হবে।  কারণ অনেক  গ্রুপই আছে যারা ফ্রিতে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ দিয়ে থাকেন ।  যদি আপনার গ্রুপে ১ লাখের উপর সদস্য থাকে তবে সবাই টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিতে রাজি হবে।
৩। অনেকে একটা গ্রুপ দিয়েই একটা ই কমার্স সাইট পরিচালনা করে থাকেন।  আপনিও চাইলে আপনার একটা গ্রুপ দিয়ে একটা ই কমার্স সাইট চালু করে দিতে পারেন। এছাড়া আপনি চাইলে একটা মাল্টি ভেন্ডর ওয়েবসাইট দিতে পারেন। ফলে অনেক সেলার এই গ্রুপে যুক্ত হবে আর আপনি ই কমার্স সাইট থেকে একটা কমিশন পেতে পারেন।

ফেসবুক ভিডিওঃ
ভিডিও মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে আপনার পেইজে বিজ্ঞাপনের উপযুক্ত যেকোনো ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ আপনি স্বয়ংক্রিয় ভাবেই পাবেন। ভিডিও মনিটাইজেশন অন থাকলে যে কোন ব্যাবহারকারী যখন আপনার পেইজের আপলোড করা ভিডিও দেখবে তখন ভিডিও মাঝে কিছু অ্যাড দেখবে, সেই অ্যাডে যদি কেউ ক্লিক করে বা দেখে তখন আপনাকে ফেসবুক কিছু টাকা দিবে, এইভাবেই আপনি ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন।
যেভাবে ফেসবুক পেইজ থেকে আয় করার উপযুক্ত হবেনঃ
আপনার ফেসবুক পেইজে সর্বনিম্ন ১০,০০০ (দশ হাজার) বা তার বেশি লাইক / ফলোয়ার থাকতে হবে। শেষ ২ মাসে (৬০ দিনে) আপনার পেইজে সর্বনিম্ন ৩০,০০০ (তিরিশ হাজার) মিনিট ভিডিও ভিউজ থাকতে হবে।প্রতিটি ভিউজ অবশ্যই মিনিমাম ১মিনিটের বেশী হতে হবে এবং সেই ভিডিওটি অবশ্যই ৩ মিনিটের বেশি লম্বা হতে হবে।

পেইজ মনিটাইজেশন করতে যা যা লাগবে তার বিস্তারিতঃ
আমরা সবাই জানি, ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে হলে তাদের কিছু র্শত মেনে কাজ করার পরেই তারা ইনকামের রাস্তা খুলে দেয়, ঠিক তেমনি ফেসবুক থেকে টাকা আয় করতে হলেও ফেসবুকের কিছু র্শত পূরণ করা বাঞ্ছনীয়। ফেসবুক পেইজ মনিটাইজেশন করার জন্য শর্তগুলো হচ্ছেঃ
১. প্রথম কথা, Facebook video monetization করার জন্য আপনার ফেসবুক পেইজে মিনিমাম ১০,০০০ (দশ হাজার) লাইক বা ফলোয়ার লাগবে।
২. বিষয়টি ভালো করে বুঝুন, ফেসবুক থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার ফেসবুক পেইজ লাগবে, কোন ফেসবুক প্রোফাইল বা ফেসবুক গ্রুপ দিয়ে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন না। শুধুমাত্র আপনার ফেসবুক পেইজ থেকে মনিটাইজেশন চালু করা যাবে।

৩. আপনি যেই পেইজটিতে মনিটাইজ অন করতে চান সেই পেইজে আপলোডকৃত ভিডিওগুলোর ডিউরেশন বা সময় মিনিমাম (সর্বনিম্ন) ৩ মিনিটের হতে হবে, ভিডিও যদি ৩ মিনিটের কম ডিউরেশনের হয় তাহলে তাতে মনিটাইজেশন চালু করা যাবে না।
৪. আপনার Facebook পেইজটিতে আপলোডকৃত সর্বনিম্ন ৩ মিনিটের সবগুলো ভিডিও মিলিয়ে সর্বশেষ ষাট দিনে (গত ২ মাসে) সর্বমোট ভিডিও ভিউ কমপক্ষে ৩০ হাজার হতে হবে।
৫. প্রত্যেকটি ভিডিও অবশ্যই ভিউয়ারকে কমপক্ষে ১ মিনিট করে দেখতে হবে। ভিডিওর ভিউ ১ মিনিটের কম হলে পেইজের মনিটাইজেশন অন হবে না।
৬. আপনার ফেসবুক পেইজটিতে কপি পেস্ট কোন ভিডিও পোস্ট করা থাকলে মনিটাইজেশন অন হবে না। তাই সবসময় ইউনিক কিছু চিন্তা করে নিজেই ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিবেন কপি পেস্ট কোন ভিডিও গ্রহণযোগ্য নয়।

আপনার ফেসবুক পেইজে Video মনিটাইজ করার জন্য উপরের সকল  র্শত গুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
যে ভাবে Video মনিটাইজেশন চালু করা যায়ঃ

১. ফেসবুক পেইজে ভিডিও মনিটাইজেশন চালু করার জন্য প্রথমে আপনাকে Facebook Creator -তে যেতে হবে।
২. তারপর যেই পেইজটিতে মনিটাইজেশন চালু করতে চান সেই পেইজটি সিলেক্ট করে নিন।
৩. এরপর Apply বাটনে ক্লিক করুন।
৪. তারপর Check Eligibility -তে ক্লিক করে আপনার পেইজটি মনিটাইজেশনের র্শত (Terms & Conditions) পূরণ করেছে কিনা দেখে নিতে পারবেন অথবা আপনি যে পেইজটিতে মনিটাইজেশন অন করতে চান সেই পেইজে গিয়ে Publishing Tools এ ক্লিক করে বাম পাশে Creator Studio তে ক্লিক করুন।
৫. আপনার পেইজটিতে যদি মনিটাইজেশন এর সকল র্শত পূরণ হয়ে থাকে তাহলে আপনার পেইজে মনিটাইজেশন Enable হয়ে যাবে।
কিভাবে আয় হয়ঃ
যে পেইজে মনিটাইজেশন অন হয় সেই পেইজে প্রকাশিত ৩ মিনিটের বেশি ডিউরেশনের ভিডিও গুলোতে Ad breaks মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, আর এই এ্যাড ব্রেকস থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ ভিডিও নির্মাতাদেরকে ফেসবুক প্রদান করে।
Ad breaks কিভাবে কাজ করবেঃ
আপনার পেইজে যদি Facebook মনিটাইজেশন এর দেয়া সকল র্শত পূরণ হয় তবে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই আপনার ভিডিওতে এ্যাড ব্রেকসের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে। এ জন্য আলাদা কোন কিছু করার প্রয়োজন হবে না।
মনিটাইজেশনের জন্য অযোগ্য ভিডিও কোন গুলোঃ

Facebook পেইজে আপলোড করা সব ভিডিও মনিটাইজেশন পাবেনা। এক্ষেত্রে ইউটিউবের মতো কিছু র্শত রয়েছে, নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু সর্তের কথা দেয়া হলোঃ
১. ফেসবুক কোন স্লাইড শো বা অ্যানিমেটেড ভিডিও মনিটাইজেশন এর জন্য এপ্রুভ করবে না।
২. কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার বার (টেনে টেনে) ব্যবহার করলে অর্থাৎ একই ভিডিও জোড়াতালি লাগিয়ে তিন মিনিটের ভিডিও বানিয়ে পেইজে আপলোড করলে তাতে মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে না।
৩. জাতিগত, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ভায়োলেন্স তৈরি হয় / তৈরি করতে পারে এমন কোন ভিডিওতে মনিটাইজেশন পাবেন না। পাশাপাশি কোন ধরনের এডাল্ট ভিডিওতেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মনিটাইজেশন দিবে না বলে জানিয়েছে।
৪. ভিডিওর সকল কন্টেন্ট অবশ্যই আপনার নিজস্ব হতে হবে, মানে ইউনিক হতে হবে।
টাকা উত্তোলনঃ
Facebook Video মনিটাইজেশন থেকে প্রাপ্ত টাকা আপনি চাইলে ইউটিউবের মতো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্টে ১০০ (একশত) ডলার জমা হতে হবে। ১০০ (একশত) ডলার জমা না হলে টাকা উত্তোলন করা যাবে না, আপনার ব্যাংক একাউন্ট অ্যাড করার জন্য মনিটাইজেশন থেকে পেমেন্ট এ গিয়ে আপনার ব্যাংক একাউন্ট অ্যাড করে নিতে হবে। কিভাবে Facebook Video মনিটাইজেশন -এ ব্যাংক একাউন্ট এড করবেন তা নিয়ে পরবর্তীতে জানানোর চেষ্টা করব। আশা করি সাথেই থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল কি?

