Friday, September 14, 2018

বাংলাদেশ হতে আলিবাবা থেকে পণ্য কেনার নিয়ম




Top 6 best keyboards for android
Top 6 best keyboards for android

বাংলাদেশ হতে আলিবাবা থেকে পণ্য কেনার নিয়ম নিয়ে অনলাইনে প্রচুর পোষ্ট রয়েছে। অনেকেই লেখেন আলিবাবা থেকে পণ্য কেনার নিয়ম নিয়ে।
কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কোন পোষ্ট কেউ দেয় নাই। আজকে আমি আলিবাবা থেকে পণ্য কেনার নিয়ম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ  পোষ্ট দেয়ার চেষ্টা করবো।
প্রথমেই বলে নেই আলিবাবা হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় বি টু বি সাইট। এখান থেকে আপনি যেকোনো পণ্য পাইকারি দরে ক্রয় করতে পারবেন। এখানে কেবল চায়না
কোম্পানি না, সারা বিশ্বের হাজার হাজার সেলার তাদের পণ্য বিক্রি কর থাকেন আলিবাবতে। এমনকি বাংলাদেশ থেকেও প্রচুর রপ্তানিকারক আছে যারা আলিবাবা ডট কমে
পণ্য বিক্রি করে থাকেন।

আলিবাবা থেকে পণ্য কেনার নিয়ম কয়েকটি ধাপে বর্ণনা করবো।

প্রথম ধাপ (এ্যাকাউন্ট খোলা)
আলিবাবাতে এ্যাকাউন্ট খোলা। আলিবাবাতে এ্যাকাউন্ট খোলা খুবই সহজ প্রক্রিয়া। আলিবাবার এ্যাকাউন্ট দুই ধরনের হয় ৷ একটি হলো সেলার এ্যাকাউন্ট ৷ আরেকটি হলো বায়ার এ্যাকাউন্ট ৷
সেলার হলো তাদের এ্যাকাউন্ট, যারা আলিবাবাতে পণ্য বিক্রয় করবেন ৷ আর বায়ার এ্যাকাউন্ট হলো আমরা যারা আলিবাবা থেকে পণ্য ক্রয় করবেন ৷ তবে আলিবাবাতে একটি এ্যাকাউন্ট দিয়ে বায়ার
সেলার দুটোই হতে পারবেন ৷ আলিবাবাতে এ্যাকাউন্ট করতে প্রথমে এখান থেকে ক্লিক করুন ৷ এবার আপনার ভ্যালিড ইমেইল দিয়ে alibaba.com এ একটি এ্যাকাউন্ট করুন খুব সহজেই ৷
আপনি আপনার ইমেইল দিয়ে দিন। এবার তারা আপনাকে একটি ভেরিফিকেসন কোড পাঠাবে। ইমেইল থেকে সেন্ড লিঙ্ক এ ক্লিক করে ভেরিফিকেসন কোড দিয়ে আকাউন্ট কনফার্ম করুন।
এখানে আপনি বায়ার হলে খুব বেশী তথ্য দিতে হবেনা।  তবে আপনি যদি সেলার হোন তবে অনেক কিছু দিতে হবে। আপনার যথা সম্ভব তথ্য দিয়ে ফর্ম টি পূরণ করে এ্যাকাউন্ট খোলার কাজটি
শেষ করুন।

কিন্তু আপনি আলিবাবাতে এ্যাকাউন্ট না খুলেও আপনি পন্য ক্রয় করতে পারবেন ৷ তবে যোগাযোগ প্রক্রিয়া নির্ভরযোগ্য করতে alibaba.com এ এ্যাকাউন্ট করতে হয় ৷ কারণ সেলার আপনাকে
পুনরায় খুজে পেতে পারবে। অন্যথায় আপনার অর্ডার হারিয়ে ফেলতে পারে। এ্যাকাউন্ট খোলা হলে এক ধরণের ম্যাসেজ করার সফটওয়্যার দেয়া হবে আপনাকে। যাতে করে আপনি সেলারের সাথে
সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন । আবার অনেক সময় আপনি তাদের ইনকুয়ারি দিতে গেলে আপানকে এ্যাকাউন্ট খোলতে বলবে। সেজন্য আগেই এ্যাকাউন্ট খুলে নিলে ভালো হবে।  যেহেতু আপনি বায়ার, সেহেতু তেমন কোন তথ্য দেবার প্রয়জনীয়তা নেই ৷ মন চাইলে দিবেন না হয় দিবেননা ৷
তবে আপনি যদি সকল তথ্য দিয়ে আকাউন্ট খুলেন তাহলে আপনার ইমেইল সেলারের কাছে ভালো গ্রহন যোগ্যতা পাবে।