বর্তমানের আধুনিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুক এখন শুধুই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয় বরং দেশ বিদেশের সকল সংবাদেরও মাধ্যম হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের / প্রতিমুহূর্তের সকল খবর / খবরের শিরোনাম / বিভিন্ন নিউজের লিঙ্ক সহ হাজার হাজার খবর এখন ফেসবুকের নিত্য সঙ্গী। কোন একটি সংবাদ পড়ার জন্য যখন একটি লিংকে ক্লিক করা হয় তখন ফেসবুক থেকে বেরিয়ে চলে যেতে হয় সেই ক্লিক করা নির্দিষ্ট লিংকের ওয়েবসাইটে। কিন্তু লোডিং টাইম বেশি হওয়ায় সেই নিউজটি আসতে অনেক সময় নেয় এবং এক ধরনের বিরক্তি / তিক্ততা চলে আসে।
ব্যাবহারকারীর / পাঠকদের এই চিরা চরিত তিক্ত অভিজ্ঞতাটি বদলে দিতেই ফেসবুক নিয়ে এসেছে “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” নামে একটি জাদুকরি চমক, যার ফলে এখন যে কোন সংবাদের শিরোনাম / লিংকে শুধু একটা ক্লিক করলেই বিদ্যুৎ গতিতে ফেসবুকেই পেয়ে যাবেন সেই সংবাদটি। কোন ওয়েবসাইটের লিংক যখন ফেসবুকে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল হিসেবে পোস্ট করা হয় তখন সেটি পড়ার জন্য ইউজারদের এমবি খরচ করে নতুন কোন ব্রাউজারে যেতে হবে না। ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল শুধুমাত্র স্মার্টফোন এ ফেসবুক ব্রাউজার দিয়ে দেখা যাবে, কিন্তু ফেসবুক লাইট দিয়ে দেখা যাবেনা।

বিশ্বের বড়বড় সকল সংবাদ মাধ্যম এরই মধ্যে ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল ফিচারটির সাথে যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, বাজফিড ছিল এই তালিকায় প্রথম। পরে অন্যান্য আরো নামিদামি সংবাদ মাধ্যমও ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। হাফিংটন পোস্ট, ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, ইন্ডিয়া টুডের মত জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমও পাঠকদের খবর পড়ার অভিজ্ঞতাকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের সাথে যুক্ত হয়েছে।
যেভাবে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এর যাত্রা শুরু হয়ঃ
২০১৫ সালের মার্চ মাসের দিকে নিউজ / খবরের লিংক শেয়ার এর জন্য হোস্টিং সেবা দিতে বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমকে কন্টেন্ট পোস্টের প্রস্তাব দেন মার্ক জাকারবার্গ। সেই সময়ে হাফিংটন পোস্ট, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, বাজফিড, নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসি শুরুতেই ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের মাধ্যমে সরাসরি তাদের কনটেন্ট পোস্টের সুযোগ পায়। তারপর ২০১৬ সালের ১২ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ভাবে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল -কে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ফেসবুকের নতুন এই ফিচারটি মূলত মোবাইল ফোন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বদলে দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে।
খুব দ্রুততম সময়ে (ফেসবুক থেকে বলা হছে, বিদ্যুৎ গতিতে) একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তার পছন্দের খবরটি পড়তে পারবেফেসবুকে থেকেই। “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, এই ফিচারটির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাৎক্ষণিক পাঠ। কোন একটি নিউজ দেখলেন, পড়ার জন্য ক্লিক করলেন, ব্যস তাতেই কাজ যা হওয়ার হয়ে যাবে। সংবাদ বা কোন কন্টেন্ট লোড হওয়ার যে প্রতীক্ষা একটি ওয়েবসাইট লোড হতে সময় নিতো তা একেবারেই ভুলে যাবেন আপনি। ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল সংযুক্ত যেকোন নিউজ লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথেই সেটি আপনার মোবাইলে চলে আসবে, কারণ এটি ১০ গুণ দ্রুত স্পীডে কাজ করে।
মূলত আসল কথা হচ্ছে, আপনি কোন একটি পোষ্টে ক্লিক করলে, সেই নিউজ/খবরটি চোখের নিমেষেই আপনার মোবাইলে এনে হাজির করবে, ঐ সাইটটিকে নয়। “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” ব্যবহারকারীরা হাই রেজল্যুশনে যেকোন ছবি জুম করে দেখতে পারবে, স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলতে থাকা ভিডিওগুলিও দেখতে পারবে কোন বাধা ছাড়াই। যখন কেউ নিউজ পরবে / ভিডিও দেখবে, দেখে মনে হবেনা যে এটি ইন্টারনেট থেকে লোড হচ্ছে, বরং মনে হবে এটি একটি সেইভ করা ফাইল, এবং আপনি মাত্র একটি ক্লিক করার সাথে সাথেই ফাইলটি খুলে গেল।
আপনার পড়া কোন কন্টেন্ট “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের” সাথে সম্পৃক্ত কিনা, সেটি বোঝার খুব সহজ উপায় আছে। যেকোন শেয়ার করা লিংকের ডানপাশে একটি বিদ্যুতের মত (থান্ডারবোল্ট) চিহ্ন দেখলেই বুঝে নিবেন সেটি ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল।
ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এর সুবিধা সমূহঃ

    “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” খুব দ্রুত লোড হবে।
    “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” -এ ব্রাউজার ক্যাশ থাকে তাই পরবর্তী আর্টিকেল নতুন করে লোড না হয়ে ক্যাশ থেকে লোড হয়।
    “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” আপনার ফেসবুক পেজে আর্টিকেলের স্ট্যাটিকস দেখতে পারবেন।
    “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” -এ মনিটাইজেশন অ্যাড দিয়ে আয় করা যায়।

ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এর অসুবিধা সমূহঃ
    ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের উইজেট এবং অনেক শর্টকোড কাজ করে না।
    মেইন সাইটের ভিজিটর কমে যাবে, তবে সাইটের রাঙ্কিং কমবে না।
    এপ্রুভ পেতে একটু কষ্টকর।

ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এ কাজ করতে চাইলে যা যা প্রয়োজনঃ

    আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি ফেসবুক পেজ প্রয়োজন হবে।
    আপনার সাইটে নিয়মিত কন্টেন্ট পোষ্ট / পাবলিশ করতে হবে।
    পোষ্টের লিংক ফেসবুক পেইজে শেয়ার করতে হবে (**আপনার ফেসবুক থেকে ওয়েবসাইটের লিংকে মিনিমাম ৩০ হাজার লিংক ক্লিক থাকতে হবে)।
    আপনার পেইজে মোটামুটি ৫০০/১০০০ লাইক থাকতে হবে (**বেশি থাকলে এপ্রুভ পেতে আরো সহজ হবে)।
    আপনার সাইটটি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করুন, এতে আপনার সুবিধা হবে।
    ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল ফর ওয়ার্ডপ্রেস (Instant Articles for WP) প্লাগিন ইন্সটল করতে হবে।
    আপনার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হবে।

যেভাবে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল চালু করবেনঃ
ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল চালু করতে চাইলে মাত্র ৬টি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

১) প্রথমেই ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের instantarticles.fb.com–এই লিংকে ক্লিক করে সাইনআপ করে নিন। (এখানে গেলেই প্রতিটি স্টেপ ফেসবুক আপনাকে দেখিয়ে দিবে।)

২) সাইনআপ করার পর পরবর্তী পেজে — আপনার পেজ নির্বাচন করতে হবে। (**আপনি যেই পেজ নির্বাচন করবেন সেটিতে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল চালু হবে। (আপনি ফেসবুকের সকল শর্ত মেনে তার সাথে একমত আছেন, এই মর্মে বক্সে টিক মার্ক দিয়ে আপনার পেইজের “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” টুলস চালু করুন।)

৩) এবার “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” যেই পেইজটিতে চালু করলেই সেই পেজে যান। > Publishing Tools এ ক্লিক করুন, > ক্লিক করার পর দেখবেন বাম পাশে নিচের দিকে “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” নামে নতুন অপশন অ্যাড হয়েছে, > সেই অপশন থেকে কনফিগারেশন এ ক্লিক করুন।

৪) > এবার Connect Your Site -এ ক্লিক করুন, এরপর আপনার পেইজ আইডিটি কপি করে আপনার ওয়েবসাইটের <head> ওপেনিং এ বসিয়ে দিন। (এইটা না করলে হবে না)

৫) > URL -এ আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দেয়ার পর Submit URL -এ ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইট সাবমিট করুন।

এখানে একটি বিষয় বলে রাখতে চাই, আপনার যদি ওয়ার্ডপ্রেসের ওয়েবসাইট হয়ে থাকে তবে আপনার ওয়েবসাইটে অবশ্যই ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল ফর ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন চালু করতে হবে তারপরই ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের জন্য লিংক সাবমিট করতে হবে।

এইচটিএমএল ওয়েবসাইট হলে <head> ওপেনিং এ <meta property=“fb:pages” content=“XXXXXXXXXXX” /> বসিয়ে সেভ করে সোজা আপনার ওয়েবসাইটের লিংক বসিয়ে ক্লেইম করুন। ক্লেইম করতে না পারলে / কোন সমস্যা হলে আপনার ওয়েবসাইটের ডেভেলপারের সাথে যোগাযোগ করুন।

৬) আপনার ওয়েবসাইটের লিংক সঠিক ভাবে ক্লেইম হয়ে গেলে ফেসবুক অটোমেটিকলি আপনার ওয়েবসাইটে করা সব পোস্ট Production Articles -এ নিয়ে আসবে।

সেখান থেকে ভালো মানের (ইউনিক) ১০টি পোস্ট সিলেক্ট করে রিভিউয়ের জন্য দিন। সঠিকভাবে রিভিউয়ের জন্য সাবমিট করা হলে আপনাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা (সর্বচ্চো ৩০দিন) অপেক্ষা করতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” প্রকাশ করার জন্য অনুমতি পেয়ে যাবেন ফেসবুক থেকে।

সাধারণত রিভিউ রেজাল্ট ২ / ৩ দিনের মধ্যে পাবেন। আপনার পোস্ট যদি ইউনিক হয় তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট ফেসবুক “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” হিসেবে চালু হবে। আপনার “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” একটিভ হয়ে গেলে ফেসবুক ডেভেলপার সাইটে গিয়ে ইনকাম কত হল তা দেখে নিতে পারবেন।
যে তথ্য গুলো জানা খুবই জরুরীঃ

“ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” একটিভ হবার পর অবশ্যই ইউনিক কন্টেন্ট পোষ্ট দিতে হবে। আগে কপি পেস্ট কন্টেন্ট দিলেও ফেসবুক সেটা গ্রহণ করতো কিন্তু সম্প্রতি নতুন আপডেট আসার পর থেকে কপি পেস্ট কন্টেন্টের সাইট গুলোর “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” বাতিল করে দিচ্ছে ফেসবুক।

এই ফিচার থেকে আয় বাড়াতে চাইলে বিশেষত বড় (ইউরোপ) দেশ গুলোর প্রবাসী বাংলা ভাষা ভাষীদের টার্গেট করতে হবে। সেখান থেকে পাঠক ঢুকলে আয় বৃদ্ধি পাবে। অনেকেই মনে করেন “ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল” ওয়েবসাইটের ট্র্যাফিক কমিয়ে দেয়। কথা সত্য ফেসবুক সার্ভার থেকে ওয়েবসাইটে পাঠক ঢুকলে সরাসরি সাইটের পাঠক কমবে থিকই কিন্তু সাইটের হিট কমবে না। একই সাথে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের ফলে অ্যালেক্সা রাঙ্কিয়েও কোন ধরনের প্রভাব পরবে না। এজন্য অবশ্যই গুগল অ্যানালিটিকস কোড ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলে বসাতে হবে। তাহলেই গুগল অ্যানালিটিকে পাঠকের পরিসংখ্যান দেখাবে।

ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

আপনার অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি / ওয়েবসাইটের পোষ্ট গুলো কতটা পপুলার তার উপর ভিত্তি করে নির্ভর করবে আপনার আয় কত হবে। আপনার ওয়েবসাইটের ভাষা বাংলা নাকি ইংরেজি সেটি কোন বিষয়ই নয়। দেশ কিংবা বিদেশ যেখান থেকেই পাঠক পড়বে সেখান থেকেই আপনার আয় হবে এবং আপনার অ্যাকাউন্টে সেই ডলার যোগ হবে।
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর মত বড় দেশ গুলোতে পাঠক থাকলে আপনার আয় অনেক বেশি হবে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ ডলার আয় করে এমন ওয়েবসাইটও কিন্তু রয়েছে।
বিজ্ঞাপন কিভাবে আসবে?
ফেসবুক আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেলের পোষ্ট নিয়ে ফেসবুক পেজের পোস্টের সাথে বিজ্ঞাপন দিবে এবং সেই বিজ্ঞাপনের জন্যই মূলত ফেসবুক আপনাকে ডলার / টাকা দেবে। আরেকটি বিষয়ঃ আপনার ওয়েবসাইটে যদি গুগলের অ্যাডসেন্সও যুক্ত করা থাকে তবে তা ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এর উপর কোন ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
কিভাবে টাকা আসবে?
টাকাটা সরাসরি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। অথবা আপনার ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল যদি কোন এজেন্সির সাথে লিংক করা থেকে তাহলে তারা নিজ দায়িত্বে আপনাকে চেক বা ক্যাশে পেমেন্ট করবে।
মিনিমাম ১০০ ডলার হলে ফেসবুক আপনাকে পেমেন্ট দিবে। আর যদি ডলার ১০ হাজারের বেশি হয় তখন, অবশ্যই আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে সি-ফর্ম পূরণ করে সাথে ফেসবুক থেকে পাঠানো ইনভয়েস সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। এরপর যথা সময়েই টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।
কিভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার যুক্ত করবেন?
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার জন্য আপনার পেজের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল অপশন থেকে Monetization / Audience Network এ যান, এরপর Your Dashboard -এ ক্লিক করুন, এবার Payouts -এ ক্লিক করুন, Add Payment Account – এ ক্লিক করে আপনার বিস্তারিত তথ্য দিন, বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার পর Continue তে ক্লিক করুন। এবার Payment Information এ আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বারটি দিয়ে সেভ দিন, ব্যাস আপনার কাজ শেষ।  
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বর্তমানে ফেসবুক অন্যতম। যত দিন যাচ্ছে ততই ফেসবুকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ বিভিন্ন কারণে ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। কেউ বিনোদনের জন্য এবং জনপ্রিয়তার জন্য ব্যবহার করে। আবার কেউ টাকা আয় করার জন্য ব্যবহার করে। তাই আজ আমি ফেসবুক থেকে টাকা আয় করার নিয়ম সম্পর্কে লিখলাম।
বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বের অনেক লোকজন, ফেসবুকের মাধ্যমে টাকা আয় করে। অনেকে ফেসবুক ব্যবহার করে, কিন্তু তারা জানে না কিভাবে টাকা আয় করা যায়। তাই প্রতি দিন অনেক লোক আামকে জিজ্ঞেস করে থাকে। ফেসবুক থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়।

ফেসবুক ইভেন্টঃ
ফেসবুক থেকে আয় করার উপায় গুলির মধ্যে আর একটি পরিচিত পদ্ধতি হল ফেসবুক ইভেন্ট। বিভিন্ন বিষয়ে ওয়ার্কশপ, লাইভ অনুষ্ঠান বা আলোচনা-র আয়োজন করুন ফেসবুক ইভেন্ট হিসেবে। তার সাবস্ক্রিপশন বা ফি হিসেবে টাকা আয় করার সুযোগ থাকবে।      

ফেসবুক জবসঃ
আপনার এলাকায় বিভিন্ন চাকরি বা কাজের সন্ধান থাকে ফেসবুক জবস বিভাগে।  ফেসবুক নতুন করে এই ফিচারটি যোগ করেছে। আপনি যদি পেশায় একজন  ফ্রিলান্সার হন, তা হলে জবস সেকশনে থাকা বিভিন্ন ফ্রিলান্স প্রোজেক্টে অংশ নিয়ে উপার্জন চালিয়ে যেতে পারেন। তবে এখনো এই বিষয়টি তেমন ভালো করে গড়ে উঠেনি ফেসবুকে ফলে সেই লেভেলের চাকরি দাতারা এখনো ফেসবুকে চাকরি বিজ্ঞাপন দেয় না।
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারঃ
ফেসবুক করা নেশা হয়ে গিয়েছে? ফেসবুকের যাবতীয় খুঁটিনাটি, তথ্য, প্রযুক্তিগত সুবিধা সবই আপনার নখদর্পণে। সেটাকেই কাজে লাগিয়ে এ বার ফেসবুক থেকে টাকা আয় করুন ডিজিটাল মার্কেটিং ক্ষেত্রে। আপনাকে এজন্য এই বিষয়ে প্রচুর জ্ঞান আহরণ করতে হবে। আপনি গ্রাপিক্স ডিজাইন শিখতে পারেন। অল্প বিস্তর এইস টি এম এল শিখে নিতে পারেন। ভিডিও সম্পাদনা শিখতে পারেন। সব বিষয় শিখে আপনি শুরু করতে পারেন  সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে।  অনেক কোম্পানি অনলাইনে কাজ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ দিয়ে থাকেন। অনলাইনে সিভি দিয়ে কাজ নিতে পারবেন খুব সহজেই।


ভুল ধরুন ফেসবুকেরঃ
যদিও এই কাজ খুব কঠিন, তবে এই কাজ করে ফেসবুক থেকে আয় করতে হলে আপনাকে প্রোগ্রামিং জানতে হবে অনেক ভালো ভাবে। অনেক ডেভলপার আছেন যারা এসব কাজ করে ফেসবুক থেকে আয় করে থাকেন।  ফেসবুকের প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বাগ বা ভাইরাস খুঁজে দিতে পারলে স্বয়ং ফেসবুক কর্তৃপক্ষই পুরস্কার দেন। কে বলতে পারে, আপনার ভাগ্যেই হয়তো শিকে ছিঁড়ল !    তবে এ কাজ করতে আপনাকে অনেক দক্ষ হতে হবে। কারন ফেসবুকেও কিন্তু অনেক বড় বড় ডেভলপার আছে। আপনার নির্ণয় করা ভুলটি খুব সূক্ষ্ম হতে হবে।    

ফেসবুক থেকে আয় করার আরেকটি উপায়া ছে সেটি হলো পরোক্ষ ভাবে আয় করা। নিছে কিছু পরোক্ষ ভাবে ফেসবুক থেকে আয় করার ট্রিক্স দেয়া হলো । আসা করি ফেসবুক থেকে আয় করতে এসব আপানদের কাজে আসবে।  

লিমিটেড টাইম চ্যালেঞ্জঃ
নতুন ব্যবসায় ক্রেতা টানতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা অথবা  বিনামূল্যে পণ্য বা সেবা দেয়ার ব্যবস্থা করা আজকাল ব্যবাসা প্রচারের একটা  প্রচলিত নিয়ম। ফেসবুক থেকে আয়ের ক্ষেত্রে এটিও হতে পারে আপনার  জন্য একটি বিরাট সুযোগ।  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে  বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বা বিনামূল্যে পণ্য বা সেবা জেতার সুযোগএ অংশ নিতে চান অনেকেই। এর মাধ্যমেই  বিক্রেতা তার সেই পণ্য বা সেবাটি সম্পর্কে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করে তাকে নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত করে ফেলেন। বিভিন্ন কোম্পানি আজকাল এসব বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। যেমন ৫০% ক্যাশ ব্যাক, আবার ১০০% ক্যাশ ব্যাক অফার।

মিম থেকেও আয়ঃ
মিম হলো কোন ছবিকে মানুষের জন্য মজাদার করে ফেসবুকে শেয়ার কয়ার। ফেসবুকের এসব পোস্ট করা মজাদার মিমকে টিশার্ট বা কফি মাগের ডিজাইন হিসেবে  পোস্ট করতে পারেন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে। যেমন টিস্পিং একটি ওয়েবসাইট। এখানে আপনি আপানর ডিজাইন গুলি দিতে পারেন। যদি উপজুক্ত হয় তবে আপানার ডিজাইন বিক্রির আয় থেকে আপনিও পাবেন একটা অংশ ।
বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি।  
ফেসবুক থেকে আয় করার এটা একটা ভালো উপায়। আপনি যদি ফেসবুকে বেশ পরিচিত হন তবে  বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করেও আয় করতে পারেন।  নিজের কোনও কিছু, সে লেখালেখি হোক বা অন্য অ্যাক্টিভিটি- যেমন ভিডিও যেটা পোস্ট করলেই দেদারসে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার হয় । ফেসবুকে আপানর  ফ্যানের সংখ্যা ১০০০০০ এর বেশি, ভিডিওতে পোস্ট এনগেজমেন্ট অন্তত ১৫,০০০।  তৈরি থাকুন, যে কোন সময় আপনাকে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য প্রমোট করার জন্য ডাকতে পারে।

বিস্তারিত
গার্মেন্টস স্টক লট ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন
গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় একটি দেশ। বাংলাদেশের রপ্তানি পন্যের প্রায় পুরো অংশই গার্মেন্টস পন্য। গার্মেন্টস শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে স্টক লট ব্যবসা। আজ আমাদের আলোচনা এই স্টক লট ব্যবসা নিয়েই। স্টক লট ব্যবসা কি? কিভাবে  স্টক লট ব্যবসা করবেন? স্টক লট ব্যবসার সুবিধা-অসুবিধা কি? কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হবে স্টক লট ব্যবসা করতে? কোন ধরনের পন্য ক্রয় করবেন? পন্য কোথায় বিক্রি করবেন? কিভাবে পন্য বিক্রি করবেন? এই সকল বিষয় নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করব।

আমরা জানি যে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমান গার্মেন্টস পন্য রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস কোম্পানিগুলো বিদেশের বায়ারদের থেকে ৫০০০ পিস থেকে শুরু করে ৫ লাখ - ১০ লাখ পিস পন্যের অর্ডার নেয়। এগুলো যেকোনো ধরনের গার্মেন্টস পন্য হতে পারে। যেমন- টি শার্ট পলো শার্ট, প্যান্ট, সুয়েটার ইত্যাদি পন্য। মাঝে মাঝে এই অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। অর্ডার বাতিল  হওয়ার কারণে তৈরি পন্যগুলো গার্মেন্টস মালিকরা কম দামে বিক্রি করে দেয়। সেই পন্য স্টক লট ব্যবসায়ীরা কিনে এনে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। আবার কখনও গার্মেন্টস  কোম্পানিগুলো যে পরিমান পন্যের অর্ডার পায় তার থেকে বেশি তৈরি করে। যেমন ধরুন একটি গার্মেন্টস কোম্পানি ৫০ হাজার টি শার্টের অর্ডার পেয়েছে। এখন গার্মেন্টস কোম্পানি কিন্তু একেবারে ৫০ হাজার পিস টি শার্ট তৈরি করবে না। তারা অতিরিক্ত আরও ৫ হাজার অথবা ১০ হাজার পিস বেশি তৈরি করবে। কারন কিছু টি শার্টে স্পট থাকতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত কিছু টি শার্ট তৈরি করে। এই অতিরিক্ত পন্য প্রায় সময় প্রয়োজন হয় না। তাই তারা এগুলো কম দামে বিক্রি করে দেয়। এটাই হল গার্মেন্টস স্টক লট ব্যবসা।

এই ব্যবসা সম্পর্কে অনেকে আগ্রহ রাখলেও বুঝতে পারেননা যে কিভাবে স্টক লট ব্যবসা করবেন। কিভাবে এই ব্যবসার শুরুটা করবেন।
প্রথমে আপনি ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে স্টক লট  ব্যবসা শুরু করাটাই ভালো হবে। প্রথমেই  বেশি টাকা ইনভেস্ট করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।  আর এমন পন্য দিয়ে শুরু করবেন যেগুলো ভালো চলবে। প্রথমে চেষ্টা করবেন ব্রান্ডের পন্য ক্রয় করতে। এতে দ্রুত বিক্রি করতে পারবেন।
১ থেকে ২ হাজার পিস টি শার্ট দিয়ে  শুরু করতে পারেন। প্রথমে ১ থেকে ২ হাজার পিস টি শার্ট বা পলো শার্ট কিনে এগুলো বিভিন্ন দোকান এবং নিজে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। ধরুন আপনি ১০০০ পিস প্রিন্টেড টি শার্ট কিনলেন। একটি টি শার্টের দাম যদি হয় ৭০ টাকা তাহলে খরচ পড়বে...
১০০০×৭০=৭০০০০৳
আরও অন্যান্য খরচ ধরেন ৫০০০ টাকা। তাহলে আপনার প্রতি টি শার্টের মূল্য দাড়ায় ৭৫ টাকা। আর এগুলো আপনি ১০০/১১০ টাকা দরে বিক্রি করবেন দোকানগুলোতে এবং নিজে খুচরা বিক্রি করলে ১৫০-১৮০৳ দরে বিক্রি করতে পারবেন। এটাতো হল আপনার স্টক লট ব্যবসার শুরু। শুরুতে লাভের পরিমান কম হবে এটাই স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে নতুন কাস্টমার পাবেন। তারপর আপনি বড় লটের পন্য কিনতে পারবেন। বিদেশে পন্য পাঠাবেন।

স্টক লট ব্যবসার সুবিধা হচ্ছে এতে ঝুঁকি কম এবং লাভও বেশি। কিন্তু এ ব্যবসার কিছু অসুবিধাও আছে। যেমন ধরুন অনেকগুলো লট এমন থাকে যেখানে ভালো পন্যের হার ৪০-৬০/৭০%। বাকি পন্যের একটা অংশ রিপেয়ার করা যায়। কিন্তু একটা অংশ পন্য ব্যবহার যোগ্য থাকেনা। সুতরাং কিনার সময় বুঝে শুনে কিনবেন। স্পট থাকবেই, কিন্তু আপনাকে হিসাব করে কিনতে হবে যাতে রিপেয়ার করার খরচ এবং বাতিল পন্যের মুল্য উঠে লাভ কিরকম হবে। তারপর স্টক লট ব্যবসার আরেকটি অসুবিধা হল সবসময় আপনি এক ধরনের পন্য পাবেন না। তারপর মিক্সড সাইজের পন্যও স্টক লট ব্যবসার অন্যতম একটি অসুবিধা। এসকল বিষয় আপনি যখন নতুন থাকবেন, হিসাব করতে কঠিন হবে। অভিজ্ঞতার সাথে সহজ হয়ে যাবে। আবার কখনও পুরো লটের পন্যই ক্রয় করতে হয়। অর্থাৎ একটি লটে যদি ৩০৫৬০ টি পন্য থাকে তাহলে সবগুলি কিনতে হয়। তাই পন্য ক্রয় করার আগে মার্কেটে চাহিদা কেমন তা যাচাই করে নিবেন।

এবার আসি পন্য কোথায় কিভাবে বিক্রি করবেন।
স্টক লটের ব্যবসা করতে গেলে আপনার একটি গুদামঘর বা দোকানের প্রয়োজন হবে। যেসব স্থানে গার্মেন্টস স্টক লটের ব্যবসা চলে সেসব স্থানে দোকান নেওয়ার চেষ্টা করবেন। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে ভাল সম্পর্ক করে বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করবেন। বায়ারদেরকে পন্যের স্যাম্পল দেখাবেন। এভাবে আপনার কাস্টমার তৈরি হতে থাকবে। ধীরে ধীরে বিদেশের বায়ারদের সাথে যোগাযোগ করবেন। মনে রাখবেন আপনি যে পন্য দেশে ১২০ টাকায় বিক্রি করেন সেটা বিদেশে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। সেখানে দাম একটু বেশি পাওয়া যায়। তাই বিদেশি বায়ারদের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরি করবেন। বর্তমানে অনেকেই স্টক লটের পন্য বিদেশে বিশেষ করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন।
আর পন্য ক্রয় বিক্রয় করতে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যাংক ব্যবহার করবেন। এতে প্রতারণার শিকার থেকে রক্ষা পাবেন।


আজকের আলোচনা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত
কিভাবে শুরু করবেন খেজুরের ব্যবসা
বর্তমান বাংলাদেশে খেজুরের ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি  জাতের খেজুরের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েই যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশে যে খেজুরের বাজার রয়েছে তার সিংহভাগ বেচাকেনা রমজানকে ঘিরেই হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর খেজুরের চাহিদা প্রায় ৫০ হাজার টন, এবং শুধু রমজান মাসেই খেজুরের চাহিদা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টন। অনেক ব্যবসায়ীরা শুধু রমজান মাসের আগেই এ ব্যবসা করে থাকেন। তাই বলে এর চাহিদা যে শুধু রমজান মাসেই থাকে এমনটি নয়। বছরের অন্যান্য সময়েও এর চাহিদা প্রচুর এবং চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকের মাথায় হয়ত খেজুর নিয়ে একটু ভিন্নরকম ব্যবসা করার আইডিয়া উঁকি মেরেছে কিন্তু সঠিক গাইডলাইনের অভাবে শুরু করতে পারেন নি। আবার অনেকে শুরু করে ছেড়ে দিয়েছেন। আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে শুরু করবেন খেজুরের ব্যবসা। কিভাবে এই ব্যবসাকে বড় করবেন? এই ব্যবসা করতে কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হবে এবং আর কি কি দরকার হবে? কোন জাতের খেজুরের ব্যবসা করলে বেশি লাভবান হবেন?   কিভাবে অন্যদের থেকে ভিন্ন ভাবে এই ব্যবসা পরিচালনা করবেন?.....

খেজুরের উপকারিতা যেমন অতুলনীয় তেমনি স্বাদও। খেজুর পছন্দ করেনা এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। আর পবিত্র রমজান মাস খেজুর ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। বর্তমানে রমজানের আগে পরে ফেসবুক ইন্সটাগ্রামে খেজুরের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখা যায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তারা ব্যবসা ছেড়ে দেন। তার মূল কারণ হল তারা ব্যবসাটি ভালভাবে ধরতে পারেনা। আচ্ছা এখন আপনি কিভাবে এই ব্যবসা শুরু করবেন? তার আগে দেখতে হবে আপনার বর্তমান অবস্থা কি? যারা খেজুরের ব্যবসায় একেবারে নতুন অর্থাৎ অনলাইন অফলাইনে কোথাও এ ব্যবসা আগে করেনি তাদের শুরু করার ধরন আর যারা এর আগেও ব্যবসা করেছে অথবা বর্তমানেও অন্যান্য ফলের ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের খেজুরের ব্যবসা শুরু করার ধরন ভিন্ন হবে। যারা এর আগে কখনও খেজুরের ব্যবসা করেনি তারা কিভাবে শুরু করবে সেটা আগে বলি।
ধরুন আপনার অফলাইনে কোনো দোকান বা অফিস অথবা গুদামঘর এগুলো কিছুই নেই। আপনার হাতে ১৫-২০ হাজার টাকাও আছে। কোনো সমস্যা নেই এই অল্প টাকা দিয়েই শুরু করতে পারবেন। তার আগে আপনাকে খেজুরের কোনো পাইকারি ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে নিতে হবে। আপনি তার কাছ থেকে অল্প অল্প করে খেজুর কিনবেন। ধরুন ১০ থেকে ১৫ কেজি খেজুর একসাথে কিনবেন। তারপর প্যাকেটে  একটু পরিবর্তন আনবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে স্টিকারও লাগাতে পারেন। তারপর একটু দামি যে খেজুর থাকে সেগুলো ছোট বক্সে রাখবেন। ১/২ কেজি এবং ১ কেজি খেজুর ধরে এধরনের বক্স নিবেন। বক্সগুলো সচ্ছ থাকতে হবে যাতে ভিতরের খেজুর দেখা যায়। বক্সের উপরে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম যেনো থাকে। বক্সের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ তারিখ  উল্লেখ করবেন। এ ব্যবসা শুরু করতে আপনার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হলেই চলবে।  এবার আসি কাস্টমার পাবেন কোথায়। এটা কিন্তু অনলাইন নির্ভর ব্যবসা হবে কারন আপনার অফলাইনে কোনো দোকান নেই। আপনি কার্ড এবং লিফলেট ছাপাতে পারেন যেখানে ছবিসহ খেজুরের দাম এবং অন্যান্য কন্ডিশন উল্লেখিত থাকবে। লিফলেট বেশি প্রচার করবেন পরিচিত জনদের কাছে কারণ পরিচিতজনদের কাছে আপনি মোটামুটি বিশস্ত। আর মেয়াদোত্তীর্ণ বা খারাপ পন্য বিক্রির চিন্তাও মাথায় আনবেন না। আপনি যদি আজওয়া খেজুর বিক্রি করেন তাহলে অরিজিনালটাই দিবেন। এভাবে সকল পন্যই নির্ভেজাল রাখবেন। তারপর আসি, যাদের ইতিমধ্যে কোনো ফলের দোকান আছে তারা কিভাবে এ ব্যবসা করবে?
যাদের ফলের দোকান আছে তারা অন্যান্য ফলের পাশাপাশি খেজুর দোকানে উঠাবে। কিন্তু এতে তারা অতিরিক্ত কাস্টমার পাবেনা। অতিরিক্ত কাস্টমার পাওয়ার জন্য আপনার ইন্টারনেটকে ব্যবহার করতে হবে। ফেসবুকে আপনার দোকানের নামে পেইজ খুলতে হবে। সেখানে খেজুরের বিভিন্ন অফার এবং খেজুরের দাম সম্পর্কিত পোস্ট  এবং ভিডিও আপলোড দিবেন। শুধু খেজুর নয় সেখানে অন্যান্য ফলও বিক্রি করতে পারেন। ফেসবুক অনলাইনে বেচাকেনার জন্য বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। সুতরাং এটাকে কাজে লাগাতে হবে। পেইজে খেজুর সহ অন্যান্য ফলের উপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম নিয়েও নিয়মিত পোস্ট দিবেন। আর কাস্টমার পেতে অবশ্যই পোস্ট বুস্ট করতে হবে।

খেজুরের কিন্তু অনেকগুলো জাত রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় হল... আজওয়া, আনবারা, সাগি, সাফাওয়ি, মুসকানি, খালাস, ওয়াসালি,বেরহি, শালাবি, ডেইরি, মাবরুম ইত্যাদি। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল আজওয়া খেজুর। বাংলাদেশেও এ খেজুরের চাহিদা বেশি তবে দামও একটু বেশি।
বাংলাদেশে যে সকল খেজুর পাওয়া যায় তার দাম কেজিপ্রতি ৭০৳ থেকে ৩০০০৳ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কোথায় পাইকারি খেজুর পাবেন?
বাংলাদেশে খেজুরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার হল ঢাকার বাদামতলী। আপনি চাইলে সেখান থেকে পাইকারি খেজুর ক্রয় করে ব্যবসা করতে পারেন। বর্তমানে যেহেতু আজওয়া,  আনবারা, সাফাওয়ি খেজুরের চাহিদা বেশি এবং দামও ভালো পাওয়া যায় তাই এইসব খেজুরের ব্যবসা করলে বেশি লাভবান হবেন। শুকনো খেজুরের চাহিদাও কম নয়। তাই শুকনো খেজুরের ব্যবসাও করতে পারেন। আপনি যদি খেজুর পাইকারি বিক্রি করতে চান তাহলে আপনি আমাদের এই ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন। আমাদের এই ওয়েবসাইটে খেজুরের পাইকারি বিক্রেতারা খেজুর বিক্রিও করে থাকেন। আপনি চাইলে সেখান থেকেও কিনতে পারেন।

আজকের আলেচনা নিয়ে কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
কিভাবে শুরু করবেন ডিলারশিপ ব্যবসা
ডিলারশিপ ব্যবসা।  অনেকের মুখেই এ ধরনের ব্যবসার নাম শুনেছেন। আজ আমরা আলোচনা করব ডিলারশিপ ব্যবসা কি? কিভাবে শুরু করবেন ডিলারশিপ ব্যবসা?এই ব্যবসার নিয়ম কি? ডিলারশিপ ব্যবসা করতে কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হয়? কিভাবে ডিলারশিপ ব্যবসায় টিকে থাকবেন? চলুন শুরু করা যাক.......

কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকায় কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পন্য বিপণন  করাই হল মূলত ডিলারশিপ ব্যবসা। সহজ ভাষায় বললে কোনো কোম্পানির পন্য খুচরা অথবা পাইকারি বিক্রেতার কাছে বিক্রি করার ব্যবসাই হল ডিলারশিপ ব্যবসা। আর কেউ যদি কোনো কোম্পানির ডিলারশিপ নেয় তাহলে তাকে ঐ কোম্পানির ডিলার বলা হবে। একটি এলাকায় কোনো কোম্পানির কোনো পন্যের জন্য ডিলার সাধারণত একজনই হয়। কিন্তু একজন ব্যক্তি একাধিক কোম্পানির ডিলার হতে পারেন।
প্রথমেই উল্লেখ করে নেই এই ব্যবসায় ঝুঁকি কম এবং ব্যবসা বুঝতে পারলে লাভও তুলনামূলক বেশি। ঝুঁকি কম হওয়ার কারণটা বলছি... ধরুন আপনি গাজীপুর জেলায় কোনো এক কোম্পানির সয়াবিন তেলের ডিলার। এখন আপনি ১০০০ লিটার সয়াবিন তেল কোম্পানি থেকে এনেছেন। কিন্তু  বিক্রি করেছেন ৯০০ লিটার। অপরদিকে আপনার বাকি ১০০ লিটার তেলের মেয়াদও শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন ঐ ১০০ লিটার তেলের দায়ভার কিন্তু আপনার নয়। আপনি এগুলো কোম্পানি থেকে পুনরায় আনতে পারবেন। এ নিয়মটির ব্যতিক্রমও হতে পারে তবে সেটা চুক্তির উপর নির্ভর করবে। আপনি যদি কোনো কোম্পানির ডিলার হন তাহলে কোম্পানি আপনার কাছে  সবচেয়ে কম মূল্যে পন্য বিক্রি করতে হবে। এগুলো চুক্তি করে নিতে হয়।  সুতরাং ডিলারশিপ ব্যবসায় নামতে হলে দেখে শুনে বুঝে নামতে হবে নতুবা ব্যবসায় ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি কোনো বড় অথবা প্রসিদ্ধ কোম্পানির ডিলার হতে পারেন সেটাই ভালো হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে কোনো কোম্পানির ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে শেষে পুরো টাকাই জলে গিয়েছে। এভাবে প্রতারকদের পাতা ফাঁদে পা দিবেন না। ডিলারশিপ ব্যবসা করতে হলে আপনাকে দেখেশুনে করতে হবে। অর্থাৎ আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখেই এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন না। যাচাই-বাছাই করে নিবেন।

এবার আসি ডিলারশিপ ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন... ডিলারশিপ ব্যবসার নিয়ম কি......
কোনো কোম্পানির যখন কোনো অঞ্চলে ডিলার প্রয়োজন হয়, তারা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে। তাদের ওয়েবসাইটে, ইন্সটাগ্রাম, লিংকড-ইন, ফেসবুক পেইজে অথবা পোস্টারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। সেখানে আবেদনের নিয়ম দেয়া থাকে। কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে অনলাইনে  আবেদন করতে হয়, কোথাও সরাসরি আবার কোথাও দুভাবেই আবেদন করা যায়। আবেদনের পর কোম্পানির লোকজন আপনার আবেদন যাচাই-বাছাই করে আপনাকে ডিলার নিয়োগ দিবে। আর ডিলারশিপ ব্যবসায় কত টাকা পুঁজি প্রয়োজন হবে সেটা সুনির্দিষ্ট নয়। কোম্পানি কত বড়, তাদের সুনাম, বেচা কিনি কেমন তার উপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলো আপনার কাছ থেকে বিনিয়োগ চাইবে। ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা লাগতে পারে। ডিলার হিসেবে বিনিয়োগ করার পূর্বে কোম্পানির অফিস কারখানা সব ঘুরে আসবেন। ডিলারশিপ ব্যবসায় বিনিয়োগের পদ্ধতি প্রধানত দু ধরনের হয়ে থাকে।

১.সিকিউরিটি মানি ইনভেস্টমেন্ট।

এ টাকাটা কোম্পানি আপনার কাছ থেকে ডিপোজিট রাখবে। আর এ টাকা কিন্তু একেবারের জন্য নিয়ে নিবে না। আপনার সাথে কোম্পানির  ডিলারশিপের চুক্তি শেষ হয়ে গেলে ফেরত দিয়ে দিবে। কত টাকা সিকিউরিটি মানি ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে নিবে সেটা কোম্পানি কত বড় এবং তাদের বেচা-কেনা কি-রকম তার উপর নির্ভর করে। কোনো কোম্পানির চাহিদা ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আবার কোনো কোম্পানির চাহিদা ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকাও হতে পারে। যদি কেউ এ ব্যবসায় নতুন নামে তাহলে তার খুব বেশি টাকা ইনভেস্ট না করাই ভালো হবে। এবং প্রথমেই বেশি টাকা দিয়ে বড় কোম্পানির ডিলার না হওয়ার পরামর্শই আমরা দিব।

২. পন্যের খরচের কিছু অংশ বিনিয়োগ
অর্থাৎ আপনি যে পন্য ক্রয় করবেন তার মূল্যের একটা অংশ আপনাকে অগ্রিম বিনিয়োগ করতে হবে এবং বাকি টাকাটা পরে অর্থাৎ আপনার পন্য বিক্রির পরে পরিশোধ করতে হবে।

উপরে উল্লেখিত দুভাবেই এ ব্যবসা করা যায়। কোনো কোম্পানি প্রথম উপায়ে ডিলার নিয়োগ দেয় আবার কোনো কোম্পানি দ্বিতীয় উপায়ে।
আর ডিলারশিপ ব্যবসা মূলত চুক্তি নির্ভর। আপনি কত দিনের জন্য ডিলার সেটাও চুক্তি করে নিতে হবে। এছাড়া আরও কিছু শর্ত যেমন দাম, মেয়াদোত্তীর্ণ পন্যের বিষয়, আপনার অঞ্চলের সীমানা এই সকল বিষয় নিয়ে স্ট্যাম্প করে নিবেন। কখনও কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ পন্য ফেরত নেওয়ার সময় পুরো পরিবহন খরচ দেয় কখনও আংশিক খরচ দেয় আবার কখনও দেয়না। এসকল বিষয় নিয়ে কোম্পানির সাথে আলোচনা করে চুক্তি করে নিবেন। প্রায় সময় দেখা যায় যে চুক্তি না থাকার কারনে হঠাৎ ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যায়। এতে করে ব্যবসায়ীদেরকে বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়। সুতরাং ঠিকমতো চুক্তি করে নিবেন আর যদি বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন তাহলে কোনো আইনজীবীর সাহায্য নিবেন।

ডিলারশিপ ব্যবসা শুরু করতে আপনার একটি গোডাউন লাগবে। তারপর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ট্রেড লাইসেন্স এর দরকার হবে।

এবার আসি এস আর নিয়ে। ডিলারশিপ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি। এস আর মানে হচ্ছে সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ। অর্থাৎ বিক্রয় প্রতিনিধি। অনেক ডিলারশিপ ব্যবসায়ীরা একা পন্য বিপণন করতে পারেনা। তাদেরকে এস আর তথা বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হয় এবং এই বিক্রয় প্রতিনিধিরাই ব্যবসায়ী বা গ্রাহকদের কাছে পন্য পৌঁছে দেয়। এখন সমস্যা হচ্ছে এস আর নিয়োগ কে দিবে? কোম্পানি নাকি ডিলার? এটার সমাধান হল চুক্তি। প্রথমে কোম্পানির সাথে যে চুক্তি করেছেন সেখানে উল্লেখ করবেন যে এস আর কে নিয়োগ দিবে? যদি কোম্পানি নিয়োগ দেয়, সেটাতো ভালো। আপনাকে অতিরিক্ত ঝামেলা পোহাতে হবেনা কিন্তু ডিলারশিপ কমিশনটা একটু কম পাবেন। আর যদি আপনাকে এস আর নিয়োগ দিতে হয় সেটাও খারাপ নয়, আপনি আপনার পছন্দমত এস আর নিয়োগ দিবেন পাশাপাশি ডিলারশিপ কমিশনটা বেশি পাবেন।

তারপর আসি কোন ধরনের পন্যের ডিলারশিপ নেওয়া যায়? এবং কোন ধরনের পন্যের ডিলারশিপ নিলে লাভজনক হবে?
ইলেকট্রনিক পন্য যেমন ফ্রিজ, ফ্যান, লাইট, ইলেকট্রিক তার, আয়রন, ওয়াশিং মেশিন এসব পন্যের ডিলারশিপ নেওয়া যেতে পারে। এ ব্যবসা অনেক লাভজনক হবে যদি আপনি কোনো বড় ব্রান্ডের ডিলার হতে পারেন। খাদ্যপন্য যেমন  ব্রেড, চিপস, চানাচুর, বিভিন্ন ধরনের  চকলেট, বিস্কুট ইত্যাদি জাতীয় খাদ্যপন্যের ডিলারশিপ নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের পন্যের ডিলারশিপ ব্যবসা পুরোপুরি ব্রান্ড ভ্যালুর উপর নির্ভর নয়। বাংলাদেশের অনেক স্থানেই বড় বড় ব্রান্ডের ফুড প্রোডাক্টের চেয়ে স্থানীয় ফুড প্রোডাক্টগুলোর ব্যবসা ভালো চলে। সুতরাং এক্ষেত্রে আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। দক্ষ এস আর নিয়োগ দিতে হবে। তারপর মোটরসাইকেলের ডিলারশিপও নিতে পারেন। এটাও ডিলারশিপ ব্যবসাগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় একটি ব্যবসা। সফট ড্রিংকস এবং মিনারেল ওয়াটারের ডিলারশিপও নিতে পারেন। কৃষি পন্যের ব্যবসাও ঊর্ধমুখী। সুতরাং এখানেও ডিলারশিপ নিতে পারেন।

ডিলারশিপ ব্যবসায় আপনি কোন পর্যায়ে থাকবেন সেটা আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা, মার্কেট প্লানিং  এবং সঠিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। আর এ ব্যবসায় অভিজ্ঞতা অনেক বড় কিছু। সুতরাং লেগে থাকতে হবে এবং সুযোগ বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন। আর ডিলারশিপ ব্যবসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। কর্মীদেরকে সবসময় হাসিখুশি রেখে তাদের থেকে সর্বোচ্চ কাজ আদায় করে নেওয়া। আপনাকে আপনার অধীনস্থদেরকে চাপ না দিয়ে সুন্দরভাবে কাজ আদায় করতে হবে।
আর আপনি যদি কর্মীদের চাপ দিয়ে কাজ আদায় করেন তাহলে প্রথমদিকে লাভবান হলেও পরে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।


উপরে উল্লেখিত ব্যবসা সম্পর্কে যদি কোনো মতামত বা প্রশ্ন থাকে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ধন্যবাদ। 
বিস্তারিত
গ্রামে খুব লাভজনক একটি ব্যবসা
আজ আমরা আপনাদের সাথে খুবই  লাভজনক এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করব। আপনি খুব সহজেই এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এবং এ ব্যবসা গ্রামেই বেশি সুবিধাজনক হবে। আর এ ব্যবসাটি হল গ্রামে সোলার প্যানেলের ব্যবসা।
সোলার প্যানেল নিয়ে দুধরনের ব্যবসা আপনি করতে পারবেন। আমরা সেই দুটি ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আজকে আলোচনা করব।


সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে সৌর বিদ্যুৎ বলে। আমরা জানি সূর্যের আলো একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবেশ  দূষণ হয় না। মাসে মাসে বিদ্যুৎ বিলও দিতে হয় না। আবার এতে লোডশেডিংয়ের ঝামেলাও নেই। সৌর বিদ্যুৎ আপনার টাকা সঞ্চয় করতে পারে। প্রথমে পুরো ডিভাইস ক্রয় এবং পাঁচ থেকে সাত বছর পর পর ব্যাটারি পরিবর্তন বাবদ খরচ ছাড়া আর তেমন কোনো খরচ নেই। ৮৫ থেকে ১০০ ওয়াটের সোলার হোম সিস্টেম হলেই লাইট, ফ্যান ব্যবহার, টিভি দেখা এবং মোবাইল চার্জ অনায়াসেই দেয়া যায়। বর্তমানে শুধু  বাংলাদেশে নয় পুরো বিশ্বে সৌর বিদ্যুৎের চাহিদা বেড়েই চলছে। আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে লক্ষ্য করি সেখানকার মানুষ কিন্তু পুরোপুরি সরকারিভাবে সরবরাহকৃত  বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভর নয়। তারা নিজেদের চাহিদার প্রায় ৪০% বিদ্যুৎ নিজেদের সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদন করে এবং বাকি ৬০% বিদ্যুৎ সরকারি গ্রিড থেকে গ্রহন করে। এতে করে তাদের বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়। বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ এর চাহিদাও দিন দিন বেড়েই চলছে।
বর্তমানে শুধু বাংলাদেশেই প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮০০০০(আশি হাজার) সোলার সিস্টেম বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সোলার হোম সিস্টেম রয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ৮% মানুষ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। গ্রামে সরকারিভাবে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ বেশিরভাগ সময়েই থাকে না।

সুতরাং উপরের উল্লেখিত তথ্যসমূহ থেকে বুঝতেই পারছেন যে, সোলার প্যনেলের ব্যবসাটি খুবই লাভজনক এবং সম্ভাবনাময় একটি ব্যবসা।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সোলার প্যানেলের ব্যবসাটি গ্রামেই বেশি সুবিধাজনক যদিও বর্তমান সময়ে শহরাঞ্চলেও এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অত্যন্ত লাভজনক এ ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে সোলার প্যানেলের ইতিহাস এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে একটু পড়াশোনা করে নিতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনা নয়। গুগলে একটু ঘাটাঘাটি করলেই মোটামুটি ধারণা হয়ে যাবে।
সোলার প্যানেলের ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে জানতে হবে যে মানুষ কি উদ্দেশ্য নিয়ে সোলার প্যানেল ক্রয় করে। সাধারনত সোলার প্যানেল ক্রয়ের উদ্দেশ্য দুইটি হয়ে থাকে। প্রথমটি হল যাদের ঘরে বিদ্যুৎ নেই তারা বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ার জন্য সোলার প্যানেল ক্রয় করে থাকে। আর দ্বিতীয়টি হল, বিদ্যুৎ আছে কিন্তু বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য সোলার প্যানেল ক্রয় করে। এই দুই ধরনের মানুষদেরকেই আপনি গ্রাহক হিসেবে তৈরি করতে পারেন।
আপনি বিভিন্ন ভাবে এ লাভজনক ব্যবসাটি করতে পারেন। একটি হল আপনি পাইকারি ভাবে কয়েকটি সোলার ডিভাইস ক্রয় করে একটি ছোটোখাটো দোকান নিয়ে বিক্রি করতে পারেন। মানুষের চাহিদা এবং আপনার পছন্দমতো ভালো কয়েকটি  কোম্পানির সোলার ডিভাইস ক্রয়  করবেন। তারপর দোকানে সাজিয়ে খুচরো ভাবে বিক্রি করবেন। আপনার দোকানে শুধু সোলার ডিভাইস নয়, পাশাপাশি সোলার সিস্টেমে ব্যবহারের জন্য লাইট, ফ্যান, ব্যাটারি এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পন্যও বিক্রি করতে পারেন।আপনার দোকানে সেলার পন্য কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তার নমুনা রাখবেন। আপনি প্রথম দিকে ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা দিয়ে এ ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এ ব্যবসাটি শুরু করতে কোন ক্ষেত্রে কত টাকা লাগতে পারে তার একটি হিসাব নিচে তুলে ধরছি.....
১.চারটি ছোটো আকারের  সোলার ডিভাইস - ৯০০০০ ৳
২.দোকানের এডভান্স - ২০০০০৳
৩. ফার্নিচার বাবদ - ২০০০০৳
৪.অন্যান্য ইলেকট্রনিক পন্য ক্রয় বাবদ- ২০০০০৳
৫.সরকারি লাইসেন্স ও অন্যান্য বাবদ -৮০০০৳
অর্থাৎ আমাদের ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা হলেই গ্রামে এ লাভজনক ব্যবসাটি শুরু করতে পারব। দোকান নেওয়ার ক্ষেত্রে দেখেশুনে নিবেন। মানুষের চলাচল বেশি এমন স্থানে দোকান নিবেন। আপনার দোকানের বিজ্ঞাপন প্রচার করবেন। শুধু আপনার দোকানের বিজ্ঞাপন দিলেই হবে না, মানুষকে সোলার সিস্টেম ব্যবহারের উপকারিতাও বুঝাতে হবে। আর আপনার দোকানের গ্রাহক  বৃদ্ধির জন্য আরেকটি বুদ্ধি কাজে লাগাতে পারেন। সেটি হল আপনার দোকানে মোবাইল রিচার্জ এর ব্যবসা এবং বিকাশ, রকেট এবং নগদের ব্যবসাও চালু করতে পারেন। এটাও খুব লাভজনক একটি ব্যবসা। এতে করে আপনার কিছু অতিরিক্ত টাকা আয় হলো, পাশাপাশি আপনার বিজ্ঞাপনের কাজটিও হয়ে গেল। সোলার সিস্টেম ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে কিছু লিফলেট সংগ্রহে রাখতে পারেন। আপনাদের আশেপাশে যখন কেউ নতুন বাড়ি বা ঘর নির্মাণ করে তাদেরকে সোলার প্যানেলের উপকারিতা সম্পর্কে লিফলেট দিবেন। তাদেরকে বুঝাবেন যে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে আপনার বিদ্যুৎ বিল অনেক কমে আসবে। এতে আপনার গ্রাহক বৃদ্ধি পাবে।
সোলার প্যানেলের ব্যবসার আরেকটি ধরন হচ্ছে কোনো সোলার ডিভাইস কোম্পানির ডিলার বা এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করা। অর্থাৎ কোনো কোম্পানির হয়ে নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব করা। আপনি কোনো কোম্পানির ডিলার বা এজেন্ট হতে গেলে আপনাকে কোম্পানির সাথে কোনো চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হওয়া লাগতে পারে। সোলার ডিভাইস কোম্পানির ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি অফিসে গিয়ে আপনি ডিলারশিপের আবেদন করতে পারেন। গ্রাম অঞ্চলে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে আপনি কোনো সোলার ডিভাইস কোম্পানির ডিলার হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে এলাকায় সোলার সিস্টেমের চাহিদার উপর ভিত্তি করে আপনার আয় হবে। কারণ চাহিদা বেশি হলে বিক্রি বেশি হবে। আর আপনি নিজেই এলাকায় চাহিদা বৃদ্ধি করতে পারেন। বিজ্ঞাপন এবং সঠিক উপায়ে মানুষকে সোলার সিস্টেম ব্যবহারে উৎসাহিত করলে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। এ ক্ষেত্রে আপনি মাসে ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন।

সোলার পন্যের ব্যবসা বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের জন্য দারুণ একটি ব্যবসার আইডিয়া। কারন উত্তরবঙ্গে সৌরবিদ্যুত এর চাহিদা বেশি।
এবার আসি সোলার সিস্টেমের উপর নির্ভর করে আরও এক ধরনের ব্যবসায়। এটি গ্রামে খুব লাভজনক একটি ব্যবসার আইডিয়া। শুধু তাই নয় এটা নতুন এক ধরনের ব্যবসার আইডিয়াও বটে।
এই ব্যবসার আইডিয়া বলার আগে কিছু তথ্য তুলে ধরছি..
যে সকল বাড়িতে সোলার সিস্টেম আছে তাদের উৎপাদিত বিদ্যুৎ এর বড় একটি অংশ আব্যবহৃত থেকে যায়। কারও মতে এ অব্যবহৃত বিদ্যুৎ  এর পরিমান ঐ সিস্টেমের মোট উৎপাদিত বিদ্যুৎ এর ৩০%। সোলার প্যানেলে উৎপাদিত ব্যাটারির স্টোরেজে জমা হয়। কিন্তু ব্যাটারির স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে সোলার প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আর জমা হয় না। আর এ অব্যবহৃত বিদ্যুৎ এর অপচয় বন্ধ করে তা থেকে অপরের বিদ্যুৎ এর চাহিদা পূরণ করেও টাকা আয় করা যায়। কিভাবে তা বলছি...
সোলবক্স ডিভাইস নামক একটি ডিভাইস রয়েছে। এই ডিভাইস দ্বারা আপনার সোলার প্যানেলের ব্যাটারির স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে গেলে এরপর প্যানেলের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ছোটোখাটো একটি গ্রিডে যুক্ত হবে। এখানকার বিদ্যুৎ যাদের সোলার প্যানেল নেই তারাও ভোগ করতে পারবে। আপনার যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারনে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়, আপনিও সেখান থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি সোলবক্স ডিভাইস ব্যবহার করে এ ব্যবসা করতে পারেন। এক্ষেত্রে যাদের থেকে বিদ্যুৎ নিবেন তাদেরকে আপনি তাদের বিদ্যুৎ বিক্রয় করে যে অর্থ পাবেন তার একটি অংশ দিবেন। এতে সকলেরই আয় হবে এবং আগ্রহ বাড়বে। বর্তমানে সোলশেয়ার নামক একটি প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসা করে ভালো নাম কুড়িয়েছে।

সবশেষে বলব যে ব্যবসায় উন্নতি পেতে চাইলে মানের দিকে খেয়াল রাখবেন। সোলার ডিভাইস বিক্রি করলে খারাপ মানের ডিভাইস গ্রাহকদেরকে বুঝিয়ে দিবেন না। আপনি যদি সবসময় ভালো মানের পন্য বা সেবা দিতে পারেন তাহলে সর্বশেষে আপনিই বাজারে টিকে থাকতে পারবেন। যদিও এতে দাম একটু বেশি পড়বে। আর এ সম্ভাবনাময় ব্যবসাটি শুধু গ্রামে নয় শহরেও খুব জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

আজকের আলোচনা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।
ধন্যবাদ।
বিস্তারিত
৫ লাখ টাকায় শুরু করুন মবিলের আমদানি ব্যবসা
আজকের ব্যবসার আইডিয়া টি একদম বাস্তব ও লাভজনক ৷ মাত্র ৫ লাখ টাকা ইনভেষ্ট করে আপনি ১ লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন ৷ বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে ৷ 

বর্তমানে লুব্রিকেন্ট হলো একটি নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু ৷ দিন যত গড়াচ্চে এটার চাহিদা তত পরিমানে বাড়তেছে ৷ অধিকাংশ যানবাহনেই এই লুব্রিকেন্ট বা মবিলের প্রয়োজন হয় ৷ এটা কোন পচনশীল দ্রব্যও না ৷ দিন দিন এটার দাম বৃদ্ধি হয় কিন্তু কমে না ৷  আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না এই মোবিল কি দামে আমদানী করে কত দামে বিক্রি করা হয় ৷ বর্তমানে এটি খুবই একটি লাভজনক ব্যবসা ৷  কিন্তু এটি যেহেতু জ্বালানি তৈল সেহেতু এই পন্য আমদানী করতে সরকারী বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হয় ৷ এই লাইসেন্স খুবই দুর্বল আর প্রচুর ব্যায় সাধ্য ব্যাপার ৷ 

কিভাবে শুরু করবেন এই ব্যবসা ?
যেহেতু আমদানী করতে সরকারী বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হয়, আপনাকে প্রথমেই কোন আমদানীকারকের সাহায্য নিতে হবে যাদের অলরেডি এই লাইসেন্স আছে ৷ কিন্তু এজন্য লাইসেন্সের মালিক কে প্রতি লিটরে কিছু কমিশন প্রদান করতে হবে ৷ 
তবে আজকে আমি আপনাদের জন্য একজন আমদানীকারককে উপস্থাপন করবো যিনি আপনাদের থেকে কোন লাইসেন্স ফি নিবেন না ৷ আপনি পন্যের দুবাইতে ক্রয় মুল্য  সমপরিমান টাকা, ট্যাক্স, ভাড়া প্রদান করলেই পন্য পেয়ে যাবেন ৷ সরাসরি আমদানী মূল্যে ৷ মিনিমাম ৫ লাখ টাকার লুব্রিকেন্ট আমদানী করতে হবে ৷ আখি ট্রেডিং, মতিঝিল, ঢাকা ৷ ২০ বছরের ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে আব্দুল ওহাব ভাই তরুনদের সাহায্য করতে চলে এসেছেন ৷ আমার খুবই কাছের মানুষ এবং একজন চরম সৎ, নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ী ৷   

কত টাকা ইনভেষ্ট করতে হবে ?
৫ লাখ টাকা মনিনাম ইনভেষ্ট করতে হবে ৷ এই টাকায় আপনি লুব্রিকেন্ট, গ্রিজ, গিয়ার ওয়েল ইত্যাদি পাবেন ৷ তবে সবকিছু নির্দিষ্ট ব্রান্ডে হবে ৷ কেউ যদি নিজস্ব ব্রান্ডে পন্য নিতে চান তবে নূন্যতম ২০ ফিট হাফ কন্টেইনার আমদানী করতে হবে ৷ তার মানে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা ৷ 

বিক্রি করবে কে ? 
আপনার পন্য আপানকেই বিক্রি করতে হবে ৷ আপনার যদি নিজস্ব দোকান থাকে তাহলে এটা সবচেয়ে ভালো ৷ আর যদি নিজস্ব দোকান না থাকে তবে আখি ট্রেডিং এর পক্ষ থেকে পন্য বিক্রির সকল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ৷ ভিডিওর শেষে আমি তাদের মোবাইল নম্বর দিয়ে দিবো ঐ মোবাইলে যোগাযোগ করলেই বিস্তারিত বলে দিবে ৷ 

পন্য যদি সেল না হয় ? 
দেখুন মার্কেটিং এ একটা কথা আছে, না বলতে কোন শব্দ নেই ৷ সেল হবেনা কেন ? এই পন্য নিয়ে আব্দুল ওহাব ভাই কোটি টাকার ব্যবসা করতেছেন ৷ আপনি পারবেন না কেন ? আপনাকে পারতে হবে ৷ একদিন নিজের ব্রান্ডের পন্য বাজারে বিক্রি করবেন সে লক্ষে মার্কেটিং শুরু করুন, ইনশাআল্লাহ্ সফল হবেন ৷ আপনার ব্যবসাকে সফল না হওয়া পর্যন্ত আখি ট্রেডিং আপনাকে সর্বত্নকভাবে সাহায্য করে যাবে ৷ 

লাভ কেমন হবে ? 
আমদানী পন্যে লাভ ২০%+- এর মত হয় ৷ ধরুন আপনি ৫ লাখ টাকার পন্য ৫ মাসে সেল করলেন ৷ তাহলেও কিন্তু প্রতি মাসে ২০০০০ লাভ করতে পারবেন ৷ যদি ১০ মাসে সেল করেন তাহলেও প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ৷ 

সবাই যদি আমদানী করে সেল করবো কোথায়?
অনেকেই এই প্রশ্ন করবেন ৷ এজন্যে আব্দুল ওহাব ভাই প্রতি জেলাতে ১ জন করে আমদানীকারক দিবেন ৷ ডজন ডজন আমদানীকারক দিবেন না ৷ সৌভাগ্যবান এক জন উদ্যোক্তাই পাবেন এই সুযোগ ৷

আব্দুল ওহাব ভাইয়ের মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭০৮-৮৯৯৫০১
বিস্তারিত
alibaba & Import Export expert

আমদানি,রপ্তানি,আলিবাবা নিয়ে যেকোনো সমস্যায় আমাকে ফেসবুকে মেসেজ করুন।

এখানে ক্লিক করুন
2017 © 2021 eibbuy. All Rights Reserved.
Developed By Takwasoft