দ্বিতীয় ধাপ (পন্য খুজে বের করা)  


এ্যাকাউন্ট খুলা শেষ হলে  alibaba.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি alibaba.com থেকে খুজে বের করা।
প্রথমে  আপনি  alibaba.com ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনার কাঙ্ক্ষিত পণ্যটির নাম সার্সবারে গিয়ে লিখুন ৷ আপনি যে পন্য চাইবেন সেটাই লেখতে পারেন ৷
তবে পণ্যের নামটি অবশ্যই ইংরেজিতে লেখতে হবে।  যেমন কলম কিনতে চাইলে pen লেখে সার্স করলে দেখবেন কয়েক শ , কলম সেলারের ঠিকানা চলে আসবে ৷

তৃতীয় ধাপ (সেলার নির্বাচন করতে কোন কোন বিষয় গুলি মাথায় রাখতে হবে?)
সেলার নির্বাচন করতে অবশ্যই চেষ্টা করবেন গোল্ড সাপ্লায়ার সেলার নির্বাচন করতে  ৷ কারণ গোল্ড সাপ্লায়ার সেলার হলো, alibaba.com এর এক বিশেষ ধরণের ভেরিফিকেসন ব্যবস্থা ।
প্রত্যেক সেলারকে গোল্ড সাপ্লায়ার সেলার হতে হলে মিনিমাম ১২০০ ডলার বাৎসরিক ফি দিতে হয়।  alibaba.com এর এক বিশেষ টিম এসে সেলারের অফিস ভিজিট করে তাদের সেলিং
সিস্টেম ভিজিট করে ভেরিফিকেসন করে। সুতরাং গোল্ড সাপ্লায়ার সেলার থেকে পণ্য আমদানি করা অনেক বেশী নিরাপদ।

চেষ্টা করবেন 5 Years gold suppliers চিহ্ন আছে এরকম কাউকে বেছে নেবার জন্য । তবে আপনি চাইলে তার কমও 3 Years gold suppliers নিতে পারেন ৷
কিন্তু সাবধানে কাজ করবেন ৷

পণ্যের দাম কি FOB নাকি CFR এটা ভালো করে দেখে নিবেন । অনেকেই হয়তো জানেননা FOB বা CFR কি বিষয়। সহজ ভাষায় FOB হলো সেলার আপনাকে পণ্য কেবল তার দেশের
পোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিবে। ট্রান্সপোর্ট ফি আপনাকে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু যদি দামের জাগায় CFR লেখা থাকে তবে বুজবেন সেলার আপনাকে পণ্য আপনার দেশের পোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিবে।
ট্রান্সপোর্ট ফি  তারা পরিশোধ করে দিবে।

এবারের কাজ হলো Country of origin লেখাটা ভালো করে দেখে নিবেন। অর্থাৎ পণ্যটি কোথায় উৎপাদিত এটা দেখে নেয়া জরুরী। না হয় এমন ও হতে পারে আপনি জাপানের পণ্য অর্ডার করে
চায়না পণ্য ও পেতে পারেন। ৷ আবার চায়না পন্য, তাইওয়ান বলেও চালিয়ে দিতে পারে ৷ অনেক সময় তারা এক দেশের সেলার আরেক দেশের পণ্য সেল করে ।
এটা করা যায় । কিন্তু আপনি চেষ্টা করবেন যে দেশের পণ্য সে দেশের সেলার থেকে ক্রয় করতে ।

সর্বশেষ দেখবেন সেলার কি পণ্য নিজে উৎপাদন করে নাকি সোর্সি করে । যদি তারা পন্য নিজেরা উৎপাদন না করে তবে তারা দাম বেশী চাইবে ।  কারন তারা Middle man  হিসাবে কাজ করে ।
আর যদি তারা নিজেরা সরাসরি উৎপাদন করে তবে তারা অন্যদের চেয়ে কম দামে দিতে পারবে ।

চতুর্থ ধাপ (সেলারের সাথে যোগাযোগ করা)  

যাহোক পন্য সিলেক্ট করলেই দেখবেন, পাশে Contact Seller বা Get latest price নামে সেলার কে মেসেজ বা ইমেইল করার বাটন আছে৷  বাটনে ক্লিক করলেই সেলারকে
মেসেজ করার একটা অপশন চলে আসবে।  মেসেজে আপনার কি পণ্য, কি পরিমাণ লাগবে সেটা বিস্তারিত বলুন। সাথে আপনার পারসোনাল ইমেইল আইডিটা দিয়ে দিবেন৷ যাতে তারা
পরবরতিতে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে । তবে যা কিছু লেখবেন অবশ্যই সেটা English এ হতে হবে ।
না হয় তারা বুঝবেনা । তবে এই মেসেজ লেখতে আপনাকে ইংরেজিতে এক্সপার্ট হওয়া লাগবেনা ৷ স্বাভাবিক ভাবে লেখলেই চলবে ৷

মেসেজে আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করবেন কোন পন্য কত দামে তারা বিক্রয় করে । তবে তারা অনলাইনে যে দাম প্রদান করে তা অধিকাংশ সময়ই সঠিক থাকেনা। তাই অনলাইনে কম দাম দেখে এত
বেসি উৎসাহি হবেননা । এবার হলো অপেক্ষা করার পালা ৷ দেখবেন কিছু দিন পর তারা ইমেইলে আপনাকে রিপ্লাই দিবে ৷ অথবা আলিবাবাতে এ্যাকাউন্ট থাকলে ইনবক্স চেক করতে পারেন ৷
দাম দর ঠিক করুন ৷ আর পেমেন্ট করা, এলসি করা , শিপিং সিস্টেম ইত্যাদি ঠিক করুন ৷

পঞ্চম পর্ব (সাম্পাল আমদানি করা)
এই স্যাম্পল অধিকাংশ সময় ফ্রি দিয়ে থাকে। তবে দামি কোন পণ্য হলে ওরা আপনাকে ফ্রি দিবেনা। যদি ফ্রি না দেয় তবে আপানকে
পণ্যের মূল্য তারা যে ভাবে চায় সেভাবে পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি তাদের ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন এর মদ্দমে পরিশোধ করতে পারেন অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও পরিশোধ করতে
পারেন। কিন্তু আপনার এই কার্ড অবশ্যই দুই কারেন্সির সাপোর্ট করতে হবে।
এবার আপনাকে শিপিং চার্জ পরিশোধ করতে হবে। এটা একটু জটিল। কারণ সাধারণত সেলাররা DHL,FEDEX,TNT ইত্যাদি
কুরিয়ার আপনার সাম্পাল পাঠাবে। যাদের এসব কুরিয়ার  সার্ভিসে আকাউন্ট আছে তাদেরকে পণ্য ওরা পাঠিয়ে দিবে। আপনি
বাংলাদেশে পেমেন্ট করে পণ্য নিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু আপনার যদি  DHL,FEDEX,TNT তে আকাউন্ট না থাকে তবে স্যাম্পল এর জন্য আপানকে আগেই সেলারকে কুরিয়ার চার্জ পরিশোধ করতে হবে।
এবার আপনাকে কুরিয়ার থেকে ফোন করে জানানো হবে আপনার পণ্য চলে আসেছে । দুই ভাবে আপনি পণ্যটি পেতে পারেন।
কুরিয়ার কোম্পানি আপনার কাছে পৌঁছে দিবে অথবা আপনাকে পণ্যের সকল কাগজ পত্র দিয়ে যাবে, আপনি ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে সি এন্ড এফ  দিয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নিতে পারবেন।
কত  খরচ লাগবে পারে ?
সাধারণত  DHL,FEDEX,TNT একটা নরমাল পণ্য কুরিয়ার নিয়ে আসতে ২০০০ টাকা নিয়ে থাকে। ১ গ্রাম থেকে ১০০০ গ্রাম।
কাস্টমস এর ট্যাক্স বিভিন্ন রকম হতে পারে। ৩০০০ টাকা নরমাল খরচ হবে। তাহলে সব মিলিয়ে ৪০০০ টাকা চলে আসলো।

সাম্পাল ঠিক হয়ে গেলে এবার এলসি করে পণ্য আনার ব্যবস্থা করতে হবে। কিভাবে এলসি করতে হবে তা নিয়ে পোষ্ট দেয়া আছে। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে পারবেন।

1 comment: